Main Menu

জৈন্তাপুরে উচ্ছেদ অভিযানে ১২টি ঘরে অগ্নিসংযোগ

মো. রেজওয়ান করিম সাব্বির, জৈন্তাপুর (সিলেট) প্রতিনিধি: সিলেটের জৈন্তাপুরে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও থানা পুলিশের উপস্থিতিতে ১২টি ঘরে অগ্নিসংযোগ ও ফসল হানি করে উচ্ছেদ অভিযান চালানোর অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় প্রায় কোটি টাকার ক্ষতির মুখে সর্বস্বান্ত হয়েছেন ভূমিহীন ৪২টি পরিবার। সোমবার (৪ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে জৈন্তাপুর উপজেলার বাউরিটিলায় এ ঘটনা ঘটে।

ভুক্তভোগীরা জানান, ভূমি বন্দোবস্তের জন্য জেলা প্রশাসক বরাবরে কয়েক দফা লিখিত আবেদন করেছেন তারা। এছাড়া পূর্বে বাগান কর্তৃপক্ষের দায়ের করা জি.আর ২৭/২০১৬, এবং জি.আর ৩৯/১৫ দুটি মামলায় আদালত ভূমিহীন পরিবারের পক্ষে রায় প্রদান করে। তারপরেও সম্প্রতি তাদের হয়রানি করতে উপজেলা প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগ করে বাগান কর্তৃপক্ষ। অভিযোগটির তদন্ত ছাড়াই উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মুনতাসির হাসান পলাশ ও জৈন্তাপুর মডেল থানা পুলিশের উপস্থিতিতে ১২টি ঘরে অগ্নিসংযোগ করে বাগান কর্তৃপক্ষ।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, কোন প্রকার বন্দোবস্ত কিংবা সরকারের নিকট হতে কোন অনুমতিপত্র ছাড়াই বার বার ভূমিহীন পরিবারগুলোকে উচ্ছেদের জন্য চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে এম আহমদ টি এন্ড ল্যান্ডস কর্তৃপক্ষ।

এ বিষয়ে সহকারী কমিশনার (ভূমি) মুনতাসির হাসান পলাশ অগ্নিসংযোগের ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন- ‘এগুলো বসতঘর ছিল না, অস্থায়ী টং ছিল। আমরা নিয়ম মেনেই উচ্ছেদ অভিযানে যাই। উচ্ছেদ অভিযান চলাকালীন কিছু বুঝে ওঠার আগেই বাগানের লোকজন ঘরগুলোতে অগ্নি সংযোগ করে এবং ফসলাদি কেটে ধ্বংস করে। আমরা বাধা দিলেও তাদের আটকাতে পারিনি।’

তবে এলাকাবাসীর অভিযোগ প্রশাসন এবং পুলিশের উপস্থিতিতে এ ঘটনার সময় তারা নিরব দর্শকের ভূমিকা পালন করেছেন।

এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়- স্বাধীনতার আগে থেকেই জৈন্তাপুর উপজেলার চারিকাঠা ইউনিয়নের কামরাঙ্গীখেল দক্ষিন, নয়াখেল উত্তর ও পূর্ব, ভিত্তিখেল উত্তর এর ভুমিহীন ৪২টি পরিবারের বাসিন্দারা জৈন্তাপুর উপজেলার দক্ষিণ কামরাঙ্গীখেল এলাকার ২৩.১৯ একর ভুমি ভোগ দখল করে আসছে। দখলীয় ভূমি বন্দোবস্ত পাওয়ার জন্য বেশ কয়েকবার সরকারের কাছে আবেদনও করেছেন তারা।

এদিকে এম আহমদ টি এন্ড ল্যান্ড কোম্পানী এই ভূমি বন্দোবস্ত না নিয়েই জোরপূর্বক ভূমিহীনদের উচ্ছেদ করতে নানা অপচেষ্টা চালায়। ২০১৬ সালের ২৪শে ডিসেম্বর প্রশাসনের উদ্বর্তন কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে ভূমির ভূল ব্যাখ্যা উপস্থাপন করে একই কায়দায় উচ্ছেদের নামে তাদের ফসল, বসতভিটার ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি করে। সে সময়ও ব্যাপক ক্ষয় ক্ষতির মুখে পড়ে বাউরী টিলার বাসিন্দারা। সেই ক্ষতি কাটিয়ে ওঠার আগেই একই কায়দায় সোমবার দুপুরে বসতভিটা এবং জমির ফসলে অগ্নিসংযোগ করে প্রায় কোটি টাকার ক্ষতিসাধন করেছে বলে অভিযোগ বাসিন্দাদের।

Share





Related News

Comments are Closed