Main Menu

জাবিতে ছিনতাইয়ের ঘটনায় আবারও তারা জড়িত

জাবি প্রতিনিধি: জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাপ্তাহিক কোর্স আইবিএ- এর শিক্ষার্থী জাহেদুর রহমান অর্ণব ও তার বান্ধবী সাভার বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের শিক্ষার্থী রোকাইয়া হামিদ সেতু বিশ্ববিদ্যালয়ের বোটানিক্যাল গার্ডেন- এর ভিতর ঘুরতে গিয়ে মারধর ও ছিনতাইয়ের শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন। এ ঘটনায় রবিবার দুপুর দুইটার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের বোটানিকাল গার্ডেন এলাকা থেকে জাবির পাঁচ শিক্ষার্থীকে আটক করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এদিকে জাহেদুর রহমান বিচার চেয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

সম্প্রতি ছিনতাইয়ের ঘটনায় বাঁধা দেয়ায় এক সাংবাদিক ও ছাত্রীকে মারধরে জড়িত ছিল আটককৃতদের মধ্যে তিনজন। কিন্তু সে ঘটনায় বহিস্কার নিয়ে টালবাহানা করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। জানা যায়, গত সাত নভেম্বর অনুষ্ঠিত সিন্ডিকেটে চার শিক্ষার্থীকে সাময়িক বহিস্কারের সুপারিশ করা হয়েছে। কিন্তু এখনো পর্যন্ত প্রজ্ঞাপন জারি করেনি প্রশাসন। এরই মধ্যে আবারও ছিনতাইয়ের ঘটনায় তারা আটক হয়েছেন। বিচারহীনতার সংস্কৃতি চালু হওয়ায় বারবার এমন ঘটনা ঘটছে বলে মনে করছেন শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা।

আটককৃতরা হলেন- বিশ্ববিদ্যালয়ের লোক প্রশাসন বিভাগের মো. সোহেল রানা, মো. মোস্তাফিজুর রহমান, ইয়া-রাফিউ-শিকদার, বাংলা বিভাগের মো. সজিব কাজী ও আসিফ আহমেদ। তারা সবাই বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪৭তম আবর্তনের শিক্ষর্থী। তারা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি জুয়েল রানার অনুসারী বলে জানা গেছে।

অন্যদিকে সাংবাদিক মাহমুদুল হক সোহাগ ও তার বান্ধবীকে মারধরের ঘটনায় চারজনকে সাময়িক বহিস্কার করলে শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি জুয়েল রানার চাপে তাদের বহিস্কারাদেশ স্থগিত করে বলে জানায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
তবে আটককৃতরা ছাত্রলীগের কেউ না জানিয়ে জুয়েল রানা বলেন, “ছিনতাইয়ের সময় আমি নিজে তাঁদেরকে ধরে প্রক্টরিয়াল বডির হাতে তুলে দিয়েছি। তাঁরা কোনভাবে ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকলে বহিষ্কারের ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আর আগের ঘটনার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমি বহিস্কার স্থগিত করতে চাপ দেইনি। মূল হোতাকে বাদ দিয়ে যাতে বহিস্কার না করা হয় সে বিষয়ে জোর দিয়েছি।’

অভিযোগপত্র সূত্রে জানা যায়, গতকাল রবিবার অভিযোগকারী ও তার বান্ধবী ক্যাম্পাসে ঘুরতে আসে। দুপুর দুইটার দিকে তারা বোটানিকাল গার্ডেনের দিকে গেলে অভিযুক্ত শিক্ষার্থীরা তাদের আটক করে। পরে অভিযুক্ত শিক্ষার্থীরা তাদের দুজনকে বোটানিকাল গার্ডেনের ভিতরে নিয়ে যায়। এক পর্যায়ে জাহেদুলের কাছে ২৫ হাজার টাকা দাবি করে তাঁরা। জাহেদুল এতে অস্বীকৃতি জানালে তাঁকে বেধড়ক মারধর করা হয়। এরপর জাহেদুলের বান্ধবীর কানের দুল ও মানিব্যাগ থেকে নগদ কিছু টাকা ছিনিয়ে নেয় তাঁরা।

এদিকে আটককৃতদের দাবি, আমরা ভিতরে ঘুরতেছিলাম। তখন জাহেদুল ও তাঁর বান্ধবীকে আপত্তিকর অবস্থায় দেখি। আমরা কাছে গিয়ে তাদের পরিচয় জিজ্ঞাসা করলে তারা প্রথমে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী পরিচয় দেয়। পরে বিভাগ, ব্যাচ ও হলের নাম জানতে চাইলে জাহেদুর উত্তর না দিয়ে দৌড় দিয়ে পালিয়ে যায়। তবে ছিনতাইয়ের কথা অস্বীকার করেন তারা।

এবিষয়ে সোমবার জরুরী ডিসিপ্লিনারি বোর্ডের সভা আহ্বান করা হয়েছে বলে প্রক্টর সিকদার মো. জুলকারনাইন জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, “আটককৃতরা ছিনতাইয়ের সঙ্গে জড়িত ছিলো বলে প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে। তাঁদেরকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে তাঁরা নোটিশের জবাবও দিয়েছে। তদন্তের প্রাথমিক প্রতিবেদন তৈরির প্রক্রিয়া চলছে। সোমবার ডিসিপ্লিনারি বোর্ডের জরুরি সভা আহ্বান করা হয়েছে। বোর্ডের সিদ্ধান্ত মোতাবেক শাস্তির ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Share





Related News

Comments are Closed