Main Menu

হারানো গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে মানুষকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে: ড.কামাল

বৈশাখী নিউজ ২৪ ডটকম: জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের প্রধান নেতা ও গণফোরামের সভাপতি ড. কামাল হোসেন বলেছেন হারানো গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে মানুষকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। সংবিধানের ৭নং অনুচ্ছেদে সুস্পষ্ট ভাবে লিখা রয়েছে জনগণই দেশের মালিক। কিন্তু বর্তমানে সেই জনগণ আর এখন দেশের মালিক নেই। এই অধিকার আমাদের আদায় করে নিতে হবে।

বুধবার (২৪ অক্টোবর) বিকেলে সিলেটের রেজিস্ট্রি মাঠে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, আপনারা আমাদের ৭টি দাবীর কথা জেনে নিয়েছেন। আমাদের ১ নম্বর দাবি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন। এর সাথে আরো ৬টি দাবি রয়েছে। এসব দাবির কথা প্রতিটি থানায় ও উপজেলায় ছড়িয়ে দিতে হবে।

গণফোরামের সভাপতি ড. কামাল হোসেন আরো বলেছেন, ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের মাধ্যমে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার করতে হবে। জনগণের মালিকানা প্রতিষ্ঠিত করতে হবে।

এর আগে দুপুর ১.৫৫ মিনিটে সিলেট নগরীর রেজিস্ট্রি মাঠে বিএনপি কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও সিলেট সিটি করপোরেশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীর সভাপতিত্বে ও ঐক্যফ্রন্টের সিলেট কর্মসূচির সমন্বয়ক ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আলী আহমদ এর পরিচালনায় সিলেট নগরীর রেজিস্ট্রি মাঠে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সমাবেশটি শুরু হয়।

সকাল থেকেই ঐক্যফ্রন্টের সমাবেশে যোগ দিতে সিলেটের বিভিন্ন স্থান থেকে খন্ড খন্ড মিছিল সহকারে বিএনপি ও তার অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা জড়ো হতে থাকেন।

দুপুর হতেই সমাবেশ স্থলে আমান উল্লাহ আমান, জয়নাল আবেদিন ফারুক, মোহাম্মদ শাহজাহান, খন্দকার মুক্তাদির, জেলা বিএনপির সভাপতি আবুল কাহের শামিমসহ কেন্দ্রীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতারা হাজির হন।

সমাবেশে প্রধান বক্তার বক্তব্যে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘সিলেটবাসী অনেক ইতিহাসের জন্ম দিয়েছেন। আজ আরেকটি ইতিহাসের জন্ম দিচ্ছেন। এই ইতিহাস হচ্ছে গণতন্ত্র মুক্তির ইতিহাস।’

তিনি বলেন, ‘আজ থেকে নতুন লড়াইয়ের শুরু হলো। খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে হবে। ফিরিয়ে আনতে হবে আমাদের অধিকার। গণতন্ত্রকে মুক্ত করতে হবে। সরকারকে পরিষ্কার করে বলতে চাই, তফসিল ঘোষণার আগে পদত্যাগ করুন। নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন দিন। ইভিএম দেয়া চলবে না। ডিজিটাল চুরি করতে দেয়া হবে না। নির্বাচনে সেনাবাহিনী মোতায়েন করতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘সিলেটের মানুষ সকল বাধা বিপত্তি উপেক্ষা করে সমাবেশে ছুটে এসেছে।’

তার আহবানে হাত তুলে সবাই আন্দোলনে শরিক হওয়ার কথা জানান।

নাগরিক ঐক্যের আহবায়ক ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট নেতা মাহমুদুর রহমান মান্না বলেছেন, ‘সরকার চোরের মতো, ডাকাতের মতো ভোট ডাকাতি করছে। সিলেটের মানুষ সাহস দিয়ে, বুদ্ধি দিয়ে, মেধা দিয়ে আরিফুল হক চৌধুরীকে বিজয়ী করেছে। আজ আমাদের শপথ নেয়ার সময়, সিদ্ধান্ত নেয়ার সময়। ভোট যদি হয়, আমরা জিততে পারবো?’

‘খালেদা জিয়ার সাথে ডাক্তারও দেখা করতে পারে না’ বলে অভিযোগ করেন মাহমুদুর রহমান মান্না।

সমাবেশে সাবেক ডাকসু ভিপি মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, ‘বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া এখন জেলে। তিনি নানা রোগে আক্রান্ত। ৭৩ বছর বয়সে তাঁর জেল খাটার কথা না। দেশে কোটি কোটি টাকা লুটপাট হয়েছে। বিচার হয়নি। আমরা সবাই বলছি, তাঁর (খালেদা) মুক্তি চাই। আমরা শপথ নেই, কিভাবে বেগম জিয়াকে মুক্ত করে আনতে পারি।’

এ সময় নেতাকর্মীরা ‘হ্যাঁ’ বলে জবাব দেয়।

মান্না আরো বলেন, ‘নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগেই আমাদের সাথে কথা বলুন। সিলেটের জনসভা সারাদেশে মানুষের জন্য একটি সিগন্যাল। আমরা বাঁচার অধিকার চাই, সুন্দর দেশের অধিকার চাই। সারাদেশের মানুষ একদিকে, অন্যদিকে শেখ হাসিনার সরকার একা থাকবে। আমরা লড়াই করবো।’

জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের অন্যতম নেতা এবং এ জোটের সিলেট সমাবেশের সমন্বয়ক সুলতান মোহাম্মদ মনসুর আহমেদ বলেছেন, ‘ইলিয়াস আলী একসময় ছাত্রলীগের রাজনীতি করতেন। এমসি কলেজে থাকা কালে তিনি আমার অধীনে রাজনীতি করতেন। পরে তিনি ঢাকায় গিয়ে ছাত্রদলে যোগ দেন।’ এসময় তিনি সিলেটের মানুষ নানারমকম গণআন্দোলনে বিশেষ ভূমিকা রাখেন বলেও উল্লেখ করেন।

তিনি বর্তমান সরকারকে উদ্দেশ্য করে বলেন, খেলার টিম ও রেফারি একসাথে চলতে পারে না। হয় খেলা ছাড়ুন না হয় রেফারির ভূমিকা ছাড়ুন।

ডাকসুর সাবেক ভিপি সুলতান মনসুর বলেন, সিলেটের মানুষ কখনই মাথা নিচু করে হাটে নাই। সবসময় মাথা উঁচু করে হাটে। সিলেটের মানুষের টাকাসহ দেশের মানুষের কোটি কোটি টাকা দেশ থেকে বিদেশে পাচার হয়ে যাচ্ছে।

তিনি বলেন, যেটি কারাগার নয় সেটিকে কারাগার বানিয়ে বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়াকে আটক রাখা হয়েছে। সরকার ও সরকার প্রধানকে খালেদা জিয়াকে মুক্তিসহ দেশে সকল প্রকার জুলুম অত্যাচার বন্ধ করে দ্রুত নির্বাচন দেয়ার আহ্বান জানান তিনি।

এসময় তিনি জয় বাংলা জয় বঙ্গবন্ধু বলে বক্তব্য শেষ করার আগে বলেন, আমি যতদিন বাঁচবো ততোদিন জনগণের সাথেই থাকবো।

এর আগে তিনি তার বক্তব্যের শুরুতে বলেন, সিলেটে এমন কোন দিন নেই যেদিন আমি স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে কথা বলিনি। এমন কোন দিন নেই যেদিন আমি বঙ্গবন্ধুর নাম উচ্চারণ করিনি।

বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা শামসুজ্জামান দুদু বর্তমান সরকারকে নভেম্বরের আগেই পদত্যাগের হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন- নভেম্বরের আগে পদত্যাগ না করলে ছাল বাকল থাকবে না। কার ছাল উঠবে টের পাবেন। শুধু মাত্র আর একটি সপ্তাহ অপেক্ষা করেন।

প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশ্যে তিনি বলেন- ‘আমরা নির্বাচনে যাবো, তবে তার আগে আপনাকে পদত্যাগ করতে হবে।’

এর আগে বেলা ২ টায় শুরু হয় জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সমাবেশ। সিলেট সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীর সভাপতিত্বে এবং জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আলী ও মহানগর বিএনপির সহ সাধারণ সম্পাদক আজমল বকত সাদেকের যৌথ পরিচালনায় বেলা আড়াইটার দিকে মঞ্চে আসেন- গণফোরাম সভাপতি ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট নেতা ড. কামাল হোসেন, বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম, আ.স.ম আবদুর রব ও প্রফেসর এমাজ উদ্দিন আহমদ।

এরপর বেলা ৩ টার দিকে মঞ্চে আসেন নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুর রহমান মান্নাসহ আরো কয়েকজন নেতা। ।

জনসভায় বক্তব্য রাখেন- জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতা আ স ম আবদুর রব, মাহমুদুর রহমান মান্না, ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী, মোস্তফা মহসিন মন্টু,, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ইনাম আহমেদ চৌধুরী, মো. শাহজাহান, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা জয়নুল আবদিন ফারুক, আমান উল্লাহ আমান, বরকতউল্লাহ বুলু, ইসলামী ঐক্যজোটের চেয়ারম্যান মাওলানা অ্যাডভোকেট আব্দুর রকিব, জাতীয় পার্টির (কাজী জাফর) মহাসচিব মোস্তফা জামার হায়দার, খেলাফত মজলিশের মহাসচিব ড. আহমেদ আব্দুল কাদের, এলডিপির মহাসচিব ডা. রেদোয়ান আহমদ, নাগরিক ঐক্যের সমন্বয়কারী শহীদুল্লাহ কায়সার, জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার আহ্বায়ক আ ব ম মোস্তফা আমীন, জেএসডির সহসভাপতি তানিয়া রব, জেএসডির নির্বাহী সভাপতি সুব্রত চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মালেক রতন প্রমুখ।

 

Share





Related News

Comments are Closed