Main Menu

সিলেটে অবৈধ সিএনজি অটোরিকশা চলাচল বন্ধের দাবি

বৈশাখী নিউজ ২৪ ডটকম: সিএনজি চালিত অটোরিক্সা চলাচলের ব্যাপারে সরকারি সিদ্ধান্ত কার্যকর না হলে কঠোর কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছে সিলেট জেলা সড়ক পরিবহন মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদ। শনিবার দুপুরে নগরীর একটি হোটেলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তারা এই ঘোষণা দেন। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সিলেট জেলা সড়ক পরিবহন মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদের সদস্য সচিব ও সিলেট জেলা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. জিয়াউল কবীর (পলাশ)।
তিনি তার বক্তব্যে বলেন, সরকারের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে বিভিন্ন সময়ে অনিয়মতান্ত্রিকভাবে সিএনজি অটোরিক্সা চলাচলের উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়। নিষেধাজ্ঞা গুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য সিএনজি অটোরিক্সা ড্রাইভারের দুই পাশে ও পিছনে লোহার গ্রীল স্থাপন, ড্রাইভিং সিট ছোট করণ, হাইওয়ে রুটে চলাচলের উপর হাইকোর্টের নিষেধাজ্ঞা, স্থায়ীভাবে গ্রীল সংযোজন ব্যতিত কোন সিএনজি অটোরিক্সার ফিটনেস ইস্যু না করা ইত্যাদি। এ ব্যাপারে সংগঠন থেকে জেলা প্রশাসক বরাবরে অনেকবার স্মারকলিপি প্রদান, বিআরটিএর উদ্যোগে সিএনজি মালিক-শ্রমিক ও প্রশাসনের সাথে ত্রিপক্ষীয় সভা ইত্যাদির মাধ্যমে আমরা নিরাপদ সড়কের ব্যাপারে করণীয় দাবিগুলো বার বার তুলে ধরেছি। কিন্তু এসব দাবি ও বিভিন্ন সভার সিদ্ধান্ত আজও বাস্তবায়ন হয়নি।
পলাশ বলেন, সম্প্রতি নিরাপদ সড়কের দাবিতে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের আন্দোলন সবার বিবেককে নাড়িয়ে দিলেও সিএনজি অটোরিক্সা চালকদের বিবেক আজও জাগ্রত হয়নি। তিনি বলেন, সিলেট জেলায় কাগজবিহীন টোকেনের মাধ্যমে প্রায় ১৫ হাজার সিএনজি অটোরিক্সা চলাচল করছে। এদের ব্যাপারে পুলিশ প্রশাসন ও বিআরটি-এ নিরব। এদের কারণে বিভিন্ন রুটে বাস গাড়ী বন্ধ হওয়ার উপক্রম। সিএনজি অটোরিক্সার অবৈধ চলাচলের কারণে সিলেট-জকিগঞ্জ, সিলেট-তামাবিল, সিলেট-সালুটিকর, সিলেট-জগন্নাথপুর, সিলেট-সুনামগঞ্জ, সিলেট-মৌলভীবাজারসহ অন্যান্য রুটে গাড়ী চলাচল প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে। হাইওয়ে রুটে অনেকাংশে দুর্ঘটনার জন্য সিএনজি অটোরিক্সাকে দায়ী করা হয়। তারা দ্রæত গতির গাড়ীর সাথে পাল্লা দিতে গিয়ে বড়ধরনের দুর্ঘটনায় পড়ে। চালকসহ সিএনজি অটোরিক্সায় ৪ জনের বেশি লোক থাকার কোন বিধান নেই অথচ তারা ৫/৬ জন যাত্রী বহন করে।
সংবাদ সম্মেলনে ৫ দফা দাবি তুলে ধরা হয়। পরিবহন মালিক শ্রমিক নেতৃবৃন্দ ৫ দফা দাবি আগামী ১৫ অক্টোবরের মধ্যে বাস্তবায়ন না হলে, কঠোর কর্মসূচি প্রদান করতে বাধ্য হবেন বলেও সংবাদ সম্মেলনে ঘোষণা করা হয়। দাবিগুলো হচ্ছে, সিএনজি অটোরিক্সার সামনে ও পিছনে স্থায়ীভাবে লোহার গ্রীল সংযোজন করা, চালকের আসন মোটরযান আইনের মাপ অনুযায়ী ছোট করা, হাইকোর্টের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে হাইওয়ে রুটে সিএনজি চলাচল বন্ধ করা, অটোরিক্সার চালক ব্যতিত ৩ জনের অতিরিক্ত যাত্রী বহন না করা, সিলেট জেলায় রেজিষ্ট্রেশনবিহীন সিএনজি অটোরিক্সা চলাচল সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা।
সিলেট জেলা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সভাপতি মো. আবুল কালামের সভাপতিত্বে অনুষ্টিত সংবাদ সম্মেলনে বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন, সিলেট জেলা সড়ক পরিবহন মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদের যুগ্ম আহŸায়ক ও সিলেট জেলা সড়ক পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা সেলিম আহমদ ফলিক। উপস্থিত ছিলেন জেলা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সহ-সভাপতি আব্দুর রহিম, আজিজুর রহমান চৌধুরী, মো. হেলাল উদ্দিন, রিহাদ আহমদ, সহ সাধারণ সম্পাদক রেজওয়ান আহমদ (রাজন), মো. শেকু আহমদ, মো. আব্দুল গণি চৌধুরী শাহান, সাংগঠনিক সম্পাদক এমরান হোসেন (ঝুনু), অর্থ সম্পাদক মো. আমিনুজ্জামান (জোয়াহির), দপ্তর সম্পাদক মো. আব্দুর রকিব, প্রাচার সম্পাদক মো. জোবায়ের আহমদ ও সদস্য মো. পারভেজ মিয়া। শ্রমিক নেতাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সিলেট জেলা শ্রমিক ইউনিয়নের কার্যকরি সভাপতি রুনু মিয়া, সহ সভাপতি শাহ জামাল আহমদ, ভারপ্রাপ্ত যুগ্ম সম্পাদক আব্দুল মুহিম, সহ সাধারণ সম্পাদক ময়নুল ইসলাম, প্রচার সম্পাদক শেখ সোনাফর আলী লাকী, কোষাধ্যক্ষ মো. সামসুল হক মানিক, কার্যকরি সদস্য বেলাল আহমদ, আব্দুল মতিন চৌধুরী প্রমুখ।

Share





Related News

Comments are Closed