Main Menu

আকাশবীণা’র উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের সর্বাধুনিক প্রযুক্তির বোয়িং ৭৮৭-৮ ড্রিমলাইনার আকাশবীণার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বুধবার (৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে বহরে যুক্ত হওয়া উড়োজাহাজটির উদ্বোধন করেন।

উদ্বোধনের পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উড়োজাহাজটির কেবিন ও ককপিট ঘুরে দেখেন। আকাশবীণা যুক্ত হওয়ার পর জাতীয় পতাকাবাহী এয়ারলাইন্সের বহরে উড়োজাহাজের সংখ্যা দাঁড়ালো ১৫টিতে। ড্রিমলাইনারের দ্বিতীয় উড়োজাহাজটি নভেম্বরে এবং বাকি দুটি আসবে আগামী বছরের (২০১৯) সেপ্টেম্বরে রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী এয়ারলাইন্সের বহরে যুক্ত হবে।

উদ্বোধনের আগে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এক বক্তৃতায় উড়োজাহাজ নিরাপত্তায় গুরুত্ব দিতে বিমানের সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহবান জানান। তিনি বর্তমান সরকারের উন্নয়নের ধারা ধরে রাখতে সবার সহায়তা দরকার বলে উল্লেখ করেন।

উদ্বোধনের পর আজ বুধবার রাতেই কুয়ালালামপুরের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাবে আকাশবীণার প্রথম বাণিজ্যিক ফ্লাইট। ড্রিমলাইনার উড়োজাহাজ ঢাকা-কুয়ালালামপুর রুট ছাড়াও ঢাকা-সিঙ্গাপুর এবং আগামী অক্টোবর থেকে মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি রুটে যাত্রী পরিবহনে ব্যবহৃত হবে ড্রিমলাইনার উড়োজাহাজ।

টানা ১৬ ঘন্টা ফ্লাই করতে পারা এই উড়োজাহাজটিতে মোট আসন রয়েছে ২৭১টি। এর মধ্যে বিজনেস ক্লাসের আসন ২৪টি। সমূদ্রপৃষ্ঠ থেকে ৪৩ হাজার ফুট ওফর দিয়ে উড়তে সক্ষম দুই ইঞ্জিনবিশিষ্ট এই উড়োজাহাজ বিশ্বের যে প্রান্তে থাকুক না কেন ঢাকায় নিয়ন্ত্রণ কক্ষের সাথে সব সময় এর যোগাযোগ থাকবে। এটি বোয়িং ৭৬৭ উড়োজাহাজের চেয়ে ২০ শতাংশ কম জ্বালানি লাগে।

এর আগে গত ১৯ আগস্ট বিকেলে ঢাকায় এসে পৌঁছায় আমেরিকার বোয়িং কোম্পানির তৈরি বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ৭৮৭-৮ ড্রিমলাইনার। যুক্তরাষ্ট্রের সিয়াটল পেনফিল্ড থেকে যাত্রাবিরতি ছাড়াই টানা সাড়ে ১৪ ঘণ্টা উড়ে হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে উড়োজাহাজটি।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এর নাম দিয়েছেন ‘আকাশবীণা’। বোয়িংয়ের কাছ থেকে আরও তিনটি ৭৮৭-৮ ড্রিমলাইনার বিমানবহরে যোগ হতে যাচ্ছে। দ্বিতীয়টি আসবে আগামী নভেম্বরে। অন্য দুটি আসবে ২০১৯ সালের শেষ দিকে।

গত ২৯ আগস্ট দুপুরে ড্রিমলাইনারের প্রথম পরীক্ষামূলক ফ্লাইট ঢাকা থেকে কলকাতায় চালানো হয়। বিমানের সিনিয়র পাইলট ক্যাপ্টেন ফজল আহমেদ ও বোয়িংয়ের ক্যাপ্টেন রিচার্ড এম ডেনটন ফ্লাইটটি পরিচালনা করেন। ওই ফ্লাইটে বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটন মন্ত্রণালয়, সিভিল অ্যাভিয়েশন অথরিটি, বিমান কর্মকর্তাসহ ২৯ জন আরোহী ছিলেন।

বিমান সূত্র জানায়, ড্রিমলাইনার দিয়ে মালয়েশিয়া ও সিঙ্গাপুরে ফ্লাইট চালানো হবে। কর ও চার্জ ছাড়া ঢাকা-সিঙ্গাপুর-ঢাকা রুটে ইকোনমি ক্লাসের ভাড়া ২০০ মার্কিন ডলার। এ ছাড়া ঢাকা-কুয়ালালামপুর-ঢাকা রুটে ইকোনমি ক্লাসের ভাড়া ২৯০ মার্কিন ডলার।

একইসঙ্গে ড্রিমলাইনারের ইন-ফ্লাইট এন্টারটেইনমেন্ট সিস্টেমে (আইএফই) থাকবে ১০০টির বেশি ক্ল্যাসিক থেকে ব্লকবাস্টার চলচ্চিত্র। অত্যাধুনিক বোয়িং ৭৮৭-৮ ড্রিমলাইনার সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ৪৩ হাজার ফুট দিয়ে উড়ে যাওয়ার সময়ও ওয়াইফাই সুবিধা পাবেন যাত্রীরা।

বিমানে ওয়াইফাইয়ের মাধ্যমে প্রত্যেক যাত্রী ১৫ মিনিটের জন্য বিনামূল্যে ১০ মেগাবাইট ইন্টারনেট ব্যবহার করতে পারবেন। এরপরও কোনও যাত্রী ইন্টারনেট ব্যবহার করতে হলে চার্জ দিতে হবে। এছাড়া মোবাইল ফোনে রোমিং সুবিধা থাকলে আকাশে উড্ডয়নের সময় কল করতে পারবেন যাত্রীরা।

Share





Related News

Comments are Closed