Main Menu

পাবনার সাংবাদিক সুবর্ণা নদীকে কুপিয়ে হত্যা

Manual6 Ad Code

বৈশাখী নিউজ ২৪ ডটকম: বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল ‘আনন্দ টিভি’র পাবনা প্রতিনিধি সুবর্ণা নদীকে (৩২) কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। মঙ্গলবার (২৮ আগস্ট) রাত সাড়ে ১০টার দিকে পাবনা সদরে নিজ বাসায় এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।

পাবনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার গৌতম কুমার বিশ্বাস জানান, পাবনা পৌর সদরের রাধানগর মহল্লায় আদর্শ গার্লস হাইস্কুলের সামনে বাসার কলিংবেল টিপে কয়েকজন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তি। সুবর্ণা নদী গেট খোলার সাথে সাথে তাকে অতর্কিত এলোপাতাড়ি কুপিয়ে ফেলে পালিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা।

পরে সুবর্ণাকে উদ্ধার করে পাবনা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন বলে এ পুলিশ কর্মকর্তা জানান।

তিনি বলেন, সুবর্ণা নদী আনন্দ টিভির পাশাপাশি দৈনিক জাগ্রতবাংলা পত্রিকায় পাবনা প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করতেন। জান্নাত নামে তার ৬ বছরের একটি কন্যা সন্তান রয়েছে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করছে পুলিশ। তাৎক্ষণিকভাবে হত্যার কারণ জানা যায়নি।

নারী সাংবাদিক সুবর্ণা হত্যার নেপথ্যে

Manual1 Ad Code

পাবনায় নারী সাংবাদিক সুবর্ণা নদী হত্যার কারণ উদঘাটনে কয়েকটি ইস্যু নিয়ে পুলিশ মাঠে নেমেছে। ইতোমধ্যে তার সাবেক শ্বশুর পাবনার ইদ্রাল ইউনানি কোম্পানি ও শিমলা ডায়াগনস্টিকের মালিক আবুল হোসেনকে আটক করেছে পুলিশ।

Manual3 Ad Code

বড় বোন চম্পা খাতুন সাংবাদিকদের কাছে দাবি করেছেন- পাবনার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে আদালতে একটি যৌতুক মামলা করেন সুবর্ণা। এ মামলায় সুবর্ণা তার সাবেক স্বামী রাজীব ও তার বাবা আবুল হোসেনসহ তিনজনকে আসামি করেন। মামলাটি আদালতে বিচারাধীন। মঙ্গলবার (২৮ আগস্ট) এ মামলায় সাক্ষ্য দিয়েছেন তিনি।

এ মামলার কারণেই সুবর্ণাকে হত্যা করা হয়েছে বলে দাবি করেছেন চম্পা খাতুন।

সুবর্ণা নদী জেলার আটঘরিয়া উপজেলার একদন্ত গ্রামের মৃত আইয়ুব আলীর মেয়ে। আবুল হোসেনের ছেলে রাজীবের সঙ্গে তিন-চার বছর আগে বিয়ে হয়েছিল সুবর্ণার। বছরখানেক আগে তাদের ছাড়াছাড়ি হয়ে যায়।

Manual8 Ad Code

সুবর্ণা স্বামী ও শ্বশুরের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ এনে ঢাকায় ও পাবনায় সংবাদ সম্মেলন করেছিলেন। জীবন আশঙ্কায় তিনি অাইনশৃঙ্খলা বাহিনীসহ সংশ্লিস্টদের সহযোগিতা চেয়েছিলেন।

সুবর্ণা ‘আনন্দ টিভি’র পাবনা প্রতিনিধি ছিলেন। অনলাইন পোর্টাল দৈনিক জাগ্রতবাংলার সম্পাদক ও প্রকাশক ছিলেন। পাশাপাশি পাবনা বার্তা ২৪ ডটকমসহ কয়েকটি গণমাধ্যমে কাজ করতেন। এর আগেও সুবর্ণার একবার বিয়ে হয়েছিল। সেই সংসারের জান্নাত নামের ৬ বছরের কন্যা সন্তান ও মাকে নিয়ে শহরের রাঁধানগর মহল্লায় আদর্শ গার্লস হাইস্কুলের সামনে বাসা ভাড়া থাকতেন।

স্বামী-শ্বশুর থেকে বাঁচতে সাহায্য চেয়েছিলেন সুবর্ণা

স্বামী রাজীব হোসেন ও শ্বশুর আবুল হোসেনের হাত থেকে বাঁচতে অাইনশৃঙ্খলা বাহিনীসহ সংশ্লিস্টদের সহযোগিতা চেয়েছিলেন পাবনায় খুন হওয়া নারী সাংবাদিক সুবর্ণা নদী। এনিয়ে পাবনা ও ঢাকায় একাধিক সংবাদ সম্মেলন করেছিলেন সুবর্ণা।

২০১৭ সালের ২২ জুলাই পাবনা সংবাদপত্র পরিষদে এক সংবাদ সম্মেলন করে সুবর্ণা বলেছিলেন, ‘শিল্পপতি স্বামী রাজীব হোসেন ও শ্বশুর আবুল হোসেন কর্তৃক ভাড়াটিয়া গুন্ডাবাহিনী নির্যাতন ও হত্যা চেষ্টা করছেন।’

সুবর্ণা বলেন, ‘২০১৬ সালে ৬ জুন পাবনার শহরের রাজীব হোসেনের সাথে ৫ লাখ ১ টাকা দেনমোহর ধার্য করে বিয়ে করি। বিয়ের পর থেকে আমি তার সঙ্গে সংসার করতে থাকি। একপর্যায়ে আমার কাছে ৫ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করে। আমি যৌতুকের টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করায় আমাকে প্রচণ্ডভাবে মারমিট করে। এরপর থেকে যত দিন যায় ধীরে ধীরে তাদের নির্যাতনের মাত্রা বেড়ে যায়।

তিনি বলেন, ২০১৭ সালের ৩১ মে আমার স্বামী আমাকে বাড়ি থেকে বের করে দেয়। পরে বাবার বাড়ি গিয়ে হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা নেই। এরপর ৪ জুন পাবনা সদর থানায় নারী-শিশু ও যৌতুক আইনে মামলা করি (মামলা নং-০৮)। এছাড়া পাবনা জজ কোর্টে যৌতুক মামলা করি।’

২০১৭ সালের ৩ অক্টোবর বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (ক্রাব) মিলনায়তনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে একই অভিযোগ করে সুবর্ণা বলেন, ‘মামলা করার পর আমার শ্বশুর-শাশুড়ি ও স্বামী প্রচণ্ডভাবে আমার ওপর ক্ষুব্ধ হয়ে সব মামলা তুলে নেয়ার জন্য চাপ প্রয়োগ ও হুমকি প্রদর্শন করতে থাকেন। মামলা তুলে না নিলে আমাকে জানে মেরে ফেলার হুমকিও দেন। পরে রাস্তায় ভাড়াটিয়া গুন্ডা দিয়ে গলায় চাকু ধরে মামলা তুলে নেয়ার জন্য শাসিয়ে যায়। এ অবস্থায় আমি ভয়ে পাবনা ছেড়ে ঢাকায় পালিয়ে বেড়াচ্ছি।’

তিনি বলেন, এ অবস্থায় প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও আইনমন্ত্রীসহ আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর হস্তক্ষেপ কামনা করছি। একই সঙ্গে আসামিদের গ্রেফতারসহ উপযুক্ত শাস্তির ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানাচ্ছি।’

Manual4 Ad Code

Share





Related News

Comments are Closed

Manual1 Ad Code
Manual7 Ad Code