ছাতকে আ.লীগ নেতা ফারুক হত্যাকারীদের গ্রেফতার ও বিচার দাবি
বৈশাখী নিউজ ২৪ ডটকম: সুনামগঞ্জের ছাতক উপজলোর উত্তর খুরমা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ফারুক আহমদকে স্থানীয় এমপি মুহিবুর রহমান মানিকের মদদে তার চাচাতো ভাই ইউপি চেয়ারম্যান বিলাল আহমদ ও তার সহযোগীরা খুন করেছে বলে দাবি করেছেন স্ত্রী রেহেনা বেগম। শনিবার (৩০ জুন) সিলেট জেলা প্রেসক্লাবে সন্তানদের নিয়ে এক জরাকীর্ণ সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ দাবি করেন। খুনিদের গ্রেফতার করে বিচার নিশ্চিত করতে তিনি আওয়ামী লীগের সভানেত্রী, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হস্তক্ষেপ কামনা করেন। সংবাদ সম্মেলনে রেহেনা বেগম থানা পুলিশের মামলা না নেওয়া ও স্থানীয় বিরোধের কারণে তার স্বামীকে যে খুন করা হয় সে বিষয়টিও উল্লেখ করেন। তার পক্ষে লিখিত বক্তব্য পাঠ করে নিহত ফারুকের ভাতিজা মেডিকেল কলেজ ছাত্র বায়জিদ আলম।
লিখিত বক্তব্যে ছাতক উপজলোর উত্তর খুরমা ইউনিয়নের পুরান মৈশাপুর গ্রামের ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহ-সাংগঠনকি সম্পাদক মো. ফারুক আহমদের স্ত্রী রেহেনা উল্লেখ করেন, গত ২২ জুন দিবাগত রাতে দুর্বৃত্তরা নৃংশসভাবে কুপিয়ে ও গলা কেটে তার স্বামীকে হত্যা করে বিলের পানিতে লাশ গুম করে রাখে। ফারুক ব্যবসার পাশাপাশি তৃণমূল আওয়ামী লীগের একজন সক্রীয় কর্মী ছিলেন। অন্যায়, অবিচার ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে প্রতিবাদী একজন পরোপকারী মানুষ হিসেবে তার পরিচিতি ছিল। ওইদিন রাতে তিনি নিখোঁজ হওয়ার পর পাতলাচুরা বিলের পাড়ে তার পরনের জামাকাপড় পাওয়া যায়। নিখোঁজের বিষয়টি পুলিশকে জানানোর পর ২৩ জুন লাশের অনুসন্ধান করে পুলিশ এবং ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল ব্যর্থ হয়। ২৪ জুন পাতলাচুরা বিলের পানিতে ব্যাপক অনুসন্ধান চালিয়ে তার স্বামীর লাশের সন্ধান মিলে। লাশের শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন ও গলাকাটা ছিল। লাশ গুম করতে লাশের গলায় ইট বেধে পানিতে ফেলে রাখে খুনীরা। এতো নির্মম ও নৃশংস হত্যাকান্ড ছাতকে আর দ্বিতীয়টি ঘটেছে কি না জানা নেই।
অভিযোগ তুলে বক্তব্যে উল্লেখ করা হয়, সুনামগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য মুহিবুর রহমান মানিকের আশ্রয়-প্রশ্রয়ে ও পৃষ্টপোষকতায় স্থানীয় পর্যায়ে অন্যায় ও নানা অপকর্মের রাজত্ব কায়েম করেছেন তারই চাচাতো ভাই উত্তর খুরমা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান বিলাল আহমদ। বিলালের সাথে নানা কারণে র্দীঘদিন ধরে তার স্বামীর দ্ব›দ্ব রয়েছে। বিলালের নানা অন্যায় ও অবৈধ কাজের প্রতিবাদ করায় সে আমার স্বামীর উপর ক্ষিপ্ত ছিল। আওয়ামী লীগের দায়িত্বশীল পদে থাকলেও বিলালের অন্যায় কাজে কোনোদিন প্রশ্রয় দেননি। ২০১৫ সালে স্থানীয় এলঙ্গি প্রাইমারি স্কুল মাঠে অনুষ্ঠিত একটি গানরে অনুষ্ঠানে বিলাল মাস্তানী করতে গেলে প্রতিবাদ করেন তার স্বামী। গত ইউপি নির্বাচনে বিলালের পক্ষ না নেওয়ায় তার স্বামীর উপর ক্ষোভের মাত্রা বেড়ে যায়। তাকে হত্যা করার উদ্দেশ্যে গত তিন বছরের ব্যবধানে অন্তত ৫ বার তার ওপর হামলা করে বিলাল ও তার সহযোগী সন্ত্রাসীরা। গত বছর ছাতক হাসপাতালে যাওয়ার পথে বিলাল গংরা তার স্বামীর উপর হামলা চালায়।
স্বামীর হত্যার পেছনে এমপির মদদ রয়েছে উল্লেখ করে রেহেনা জানান, তার স্বামীর নৃশংস এই খুনের ঘটনায় এমপি মানিকের সমর্থনপুষ্ট ইউপি চেয়ারম্যান বিলাল ও তার সহযোগীরা জড়িত। পুলিশ নিরপেক্ষ তদন্ত করলে এর সত্যতা অবশ্যই বেরিয়ে আসবে। হত্যার ঘটনায় তিনি ২৫ জুন সন্ধ্যায় ইউপি চেয়ারম্যান বিলাল আহমদ ও তার ১০/১২ জন সহযোগীকে আসামি করে ছাতক থানায় এজাহার দেন। পুলিশ তা গ্রহন করে কপিও দেয়। কিন্তু কোনো এক অদৃশ্য শক্তির ইশারায় মামলা রেকর্ড না করে এজাহার রিসিভ কপিতে ঘষামাজা করে ফেরত দেয় পুলিশ। এমনকি একই তারিখ দেখিয়ে এসআই অরুপ সাগর কমলগুপ্ত কে বাদি বানিয়ে থানায় অজ্ঞাত আসামী করে মামলা করানো হয়। যার জিআর নং-১৮০/১৮। ফলে তিনি বাধ্য হয়ে ২৭ জুন সুনামগঞ্জ আমলগ্রহনকারী জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ১০ জনের নাম উল্লেখ করে মামলা করেন। ২৮ জুন আদালত তার দায়ের করা মামলাটি পুলিশের দায়ের করা মামলার সাথে সংযুক্ত করে পদক্ষেপ নিতে থানার ওসিকে নির্দেশ দেন এবং আগামী ৮ জুলাইয়ের মধ্যে গৃহিত পদক্ষেপ সম্পর্কে আদালতকে অবহিত করারও নির্দেশ দেন। আদালত তার নির্দেশে থানা পুলিশের দায়ের করা মামলাটি যে আইনত হয়নি তাও উল্লেখ করেন। রেহেনা বেগম দাবি করেন, তার এজাহারটি না নিয়ে অজ্ঞাতনামা আসামী করে যে মামলা করা হয় তা খুনিদের রক্ষার জন্যই করা হয়েছে। পুলিশের অতি উৎসাহতে মনে হচ্ছে মায়ের চেয়ে মাসির দরদই বেশি। তারা জজ মিয়া নাটক সাজানোর জন্যই এমপির ইশারায় মামলা করেছে।
সংবাদ সম্মেলনে রেহেনা বেগম তার স্বামী হত্যার বিচার নিশ্চিত করতে বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হস্তক্ষেপ কামনা করে এবং উর্ধতন পুলিশ প্রশাসনের কাছে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে খুনিদের খোজে বের করার দাবি জানান। এ সময় নিহত ফারুকের শিশু সন্তান ইয়াছিন আহমদ, মেয়ে আরিফা ও জেনিফা, ভাই আতিক মিয়া, মানিক মিয়া প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
Related News
সিলেটে ২ মাদ্রাসা ছাত্র নিখোঁজ, ভিডিও কলে মারধরের দৃশ্য দেখিয়ে টাকা দাবি
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: সিলেটে তিন দিন ধরে নিখোঁজ রয়েছে হাফিজিয়া মাদ্রাসার দুই ছাত্র। নিখোঁজ দুইRead More
সিলেটে অনুমোদনহীন ৪ প্রতিষ্ঠানকে লাখ টাকা জরিমানা
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: সিলেট মহানগরীর দক্ষিণ সুরমায় অনুমোদনহীন সার্জিক্যাল পণ্য বিক্রি ও লাইসেন্সবিহীন ব্যবসা পরিচালনারRead More



Comments are Closed