সিসিক নির্বাচনে এবারও আরিফ-কামরান লড়াই
বৈশাখী নিউজ ২৪ ডটকম: সিলেট সিটি কর্পোরেশনের আসন্ন নির্বাচনে আওয়ামীলীগের একক প্রার্থী বদরউদ্দিন আহমদ কামরান। গত ২২ জুলাই আওয়ামী লীগ থেকে তাকে সিলেট সিটি করপোরেশন নির্বাচনে দলের মেয়র প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করা হয়।
এদিকে, গত বুধবার বর্তমান মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীকে মেয়র পদে দলের একক প্রার্থী হিসেবে নাম ঘোষণা করে বিএনপি।
বুধবার বিএনপি আরিফকে প্রার্থী ঘোষণা করায় নিশ্চিত হলো এবারও সিলেট সিটিতে আরেকটি আরিফ-কামরান লড়াই হতে যাচ্ছে।
সর্বশেষ ২০১৩ সালে অনুষ্ঠিত সিলেট সিটি করপোরেশন নির্বাচনেও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি বদরউদ্দিন আহমদ কামরান ও বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য আরিফুল হক চৌধুরী। প্রায় ৩০ হাজার ভোটের ব্যবধানে সে নির্বাচনে দুইবারের মেয়র কামরানকে পরাজিত করে প্রথমবারের মতো মেয়র নির্বাচিত হন আরিফুল হক।
এবার মনোনয়ন নিয়ে দলের ভেতরেই প্রতিদ্বন্দ্বিতার মুখে পড়েন সাবেক ও বর্তমান এই দুই মেয়র। আওয়ামী লীগ থেকে ৫ নেতা ও বিএনপি থেকে ৬ নেতা দলীয় মনোনয়ন দাবি করেন। প্রার্থীতা নিয়ে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি নেতাদের মধ্যে দেখা দেয় বিভক্তি। আগেভাগেই প্রার্থী চুড়ান্ত করে বিভক্তি নিরসনে অনেকটাই সক্ষম হয় আওয়ামী লীগ। এই দল থেকে কেবল বদরউদ্দিন আহমদ কামরানই মেয়র পদে মনোনয়নপত্র জমা দেন।
অপরদিকে, প্রার্থী চুড়ান্ত করতে বিএনপি নেতাদের সিদ্ধান্তহীনতা ও সময়ক্ষেপণের কারণে দলটিতে আরো বিভক্তি তৈরি হয়। আরিফুল হক চৌধুরীর পাশাপাশি মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক বদরুজ্জামান সেলিমও মেয়র পদে মনোনয়নপত্র জমা দেন। এছাড়া ম্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দেন বিএনপি জোটের শরীক জামায়াত ইসলামীর সিলেট মহানগর শাখার আমীর এহসানুল মাহবুব জুবায়েরও।
মনোনয়ন দাখিল শেষে বিএনপির মেয়র প্রার্থী আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, ‘সিলেট মহানগরীর ভোটাররা আমাকে আবারও মেয়র পদে দেখতে চায়। যদি নির্বাচন যথাযথভাবে অনুষ্ঠিত হয় তাহলে ধানের শীষের বিজয় সুনিশ্চিত।’ এছাড়াও দলের নেতাকর্মীসহ সিলেটের সর্বস্তরের নেতাকর্মীদের ধানের শীষ প্রতীককে বিজয়ী করার জন্য তিনি আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ‘বিএনপি একটি বৃহৎ দল। এখানে মনোনয়নের লড়াই থাকবে এটাই স্বাভাবিক। তবে সিলেট বিএনপি সবসময় ঐক্যবদ্ধ।’
তিনি বলেন, ‘গত সিটি নির্বাচনে মেয়র নির্বাচিত হয়ে দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই বারবার রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়েছি। দীর্ঘদিন কারাগারে ছিলাম। যত দিন দায়িত্বে ছিলাম, তত দিন মানুষের কল্যাণে কাজ করেছি। তাই আসছে নির্বাচনে মানুষ আমাকে ভোট দেবে বলে বিশ্বাস করি।’
এসময় তিনি দায়িত্ব পালনকালে ভুল-ত্রুটির জন্য নগরবাসীর কাছে ক্ষমা প্রার্থণা করেন।
তিনি আরো বলেন, দলের সকল নেতাদের সাথে বৈঠক করে বিভেদ নিরসনের চেষ্টা করবো। ওক্যবদ্ধভাবে কাজ করে বিজয় ছিনিয়ে এনে এই সরকারের দুঃশাসনের জবাব দিতে হবে।
এদিকে আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী বদরউদ্দিন আহমদ কামরান এবার গত নির্বাচনের পুণরাবৃত্তি হবে না জানিয়ে বলেন, গতবছর দলের কিছু ভুল বুঝাবুঝি ছিলো। এবার আর সে অবস্থা নেই। এবার আর গতবারের মতো হবে না। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ একটি বিশাল সংগঠন। এই দলে মান অভিমান থাকতে পারে। প্রতিযোগিতা থাকতে পারে। তবে এবার আমাদের মধ্যে কোনো মতপার্থক্য নেই। নেত্রী যেভাবে নির্দেশ দিয়েছেন সেভাবে আমরা ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করে যাব। কামরান বলেন, আমরা এ নির্বাচনকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে ঘোষণা করেছি। আমরা ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করে নৌকা প্রতিকের বিজয় নিশ্চিত করব।’
উল্লেখ্য, নির্বাচন কমিশন ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী আগামী ৩০ জুলাই সিলেট, বরিশাল ও রাজশাহী সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ভোট প্রহণ হবে। ২৮ জুন শেষ হয়েছে মনোনয়নপত্র জমা দান। প্রার্থিতা প্রত্যাহার করা যাবে ৯ জুলাই পর্যন্ত।
Related News
‘দুর্নীতি বিরোধী আন্দোলনে নাসির উদ্দীন ছিলেন এক সিংহ পুরুষ’
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: উচ্চ পর্যায়ে দুর্নীতি বিরোধী গণআন্দোলন ও গণজাগরণ গড়ে তোলার লক্ষ্যে ১৯৯৮ সালেRead More
সুরমা বয়েজ ক্লাবের উদ্যোগে এসএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণদের সংবর্ধনা
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: মদনমোহন কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ আতাউর রহমান পীর বলেছেন, শিক্ষার্থীদের জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণRead More



Comments are Closed