কুমিল্লার দুই মামলায় খালেদার জামিন স্থগিত
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: কুমিল্লায় নাশকতার দুই মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে হাইকোর্টের দেওয়া ছয় মাসের জামিন আদেশ প্রদানের একদিন পর আবার স্থগিত করেছেন সুপ্রিম কোর্টের চেম্বার আদালত। একইসঙ্গে আদালত মামলা দুটি আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে শুনানির জন্য আগামী ৩১ মে দিন ধার্য করেছেন।
মঙ্গলবার (২৯ মে) রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের শুনানি নিয়ে চেম্বার বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী এ আদেশ দেন।
আদালতে খালেদা জিয়াকে দেওয়া হাইকোর্টের জামিন আদেশের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষে আপিল শুনানি করেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। অন্যদিকে, খালেদা জিয়ার পক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন। তার সঙ্গে ছিলেন ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, ব্যারিস্টার এএম মাহবুব উদ্দিন খোকন প্রমুখ।
আর নড়াইলের মানহানি মামলার জামিন আবেদন উত্থাপিত হয়নি বলে খারিজ করে দিয়েছেন আদালত। সোমবার (২৮ মে) বিচারপতি একেএম আসাদুজ্জামান ও বিচারপতি জেবিএম হাসানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।
আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে উপস্থিত ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ড. মো. বশির উল্লাহ ও এ কে এম দাউদুর রহমান মিনা। আর খালেদা জিয়ার পক্ষে ছিলেন আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন, এ জে মোহাম্মদ আলী, জয়নুল আবেদীন, মাহবুবউদ্দিন খোকন প্রমুখ।
এর আগে গত ২৮ মে কুমিল্লার নাশকতার দুই মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে ছয় মাসের জামিন দেন হাইকোর্ট। আর নড়াইলের মানহানি মামলার জামিন আবেদন উত্থাপিত হয়নি মর্মে খারিজ করে দেন। বিচারপতি একেএম আসাদুজ্জামান ও বিচারপতি জেবিএম হাসানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।
আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে উপস্থিত ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ড. মো. বশির উল্লাহ ও এ কে এম দাউদুর রহমান মিনা। আর খালেদা জিয়ার পক্ষে ছিলেন আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন, এ জে মোহাম্মদ আলী, জয়নুল আবেদীন, মাহবুবউদ্দিন খোকন প্রমুখ।
আদেশের পর কুমিল্লার মামলার বিষয়ে খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেন, ‘একটিতে ছয় মাসের জামিন দিয়ে রুল দিয়েছেন আদালত। অন্যটিতে ছয়মাসের জামিন দিয়েছেন।’
নড়াইলের মামলার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘ম্যাজিস্ট্রেট কোর্টে আবেদন করেছিলাম। সেখানে ম্যাজিস্ট্রেট আদেশ দেননি। পরে আমরা হাইকোর্টে আবেদন করেছি। এটা জামিনযোগ্য অপরাধ। হাইকোর্টও জামিন দিতে পারে। তখন আদালত আমাদের বলেছেন, জজকোর্ট (মামলাটির বিচারিক আদালত) ঘুরে আসেন। জজ কোর্ট কোনও আদেশ না দিলে আমরা দেখবো।’
এর আগে গত ২০ মে কুমিল্লা ও নড়াইলের পৃথক তিন মামলায় হাইকোর্টের অনুমতির পর বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার পক্ষে জামিন আবেদন দাখিল করা হয়। এরপর গত ২১ মে আদালতে খালেদা জিয়ার দুই মামলায় জামিন শুনানির দিন ধার্য থাকলেও প্রস্তুতি না থাকার বিষয়টি আদালতকে অবহিত করেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। এরপর আদালত তার আবেদন মঞ্জুর করে এ বিষয়ে গত ২২ মে শুনানির দিন ধার্য করেছিলেন। এদিন আংশিক শুনানি নিয়ে মামলাটি ২৩, ২৪ ও ২৭ মে আবারও শুনানি হয়। সেই শুনানি শেষে আদালত সোমবার (২৮ মে) খালেদা জিয়াকে ছয় মাসের জামিন আদেশ দেন। এরপর সে আদেশ স্থগিত চেয়ে একইদিন রাষ্ট্রপক্ষ আপিল করে। সেই আপিলের শুনানি নিয়ে মঙ্গলবার (২৯ মে) আদালত হাইকোর্টের আদেশ স্থগিত করে আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে শুনানির দিন ধার্য করেন।
মামলা তিনটি হলো- কুমিল্লায় দায়ের করা হত্যা মামলা, অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুরের অভিযোগে কুমিল্লায় মামলা ও মানহানির অভিযোগে নড়াইলে মামলা।
কুমিল্লায় দায়ের করা হত্যা মামলা : ২০১৫ সালের ২ ফেব্রুয়ারি ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে একটি বাসে পেট্রোল বোমা নিক্ষেপ করা হয়। এই ঘটনায় সাতজন যাত্রী মারা যান এবং আরও ২৫/২৬ জন গুরুতর অসুস্থ হন। ঘটনায় পরদিন (৩ ফেব্রুয়ারি) বিকাল তিনটায় চৌদ্দগ্রাম থানার এসআই নুরুজ্জামান ৫৬ জনের বিরুদ্ধে বাদী হয়ে মামলা করেন। পরে এ মামলায় আদালতে অভিযোগ পত্র দেওয়া হয়। বিচারকালে দায়রা জজ আদালতে খালেদা জিয়ার জামিন চেয়ে আবেদন করা হয়। সেই জামিন আবেদনের পরবর্তী শুনানির জন্য আগামী ৭ জুন দিন ধার্য রাখা হয়েছে। কিন্তু এ অবস্থায় গত ৫ এপ্রিল এ মামলায় খালেদা জিয়াকে শ্যোন অ্যারেস্ট দেখানো হয়। তাই ফৌজদারি কার্যবিধির ৪৯৮ ধারায় হাইকোর্টে জামিন চেয়ে আবেদন করা হয়েছে।
অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুরের অভিযোগে কুমিল্লায় মামলা : ২০১৫ সালের ২৫ জানুয়ারি ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের হায়দার পুলের চৌদ্দগ্রামে একটি কাভার্ড ভ্যানে অগ্নিসংযোগ ও আশপাশের বেশ কিছু গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। পরে এই ঘটনায় ২০১৫ সালের ২৫ জানুয়ারি চৌদ্দগ্রাম থানায় বিশেষ ক্ষমতা আইনে নাশকতার অভিযোগে মামলা হয়। ২০১৭ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারিতে এই মামলায় অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। খালেদা জিয়াসহ ৩২ জনকে এ মামলায় আসামি করা হয়।
মামলাটি বর্তমানে কুমিল্লার বিশেষ ট্রাইব্যুনাল-১ এ বিচারাধীন রয়েছে। ২০১৭ সালের ৯ অক্টোবর এ মামলায় অভিযোগ আমলে নেয় আদালত। পরে গত ২৩ এপ্রিল এ মামলায় জামিন চেয়ে আবেদন করা হয়। কিন্তু আদালত আবেদনটির পরবর্তী শুনানির জন্য আগামী ৭ জুন দিন ধার্য় রাখেন। কিন্তু এ অবস্থায় শুনানি না করে এই মামলায় জামিন চেয়ে হাইকোর্টে আপিল আবেদন করা হয়েছে।
মানহানির অভিযোগে নড়াইলে মামলা : ২০১৫ সালের ২১ ডিসেম্বর মুক্তিযোদ্ধাদের সংখ্যা নিয়ে বিরূপ মন্তব্য করেন খালেদা জিয়া। এ ঘটনায় একই বছরের ২৪ ডিসেম্বর খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে নড়াইলে মানহানির মামলা করা হয়। স্থানীয় এক মুক্তিযোদ্ধার সন্তান রায়হান ফারুকি ইমাম বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন।
নড়াইলের চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট কোর্টে মামলাটি বিচারাধীন রয়েছে। মামলাটিতে এ বছরের ১৬ এপ্রিল খালেদা জিয়ার জামিন চেয়ে তার আইনজীবীরা আবেদন করেন। কিন্তু বিচারক বাদীর উপস্থিতিতে জামিন শুনানির জন্য গত ৮ এপ্রিল শুনানির পরবর্তী দিন ধার্য করেছিলেন। এরপর নির্ধারিত দিনে শুনানি নিয়ে পুনরায় জামিন শুনানির জন্য ২৫ মে দিন ধার্য করেছিলেন আদালত। এ অবস্থায় চলমান মামলায় খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা তার জামিন চেয়ে হাইকোর্টে আবেদন করেন।
Related News
শাপলা চত্বর হত্যাকাণ্ড: শেখ হাসিনাসহ ৩৩ জনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি
Manual7 Ad Code বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশে হত্যাযজ্ঞের ঘটনায়Read More
গাজীপুরে মেয়ের সর্বনাশ করায় বাবার যাবজ্জীবন
Manual4 Ad Code বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: গাজীপুরে নিজ শিশু কন্যাকে ধর্ষণের দায়ে পিতাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডRead More



Comments are Closed