ফুলেল শ্রদ্ধায় সিলেটে কবি নজরুলের জন্মবার্ষিকী পালন
বৈশাখী নিউজ ২৪ ডটকম: দ্রোহ, প্রেম, সাম্য, মানবতা ও শোষিত মানুষের মুক্তির বার্তাবাহী জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১১৯ তম জন্মবার্ষিকী বিনম্র শ্রদ্ধা ও গভীর ভালবাসায় উদযাপন করা হয়েছে বিভাগীয় নগরী সিলেটে।
এ উপলক্ষে সকালে নগরীর রিকাবিবাজারে নজরুল চত্বরে স্থাপিত কবির প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করতে ভীড় করেন সংস্কৃতিকর্মীরা। এসময় সিলেট নজরুল পরিষদ, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট, সম্মিলিত নাট্য পরিষদ, শিশু একাডেমি, দ্বৈতস্বর, সারোগামাসহ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠনের পক্ষ থেকে কবির প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন করা হয়। এছাড়া বিভিন্ন স্থানে কবিতা আবৃত্তি ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানেরও আয়োজন করা হয়।
১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেছিলেন। তার ডাক নাম ‘দুখু মিয়া’। পিতার নাম কাজী ফকির আহমেদ ও মাতা জাহেদা খাতুন।
মূলত বিদ্রোহী হলেও নজরুল ছিলেন চির তারুণ্য ও প্রেমের কবি। তার মধ্যে একই সঙ্গে দ্রোহ ও প্রেমের এক অপূর্ব সমন্বয় ঘটেছিল। বিশিষ্টজনদের মতে রবীন্দ্রনাথ-পরবর্তী নজরুলের গান অনেকটাই ভিন্ন ধরনের নির্মাণ। অধিকাংশ গান সুরপ্রধান। বৈচিত্র্যপূর্ণ সুরের লহরী কাব্যকথাকে তরঙ্গায়িত করে এগিয়ে নিয়ে যায়। সুরের বিন্যাসের উপরে কথা ঢলে পড়ে। তার গানে বহু গায়ক সুর-স্বাধীনতা ভোগ করেন। অনেক ক্ষেত্রে গায়ক সুরের ঢেউয়ে বেশি মেতে যান। তখন গান হয়ে যায় রাগপ্রধান।
নজরুল বিশেষজ্ঞ ইমেরিটাস অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘নজরুল ইতিহাস ও সময় সচেতন মানুষ ছিলেন যার প্রভাব তার লেখায় স্পষ্টভাবে পাওয়া যায়। তুরস্কে কামাল পাশার নেতৃত্বে প্রজাতন্ত্রের প্রতিষ্ঠা, রাশিয়ায় সমাজতান্ত্রিক বিপ্লব আর ভারতবর্ষে ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের তরঙ্গকে নজরুল তার সাহিত্যে বিপুলভাবে ধারণ করেছেন।’
নজরুল ছিলেন একাধারে কবি, সংগীতজ্ঞ, ঔপন্যাসিক, গল্পকার, নাট্যকার, প্রাবন্ধিক, সাংবাদিক, চলচ্চিত্রকার, গায়ক ও অভিনেতা। তার কবিতা, গান ও সাহিত্য কর্ম বাংলা সাহিত্যে নবজাগরণ সৃষ্টি করেছিল। তিনি ছিলেন অসাম্প্রদায়িক চেতনার পথিকৃৎ। তার লেখনি জাতীয় জীবনে অসাম্প্রদায়িক চেতনা বিকাশে ব্যাপক ভূমিকা পালন করে। তার কবিতা ও গান মানুষকে যুগে যুগে শোষণ ও বঞ্চনা থেকে মুক্তির পথ দেখিয়ে চলছে। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে তার গান ও কবিতা ছিল প্রেরণার উৎস।
স্বাধীনতার লাভের পর পরই জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলামকে স্বপরিবারে সদ্যস্বাধীন বাংলাদেশে নিয়ে আসেন। রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় বাংলাদেশে তার বসবাসের ব্যবস্থা করেন। ধানমন্ডিতে কবির জন্য একটি বাড়ি প্রদান করেছিলেন।
Related News
সিলেটে ‘একতাবদ্ধ সিলেটবাসী’র বিক্ষোভ সমাবেশ শুক্রবার
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: হযরত শাহজালাল (রহ.)-এর মাজার কমিটির সংস্কার এবং দৈনন্দিন হিসাব-নিকাশের স্বচ্ছতা নিশ্চিত, বর্তমানRead More
মিছিলের প্রস্তুতিকালে সিলেটে ছাত্রলীগের ৩০ নেতাকর্মী আটক
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: সিলেটের দক্ষিণ সুরমায় মিছিলের প্রস্তুতিকালে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের ৩০ নেতাকর্মীকে আটক করেছে পুলিশ।Read More



Comments are Closed