পুলিশী হয়রানীতে অসহায় কানাইঘাটের আব্দুর রহমান
বৈশাখী নিউজ ২৪ ডটকম: সিলেটের কানাইঘাট থানা পুলিশের কাছে অসহায় হয়ে পড়েছেন উপজেলপার চরিপাড়া গ্রামের মৃত আবু ছিদ্দিকের পুত্র মো. আব্দুর রহমান ও তার পরিবারের সদস্যরা। এলাকার দুর্নীতিবাজ ও মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার পরিচয়ধারী জামায়াত নেতা নজমুল হক ও তার সহযোগীদের দ্বারা প্রভাবিত হয়ে পুলিশ তাদের উপর অন্যায়, অবিচার চালিয়ে যাওয়ায় তারা বাড়ি ঘরে থাকতে পারছেন না বলেও অভিযোগ করেছেন।
রবিবার (২০ মে) দুপুরে সিলেট জেলা প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ অভিযোগ করেন।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘গত বছরের ২১ ডিসেম্বর রাতে মুখোশ পরা একদল পুলিশ সদস্য তার বাড়িতে ঢুকে বড়ভাই হাবিবুর রহমানকে খুঁজতে থাকে। এসময় পুলিশ সদস্যরা তার মা, বড় ভাই ফয়জুর রহমান, তার স্ত্রী ফারহানা আক্তার ও অপর বড় ভাই হাবিবুর রহমান হুরুহুনাকে রাতের খাবার থেকে তুলে বন্ধুকের নল দিয়ে গুতামেরে আহত করে। এক পর্যায়ে মা ভাইসহ অন্যদের বাঁচাতে হাবিবুর রহমান হুরুহুনা তার পরিচয় দিলে মুখোশপরা বন্দুকধারী একজন লোক বন্দুকের নলা দিয়ে উপর্যপুরি তাকে মারতে থাকে। এসময় আব্দুর রহমানের মা সায়বান বেগমসহ সবাই চিৎকার দিলে বন্দুকধারীরা নিজেদেরকে কানাইঘাট থানার এসআই আবু কাওছার, এসআই বসির আহমদ, কনস্টেবল পারভেজ, কনস্টেবল রাজ্জাক নুর পরিচয় দেয় এবং তাদের সাথে থাকা আরো ৩/৪ জনকে তাদের নিজস্ব লোক বলে পরিচয় দেয়। এরপর কিছু বুঝে উঠার আগেই তারা গুলি করতে শুরু করে। এক পর্যায়ে তারা হাবিবুর রহমান হরুহুনাকে হাত পা বেঁধে কয়েক দফা গুলি করে মৃত্যু নিশ্চিত করে। পরে অপর ভাই ফয়জুর রহমানকে গুলি করলে তিনিও মাটিতে লুটিয়ে পড়েন।
এসময় আব্দুর রহমানের মা বোনদের সুর-চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে পুলিশের সাথে অজ্ঞাতনামা ৩/৪ জন বাড়ীর উঠানে দাঁড়িয়ে কয়েক দফা ফাঁকা গুলি ছোঁড়ে ও কেউ এগিয়ে গেলে মেরে ফেলার হুমকি দেয়। পাশের বাড়ীর কামরুল ইসলাম এগিয়ে এলে তার উপরও তারা গুলি করে। এক পর্যায়ে পুলিশ আব্দুর রহমানের বড় ভাই ফয়জুর রাহমান ও হাবিবুর রহমানের নিথর দেহ সিএনজি অটোরিক্সায় তুলে নিয়ে যায়।
আব্দুর রহমান বলেন, তার মা ওসি আব্দুল আহাদকে বিষয়টি অবগত করলে তিনিও তাকে পাল্টা হুমকি ধমকী দেন। ঐদিন রাত ৩টার দিকে আরেকদল পুলিশ বাড়িতে ব্যাপক ভাংচুর ও লুটতরাজ চালায়। পরদিন রাতে পুলিশ হাবিবুর রহমান হরুহুনার লাশ নিয়ে বাড়িতে এসে জোরপূর্বক দাফনের চেষ্টা করলে গ্রামবাসী বাঁধা দেন। এক পর্যায়ে তারা ইউপি সদস্য শফিকুর রহমানের কাছে লাশ হস্তান্তর করে। এসময় ভাই ফয়জুর রহমানের সন্ধান করতে চাইলে এসআই আবু কাওছার ও এসআই বসির জানায় তিনি পুলিশ হেফাজতেই আছেন।
আব্দুর রহমান আরো বলেন, এ ঘটনার ৪ দিন পর নিরুপায় হয়ে তার ভাবি ফারহানা বেগম বাদী হয়ে কানাইঘাট থানার ওসি আব্দুল আহাদ, এসআই আবু কাওছার, এসআই বশির, কনস্টেবল পারভেজ, কনস্টেবল রাজ্জাক নুরসহ অজ্ঞাত ৩/৪ জনের নাম উল্লেখ করে সিলেট জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ও আমলী আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন (নং-৩৭১/২০১৭, ২৬/১২/২০১৭)। মামলাটি বর্তমানে পিবিআই তদন্ত করছে।
মামলা দায়েরের তার পরিবারকে কানাইঘাট থানা পুলিশের সহযোগীতায় চরিপাড়া গ্রামের মামলাবাজ ও ক্রিমিনাল মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার পরিচয়ধারী জামায়াত নেতা নজমুল হক ও তার বাহিনীর অন্যান্য সদস্যরা মামলা তুলে না নিলে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দিচ্ছে।
তিনি বলেন, জামায়াত নেতা নজমুলের সাথে শলাপরামর্শ করে পুলিশ গত ১৮ এপ্রিল তার ভাই ফয়জুর রহমানকে নরসিংদী থেকে উদ্ধার করেছে বলে প্রচার চালিয়ে একটি পাইপগানসহ তাদের বাড়িতে নিয়ে যায়। মামলাবাজ নজমুল কমান্ডারের প্ররোচনায় তারা ফয়জুর রহমানকে ডাকাত সাজিয়ে জেলের মধ্যে রেখেছে।
এক প্রশ্নের জবাবে আব্দুর রহমান বলেন, জামায়াত নেতা নজমুলের সাথে মসজিদের জমি নিয়ে বিরোধের জের ধরেই হাবিবুর রহমান হুরুহুনাকে হত্যা করা হয়েছে। পুলিশ তার হয়েই কাজ করছে বলেও তিনি সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করেন।
সবশেষে তিনি দেশের সাংবাদিক সমাজের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও পুলিশের আইজিসহ সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সহযোগিতায় নিজের ভাইয়ের মুক্তি, হাবিবুর রহমান হুরুহুনা হত্যাকান্ডের ন্যায় বিচার ও পুলিশের অত্যাচার নির্যাতন থেকে তাদের পরিবারের সদস্যদের রক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহনের দাবি জানান।
সংবাদ সম্মেলণে উপস্থিত ছিলেন, তার মা সায়বান বেগম, খালা সিরাজুন বেগম ও বোন জাকিরা বেগম।
Related News
জকিগঞ্জে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের ২০ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: সিলেটের জকিগঞ্জে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের মিছিল ও সমাবেশের অভিযোগে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলাRead More
সিলেটের র্যাব-৯ এখন এসআরবি-৯
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: সিলেটে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন-৯ এর নাম পরিবর্তন হয়ে এখন স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন-৯Read More



Comments are Closed