Main Menu

সিলেটে মা-ছেলে খুনের ঘটনায় স্বামীসহ গ্রেপ্তার তানিয়া

বৈশাখী নিউজ ২৪ ডটকম: সিলেট নগরীর মিরাবাজারে মা-ছেলে খুনের ঘটনায় আলোচিত সেই তানিয়া আক্তারকে কুমিল্লা থেকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ ব্যুরো অফ ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। এ ঘটনায় তার দ্বিতীয় স্বামী ইউসুফ মামুনকেও গ্রেফতার করা হয়েছে।
সোমবার (৯ এপ্রিল) ভোর রাতে পিবিআই’র একটি দল প্রযুক্তির সহায়তায় তাকে কুমিল্লার তিতাস উপজেলার ঘোষকান্দি গ্রাম থেকে গ্রেফতার করে। দুপুরে সিলেট নগরীর উপশহরস্থ পিবিআই কার্যলয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান পিবিআইর বিশেষ পুলিশ সুপার রেজাউল করিম মল্লিক।
এর আগে রবিবার বিকেলে সিলেট নগরীর বন্দরবাজার থেকে গ্রেফতার করা হয় তানিয়ার দ্বিতীয় স্বামী ইউসুফ মামুনকে। তার দেয়া তথ্যের ভিত্তিতেই তানিয়ার অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত হয় পিবিআই। রেজাউল বলেন- ঘটনার পর আইজিপি’র নির্দেশে ছায়া তদন্তে নামে পিআইবি। আটক মামুনের দেয়া তথ্যমতে প্রযুক্তি সহায়তায় তানিয়াকে কুমিল্লার তিতাস থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে পিবিআই’র বিশেষ পুলিশ সুপার রেজাউল জানান, গ্রেফতার তানিয়ার বাবার নাম বিলাল হোসেন। তার বাড়ি কুমিল্লার তিতাস উপজেলার ঘোষকান্দি গ্রামে। ঘটনার পর পরই তানিয়া তার পিত্রালয় ঘোষকান্দিতে আত্মগোপন করে।
তানিয়ার আগে আরেকটি বিয়ে হয়। নিজ গ্রামের এক প্রবাসীর সাথে বিয়ের পর তার একটি সন্তানও আছে। এরপর সিলেটের তালতলার ট্রাভেল এজেন্ট কর্মচারী মামুনের সাথে দ্বিতীয় বিয়ে হয় তার। মামুনের বাড়ি সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলায়। সে রামপাশার সারজন খানের পুত্র।
তবে জোড়া খুন ঘটনার সাথে মামুনের সংশ্লিষ্টতা আছে কিনা এ ব্যাপারে কিছু বলতে নারাজ এই পিবিআই কর্মকর্তা। তিনি বলেন, তদন্তের স্বার্থে আপাতত অনেক কিছুই বলা সম্ভব নয়। তবে শীঘ্রই এ সম্পর্কে গণমাধ্যমকে অবহিত করা হবে। এছাড়া তানিয়া ও মামুনকে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে পুলিশে হস্তান্তর করা হবে বলে জানান তিনি।
এর আগে গত মঙ্গলবার সিলেটের শাহপরান থানার মুক্তিরচক গ্রামের মৃত আব্দুল করিমের ছেলে নজমুল হাসান নামের এক ব্যক্তি আটক করে পুলিশ। পুলিশের প্রাথমিক ধারণা সিলেটে নিজ শয়নকক্ষে খুন হওয়া মা ও ছেলে হত্যার ঘটনায় নাজমুল জড়িত রয়েছেন। তাকে সিলেট চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করে ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা কোতোয়ালি থানার পরিদর্শক (তদন্ত) রোকেয়া খানম। শুনানি শেষে বিচারক সাইফুজ্জামান হিরো আসামির ৭ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

এদিকে, গ্রেফতারকৃত তানিয়া মিরাবাজার ডাবল হত্যাকান্ডের ঘটনায় পুলিশের সন্দেহের তালিকায় থাকা একজন। মামলার এজাহারে তানিয়াকে আসামি করা না হলেও তানিয়াসহ স্থানীয় যুবক সুমন, পাপলু ও শিপনকে নিয়ে রোকেয়ার সাথে পুর্ববিরোধের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তানিয়া ও তার স্বামী মামুন পিবিআই’র কাছে রোকয়া এবং তার ছেলে রোকনকে হত্যার কথা স্বীকার করেছে বলে জানিয়েছেন পিবিআই সিলেটের বিশেষ পুলিশ সুপার রেজাউল করিম মল্লিক।

সোমবার সন্ধ্যায় নগরীর উপশহরে পিবিআই কার্যালয়ে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে রেজাউল করিম মল্লিক বলেন- প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তানিয়া ও তার স্বামী মামুন ব্যক্তিগত আক্রোশ থেকে এই হত্যাকান্ড ঘটিয়েছে বলে স্বীকার করেছে।

তিনি আরো জানান- পূর্ব পরিকল্পনা থেকে ঘটনার দিন শুক্রবার (৩১ মার্চ) সন্ধ্যার দিকেই তানিয়া ও তার স্বামী মামুন রোকেয়া বেগমের বাসায় যায়। এদিন রাতে তারা রোকেয়া এবং তার ছেলে-মেয়েকে খাবারের সাথে ঘুমের ঔষধ খায়িয়ে অচেতন করে। রাত আনুমানিক ২টার দিকে মামুন ছুড়ি দিয়ে রোকেয়ার গলায় আঘাত করে এবং পরবর্তীতে মৃত্যু নিশ্চিত করতে রোকেয়ার শরীরে শতাধিক ছুড়িকাঘাত করে। এরপর তারা রোকেয়ার ছেলে রোকনকে ছুড়িকাঘাত করে এবং গলাটিপে মৃত্যু নিশ্চিত করে। জীবিত উদ্ধার হওয়া রোকেয়া বেগমের পাঁচ বছর বয়সী মেয়ে রাইসাকেও তারা হত্যার উদ্দ্যেশ্যে ঘুমের ঔষধ খাওয়ায় এবং গলা চেপে ধরে। রাইসাও মারা গেছে এমন ধারণায় তারা রাতেই এই বাসা ত্যাগ করে।

হত্যাকান্ড শেষে তারা মিরাবাজার খাঁরপাড়ার বাসা থেকে কুমিল্লার তিতাস উপজেলায় তানিয়ার বাড়ির উদ্দেশ্যে রওয়ানা হয়। পথিমধ্যে কোন এক যায়গায় তারা হত্যাকান্ডে ব্যবহৃত ছুড়ি ও কাপড় ফেলে যায় বলেও জানান পিবিআই’র এ কর্মকর্তা।

উল্লেখ্য, গত ১ এপ্রিল নগরীর মিরাবাজার এলাকার খাঁরপাড়ার মিতালি ১৫/জে নম্বরের সুফিয়ান আহমদের মালিকানাধীন তিনতলা বাড়ির নিচ তলা থেকে রোকেয়া বেগম (৪৫) ও তার পুত্র রবিউল ইসলাম রোকনের (১৬) মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
এদিন সকালে বাড়ির ভেতরে রোকেয়া বেগমের পাঁচ বছরের মেয়ে রাইসার কান্না ও পঁচা গন্ধ পেয়ে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দেন। খবর পেয়ে দুপুরে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। এরপর বাসার ভেতর থেকে মা ও ছেলের মরদেহ এবং ৫ বছরের শিশু রাইসাকে জীবিত উদ্ধার করে পুলিশ।

Share





Related News

Comments are Closed