Main Menu

রাজনগরে নববধুর রহস্যজনক মৃত্যু

রাজনগর প্রতিনিধি : মৌলভীবাজারের রাজনগর উপজেলার টেংরা ইউনিয়নের সালন গ্রামের নাজিম মিয়ার মেয়ে রিমা বেগমের (১৮) বিয়ের মাত্র দেড় মাসের মাথায় রহস্যজনক মৃত্যু ঘটেছে।
রিমা বেগমের স্বামী বলছেন সে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে আর রিমার পরিবার বলছে তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে।
মৌলভীবাজার ২৫০ শয্যার হাসপাতালে তার নিথর দেহ রেখেই পালিয়ে গিয়েছিল রিমার স্বামী পাভেল। এতেই রহস্য আরো ঘনিভূত হয়। পরে পুলিশের ফোন পেয়ে আবারো হাসপাতালে যায়।
ঘটনাটি ঘটে রবিবার দুপুরে রাজনগর উপজেলা পরিষদের পার্শবর্তী পদিনাপুর গ্রামের বারিক মিয়ার কলোনিতে। এরিপোর্ট লেখা পর্যন্ত থানায় কোন অভিযোগ দেয়া হয়নি।

নিহতের পরিবার ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার টেংরা ইউনিয়নের সালন গ্রামের নাজিম মিয়ার মেয়ে রিমা বেগমের (১৮) প্রেমের সম্পর্ক ছিল রাজনগর সদর ইউনিয়নের মশরিয়া গ্রামের করিম মিয়ার ছেলে ইলেক্ট্রিক মেস্ত্রী পাভেল মিয়ার সঙ্গে। মোবাইল ফোনে দীর্ঘদিন প্রেমকে পরিণয়ে বদলের জন্য গত দেড় মাস আগে পাভেল মিয়ার সঙ্গে পালিয়ে যান রিমা বেগম। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সহায়তায় প্রেমিক-প্রেমিকার অভিভাবকরা আপোস-মিমাংসায় রাজি হওয়ায় কাজি এনে তাদের বিয়ে পরিয়ে দেয়া হয়। প্রেমিক পাভেল মিয়া নববধু রিমা বেগমকে নিয়ে উপজেলা পরিষদের পার্শবর্তী পদিনাপুর গ্রামের বারিক মিয়ার কলোনিতে বাসা ভাড়া নিয়ে বসবাস করছিলেন। কিন্তু দেড় মাসের মাথায় রিমা বেগমের রহস্যজনক মৃত্যু হওয়ায় তার অভিভাবকরা দাবী করছেন তাকে (রিমা বেগম) খুন করা হয়েছে।

রিমা বেগমের খালা রুলি বেগম বলেন, সে যদি গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করতো তাহলে তারা পুলিশকে খবর দিয়ে নিয়ে আসল না কেন। মৌলভীবাজার হাসপাতালে নিয়ে আসার পর আমরা জেনেছি। এরপরও সে (পাভেল মিয়া) হাসপাতাল থেকে পালিয়ে যায়। রিমা আমাকে গত তিনদিন আগে ফোন দিয়ে বলেছিল তার (শাশুড়ী) ছেলের সাথে কেন পালিয়ে গেল এনিয়ে তাকে শরীরিক নির্যাতন করছে। আমার ভাগ্নিকে ওরা হত্যা করেছে। আমরা মামলা করবো।

মৌলভীবাজার মডেল থানা পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) তুফাজ্জুল হোসেন বলেন, আমরা সুরতহাল রিপোর্ট করে হাসপাতালের ডাক্তারের কাছে দিয়েছি। লাশের ময়নাতদন্ত ছাড়া বলা যাচ্ছেনা কীভাবে তার মৃত্যু হয়েছে।

রাজনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শ্যামল বণিক বলেন, গৃহবধুর লাশ মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে রাখা রয়েছে। সদর থানার পুলিশ লাশের ময়নাতদন্ত করছে। রিপোর্ট না পাওয়া পর্যন্ত বিস্তারিত কিছু বলা যাচ্ছে না। এব্যাপারে থানায় এখনো কোন অভিযোগ আসেনি।

Share





Related News

Comments are Closed