Main Menu

লকমার জমিদার বাড়িটি এখন ধ্বংসপ্রায়

মোঃ অালী হাসান: জয়পুরহাট জেলা প্রতিনিধিঃ দেশের উত্তর জনপদের সীমান্তবর্তী জেলা জয়পুরহাটে রয়েছে বেশ কিছু ঐতিহাসিক নিদর্শন। এসব নিদর্শনের মধ্যে একটি হলো পাঁচবিবির লকমার জমিদার বাড়ি।
প্রাচীন স্থাপত্যের সৌন্দর্য মণ্ডিত এ নিদর্শনটি যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণ করা গেলে দেশ-বিদেশের পর্যটকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করা সম্ভব হবে। সেই সাথে বাড়িয়ে তুলবে সরকারের রাজস্ব আয়। উত্তর জনপদের জয়পুরহাট জেলার প্রাচীন স্থাপত্যের অন্যতম নিদর্শন লকমার জমিদার বাড়ি। বাংলাদেশ-ভারত সীমান্ত পিলারের মাত্র ৪ গজ দূরে পাঁচবিবি উপজেলার সীমান্তবর্তী কড়িয়া গ্রামে অবস্থিত ঐতিহাসিক এ নিদর্শনটি। ধ্বংসপ্রায় এ জমিদার বাড়িটি কে কবে নির্মাণ করেছিল তার সঠিক ইতিহাস পাওয়া না গেলেও, অনেকের ধারণা প্রায় ৪/৫শ বছর আগে কোন এক জমিদার এটি নির্মাণ করেন। প্রায় তিন একর জমির উপর পৃথক দুই ভাগে নির্মিত এ জমিদার বাড়ি।লোহার রড ছাড়াই শুধু ইট, চুন-সুরকী দিয়ে নির্মিত ৩ তলা এ জমিদার বাড়ির একতলা ইতোমধ্যেই দেবে গেছে মাটির নীচে। জমিদার বাড়িটিতে রয়েছে ২৫/৩০টি কক্ষ। যার ভেতরে রয়েছে আরো ছোট ছোট কুঠরি বা কামরা। হাতিশালা, ঘোড়াশালা, কাচারিবাড়ি সবই ছিল এখানে। রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে আজ শুধু কালের সাক্ষী হয়ে ধ্বংশপ্রায় অবস্থায় নীরবে দাঁড়িয়ে আছে এ জমিদার বাড়িটি। কয়েক মাস আগেও এটি একটি জঙ্গলে পরিণত ছিল।তবে বর্তমানে এলাকার কিছু উদ্যোগী যুবক এটি পরিষ্কার করে আরো আকর্ষণীয় করে তুলেছে। প্রত্যন্ত গ্রামে অবস্থিত সীমান্ত ঘেঁষা, নয়নাভিরাম প্রাচীন এ জমিদার বাড়িটি দেশি বিদেশি দর্শনার্থীদের কাছে আরো জনপ্রিয় করে তুলতে সরকারি-বেসরকারি সহয়তার মাধমে এটি সংস্কার করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন এলাকাবাসি। পাঁচবিবি শহর থেকে ৭ কিলোমিটার দূরে এই জমিদার বাড়ির যোগাযোগ ব্যবস্থা খুব ভাল না হলেও টেম্পু আর রিকশা-ভ্যানে করে সহজেই আসা যায় এখানে। এলাকাবাসি ছাড়াও দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে প্রতিদিনই দর্শনার্থীরা আসেন প্রাচীন এই নিদর্শনটি দেখার জন্য।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পর্যটনে সম্ভবনাময় প্রাচীন স্থাপত্যের অনন্য নিদর্শন এই লকমার জমিদার বাড়িটির যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণেরর মাধ্যমে জনপ্রিয় করে তোলা সম্ভব। যা একদিকে প্রাচীন ঐতিহ্য সংরক্ষণে সহায়ক হবে। অন্যদিকে, বাড়িয়ে তুলবে সরকারের রাজস্ব আয়। আর এ প্রত্যাশা এলাকাবাসির।

Share





Related News

Comments are Closed