ভাষা সৈনিক সুমন্ত কুমার বসাকের খোঁজ নেয়নি কেউ
মোঃ অালী হাসান, জয়পুরহাট জেলা প্রতিনিধিঃ ভাষা আন্দোলনের ৬৫ বছর পেরিয়ে গেলেও আজও অবহেলিত জয়পুরহাটের আক্কেলপুর উপজেলার রায়কালী গ্রামের ভাষা সৈনিক ও প্রবীন শিক্ষক সুমন্ত কুমার বসাক। ভাষার জন্য তিনিসহ তার অনুসারীরা যে ত্যাগ শিকার করেছেন তারও মূল্যায়ন হয়নি এতোগুলো বছরে।
বয়সের ভারে ন্যুব্জ জয়পুরহাটের আক্কেলপুর উপজেলার প্রত্যন্ত রায়কালি গ্রামে ভাষা সৈনিক সুমন্ত কুমার বসাকের এখন জীবনী শক্তি কেবল ভাষা আন্দোলনের সেই সময়ের সংগ্রামী গানগুলো। কুশলাদি জিজ্ঞেসের এক পর্যায়ে ভাষা আন্দোলনের কথা বলতেই বার্ধক্যের কন্ঠ যেন প্রান ফিরে পায়, গেয়ে উঠলেন, “ রফিক, জোব্বার, বরকতের রক্তে লেখা বাংলা ভাষার নাম………।” এ সময় তাকে দেখে মনে হলো তিনি যেন ফিরে পেয়েছেন সেই সংগ্রামী দিনগুলো ।
পরন্ত বেলার এই ভাষা সৈনিক বললেন, ‘ বাবা রে, সে সময়ের কথা মনে হলে এখনো শিউরে উঠি, ঢাকা থেকে সংগ্রামের আহবান এলো, তখন বগুড়া আজিজুল হক কলেজে ইন্টারমিডিয়েটের ছাত্র আমি, সে সময় বগুড়ার ভাষা সৈনিক এ্যাডভোকেট গাজিউল হকসহ আমরা বেশ কয়েক জন তরুন রাষ্ট্র ভাষা বাংলার দাবীতে বগুড়ার রাজ পথে মিছিল, মিটিং, হতালসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেছি।
পার্শ্ববর্তী কাশিরা গ্রামের আব্দুস সামাদ তালুকদার (৮০), রায়কালী গ্রামের নৃপেন্দ্রনাথ মহন্ত (৮৫), ভাষা সৈনিক সুমন্ত বসাকের স্ত্রী নিশা রানী (৮২)সহ এলাকাবাসীরা জানান, জেলার আক্কেলপুর উপজেলার রায়কালী গ্রামের এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে ১৯২২ সালের ২৫ জানুয়ারী জন্ম নেন সুমন্ত কুমার বসাক। চঞ্চল প্রকৃতির এই মানুষটি বঙ্গবন্ধু শেখ মজিবর রহমান, হোসেন শহীদ সোহরাওর্য়াদি, মওলানা ভাসানীসহ তৎকালীন সংগ্রামী নেতৃবৃন্দের সান্নিধ্যে থেকে ১৯৫২ সালে বগুড়া আজিজুল হক কলেজে ইন্টারমিডিয়েট শ্রেনিতে অধ্যায়নরত অবস্থায় যোগ দেন ৫২’র ভাষা আন্দোলনে। সে সময় তার নেতৃত্বে আন্দোলন বেগবান হলে সরকার তার বিরুদ্ধে হুলিয়া জারি করলে ফেরারী হওয়ার কারনে ওই বছর ইন্টারমিডিয়েট পরীক্ষা দিতে পারেননি তিনি। পরের বছর ইন্টারমিডিয়েট পরীক্ষায় উর্ত্তীর্ন হলে বঙ্গবন্ধুর নির্দেশে লেখাপড়ার পাশাপাশি স্থানীয় রায়কালী গ্রামে নব গঠিত উচ্চবিদ্যালয়ে শিক্ষকতা শুরু করেন।
৪ ছেলে ও ১ মেয়ে যে যার কর্মে নিয়োজিত হলেও নিজের বাপের ভিটা ছেড়ে কোথাও যেতে চান না তিনি। ভাষা আন্দোলেনের স্মৃতি বুকে ধারন করে এখনো বেঁচে
আছেন এই ভাষা সৈনিক। রোগে শোকে আক্রান্ত বয়সের ভারে ন্যুজ ভাষা সৈনিক সুমন্ত কুমার বসাক আজকালের যুগে অনেকটাই উপেক্ষিত বলে আক্ষেপ করেন এলাকাবাসী। মহান ভাষা আন্দোলনের এক সময়ের ক্ষিপ্র সৈনিক সুমন্ত কুমার বসাক আক্ষেপের সাথে বলেন, কত রক্তের বিনিময়ে, এত ত্যাগ স্বীকার করে অর্জিত বাংলা ভাষা এখন যান্ত্রিক সভ্যতা আর স্যাটেলাইট টেলিভিশনের আগ্রাসনে বাংলা চর্চায় ভাটা পরে যাচ্ছে বলে জানান তিনি। শুধু তাই নয়, ভাষার জন্য যারা সংগ্রাম করেছেন তাদের খোঁজ খবর পর্যন্ত নেওয়া হয়না বলে আক্ষেপ করে তিনি বলেন, “পরন্ত বেলায় আর চাওয়া-পাওয়ার কিছু নেই, এলাকাবাসীরা জানান, ভাষা আন্দোলন পরবর্তী তিনি রায়কালি উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা শুরু করে ১৯৯১ সালে অবসরে যান সুমন্ত কুমার বসাক। মহান ভাষা আন্দোলনের এই বীর সৈনিককে তার পড়ন্ত বেলায় হলেও যথাযথ মর্যাদা দেওয়া হোক এমনই দাবি এলাকাবাসির।
এ ব্যাপারে জয়পুরহাট জেলা প্রশাসক মোকাম্মেল হক জানান, সরকারের পক্ষ থেকে ভাষা সৈনিকদের যথাযথ মর্যাদা দেওয়া হবে।
Related News
পাবনায় মাঠে জমে থাকা বৃষ্টির পানিতে ডুবে ৩ শিশুর মৃত্যু
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: পাবনা সদর উপজেলায় বাড়ির পাশের মাঠে জমে থাকা বৃষ্টির পানিতে গোসল করতেRead More
স্কুল ফিডিংয়ের খাবার খেয়ে অসুস্থ ১৫ শিক্ষার্থী
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: চাঁপাইনবাবগঞ্জে স্কুল ফিডিং কর্মসূচির খাবার খেয়ে ১৫ জন শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে হাসপাতালেRead More



Comments are Closed