Main Menu

টমেটো চাষে ভাগ্যের চাকা ঘুরালেন আবু বক্কর

কামরুল হাসান সবুজ, ছাতক (সুনামগঞ্জ) সংবাদদাতা: ছাতকে অশেষ পরিশ্রমেই নিজের ভাগ্যের চাকা ঘুরালেন বক্কর নামের এক সবজি চাষি। এক সময়ের মাওলানা আবু বক্কর এখন সর্বমহলে নিজের পরিচিতি পেয়েছেন টমেটো বক্কর নামেই।
সিলেটের ফতেহপুর কামিল মাদরাসা থেকে এমএম পাস করে চাকুরি জুটাতে না পেরে ভবঘুরের মতো চাকুরির জন্যে মানুষের দ্বারে দ্বারে ঘুরে বেড়িয়েছেন তিনি। কিন্তু কোথাও চাকুরির মতো সোনার হরিণকে নিজের নাগালে পাওয়া যায়নি। অবশেষে শূন্য হাতে বড় থেকে অনেক বড় হবার স্বপ্নে বিভোর হয়ে বিভিন্ন অবলম্বন খুঁজতে থাকেন। তার সেসব স্বপ্নের বীজ বুনতে বুনতে একদিন গজিয়েছে বাস্তবতার চারা। এক সময়ে সেসবে অঙ্কুরিত হয়েছে স্বপ্নকণা। স্বপ্ন আর বাস্তবতার দোলাচলে তার নামটি সফলতা পেয়েছে ‘টমেটো বক্কর’ নামেই।
জানা যায়, উপজেলার গোবিন্দগঞ্জ-সৈদেগাঁও ইউনিয়নের বিলপার গ্রামের মৃত ছমির উদ্দিনের পুত্র আবু বক্কর। নিজের ৩ কন্যা সন্তান নিয়ে সংসার চলতো নুন আনতে পান্তা ফুরানোর মতো। সে এখন সম্পূর্ণ ফরমালিন মুক্ত সবজি উৎপাদনে একজন সফল কৃষক। গোবর ও ময়লা-আবর্জনা দিয়ে জৈব সার তৈরি করে তিনি উৎপাদন করছেন স্বাস্থ্য সম্মত ও পুষ্টিকর সবজি। তার সবজির জন্যে বাজারে অধির আগ্রহে বসে থাকা ক্রেতারা ভীড় জমান। এজন্যে তিনি এখন পরিচিতি পেয়েছে সবার প্রিয়জন আদর্শ চাষি হিসেবে। এখন ৩ একর ভূমির মধ্যে গড়ে তোলা হয়েছে বিশাল ফলসম্ভার খ্যাত সবজি বাগান। চাকুরির সোনার হরিণ ধরতে না পেরে কৃষির উপর খেয়ালী হয়ে উঠেন তিনি। পরে এলাকার কিছু পরিত্যক্ত ভূমি লিজ নিয়ে সেখানে প্রথমে টমেটো রোপন করে ব্যাপক সফলতা অর্জন করেন। এখন তার এ টমেটো চাষ প্রতি বছরে বৃদ্ধি পেয়ে বর্তমানে সাফল্যের শীর্ষে পৌঁছে গেছেন। শুধু টমেটো নয়, তার খামারে অন্যান্য মৌসুমী সবজিও যোগ হয়েছে। এখানে ধান, শিম, টমেটো, নাগা মরিছ, বেগুন, কলা, লেবু, গরু, হাঁস ও মাছ চাষ করা হয় অত্যন্ত যত্নের সাথে। গরুর খামার সংলগ্ন এলাকায় গোবর শুকিয়ে তৈরি করা হচ্ছে জৈব সার। প্রায় এক ডজন শ্রমিক দৈনন্দিন কাজ করছেন তার বহুমূখি খামারে। ভূমিকে কখনও অনাবাদি ফেলে রাখেন না এ উদ্যমী কৃষক। টমেটো বাগানের মধ্যে লাগানো হয়েছে করলা গাছ। টমেটো ধরা শেষ হলে করলা গাছ বেড়ে উঠবে। এভাবেই চলছে তার খামারে ফসল উৎপাদন কার্যক্রম।
আবু বক্কর জানান, প্রতি সপ্তাহে সোম ও বৃহস্পতিবার স্থানীয় গোবিন্দগঞ্জ বাজারে ৫শ’ কেজি শিম, ৩শ’ কেজি টমেটো, ১শ’ কেজি বেগুনসহ অন্যান্য উৎপাদিত ফসল বিক্রি করেন। গত ২০১৭ সালের আগষ্ট মাসে সবজি খামারে ৩ লাখ টাকা ব্যয়ে সবজি চাষ করেন। ৩ মাসের মধ্যে সবজি বিক্রি শুরু হয়। এখন পূঁজির বিনিয়োগের ৩ লাখ টাকা উত্তোলন করে লাভের মধ্যে রয়েছেন। এবারে ৫ থেকে ৬ লাখ টাকা আয় করবেন বলে তিনি আশাবাদি। এছাড়া প্রতি সপ্তাহে প্রায় ৩০ হাজার টাকার শিম, টমেটো ও বেগুন বিক্রি করে থাকেন বলে জানান আবু বক্কর।
উপজেলার উপ-সহকারী কৃষি অফিসার পল্লব ভট্টাচার্য্য জানান, উপজেলার মধ্যে একজন আদর্শ চাষি হচ্ছেন আবু বক্কর। কৃষি অফিস থেকে পরামর্শসহ তাকে নিয়মিত সহযোগিতা করা হচ্ছে।

Share





Related News

Comments are Closed