Main Menu

নীলফামারীতে নদী উন্মুক্ত রাখার দাবীতে মানববন্ধন

ময়নুল হক, নীলফামারী জেলা প্রতিনিধি: নীলফামারীর ডোমারে দেওনাই নদী রক্ষা ও নদীতে মাছ ধরা উন্মুক্ত রাখার দাবীতে মানববন্ধন করেছে হরিণচড়া ইউনিয়নবাসী।
মঙ্গলবার বিকেলে ইউনিয়নের শেওটগাড়ি পুর্ব হাজিপাড়াস্থ দেওনাই নদীর পাড়ে হরিণচড়া ইউনিয়ন বাসীর ব্যানারে অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে ইউনিয়নের বিভিন্ন শ্রেণী পেশার সহস্রাধিক মানুষ অংশ গ্রহণ করে।
ঘন্টা ব্যাপী মানববন্ধন চলকালে সেখানে হরিণচড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আজিজুল ইসলামের সভাপতিত্বে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন, হরিণচড়া ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি আরিফুর রহমান মিলন, ওই ইউনিয়নের শালমারা বছিরণ নেছা স্কুল এন্ড কলেজের সহকারী শিক্ষক ওয়াদুদ রহমান, হংসরাজ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আব্দুল জলিল, মৎস্যজীবী বেলাল হোসেন, আব্দুল খালেক, আমিনার রহমান প্রমুখ।
হরিনচাড়া শেওটগাড়ি পূর্ব হাজীপাড়া গ্রামের বাসিন্দা ওয়াদুদ রহমান জানান, দেওনাই নদী ডোমার উপজেলার হরিণচড়া ও নীলফামারী সদর উপজেলার লক্ষীচাপ ইউনিয়নের উপর দিয়ে প্রবাহিত।
এই নদীতে বিভিন্ন প্রজাতির মাছ থাকায় দীর্ঘ দিন যাবত দুই ইউনিয়নের শতাধিক জেলে সম্প্রদায়সহ গরীব ও অসহায় মানুষ নদীতে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করে আসছে।
কিন্তু হঠ্যাৎ করে চলতি বছরের মে মাসে নীলফামারী সদর উপজেলার লক্ষীচাপ ইউনিয়নের সুবজপাড়া যুব মৎস্য চাষী সমবায় সমিতির সদস্যরা অবৈধ ভাবে নদীতে বাঁশের ভেড়া দিয়ে দখল করে নদীতে মাছ চাষ শুরু করে।
এতে করে হরিণচড়া ও লক্ষীচাপ ইউনিয়নের শতাধিক জেলে সম্প্রদায়সহ গরীব ও অসহায় মানুষ যারা নদীতে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করে আসছিল তারা সকলে কর্মহীন হয়ে পরিবার পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছে।
দুই ইউনিয়নের মানুষজন নদীতে মাছ ধরতে নামলে ওই সমবায় সমিতির সভাপতি নুরন্নবী ও সাধারণ সম্পাদক ফজলার তাদের বাহিনী নিয়ে নদীতে মাছ ধরা লোকজনকে বাধা দেয় ও মারধর করে।
নদী দখলমুক্ত করার জন্য চলতি বছরের ২ আগস্ট জেলা প্রশাসক এবং ১০ সেপ্টেম্বর রংপুর বিভাগীয় কমিশনার বরাবরে স্মারকলিপি দিয়েছে হরণিচড়া ইউনিয়নবাসী।
বিষয়টি সমাধানে আজ পর্যন্ত জেলা প্রশাসক কিংবা বিভাগীয় কমিশনার কোন পদক্ষেপ গ্রহণ না করায় যে কোন সময় বড় ধনের সংঘর্ষসহ প্রাণহানির ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে।
হরিণচড়া ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি আরিফুর রহমান মিলন জানান, নদী রাষ্ট্রীয় সম্পদ। এটি কারো পৈত্রিক সম্পত্তি নয়, এটি সকলের জন্য উন্মুক্ত।
কিন্তু লক্ষীচাপ ইউনিয়নের সুবজপাড়া যুব মৎস্য চাষী সমবায় সমিতির সদস্যরা অবৈধভাবে নদী দখল করে রেখেছে।
নদী দখল মুক্ত করতে গেলে ওই সমিতির লোকজন আমাদের নামে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানী করে চলছে।
আমরা হানাহানি চাই না, আমরা শান্তি চাই। তাই দ্রত নদী দখলমুক্তসহ সকলের জন্য উন্মুক্ত করতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।
হরিণচড়া ইউনিয়ন পরিষদেও চেয়ারম্যান আজিজুল ইসলাম জানান, নদীতে মাছ ধরা বন্ধ করতে গত ১৪ সেপ্টেম্বর নীলফামারী সদর উপজেলার লক্ষীচাপ ইউনিয়নের সুবজপাড়া যুব মৎস্য চাষী সমবায় সমিতির সদস্যরা বাঁশের ভেড়া দিতে আসলে হরিণচাড়া ইউনিয়নের শেওটগাড়ি পুর্ব হাজিপাড়া গ্রামবাসীর সাথে সংঘর্ষ বাধে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ৪০ জন আহত হন।
চেয়ারম্যান আরও জানান, সংঘর্ষের ঘটনা ঘটার দিন ডোমার ও নীলফামারী সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বিষয়টি সমাধানের আশ্বাস দিয়েছেন। তবে কবে তা তাঁরা বাস্তবায়ন করবেন তা আমার জানা নেই।
এদিকে লক্ষীচাপা ইউনিয়নের সুবজপাড়া যুব মৎস্য চাষী সমবায় সমিতির সভাপতি নুরন্নবী জানান, আমরা কোন নদী দখল করিনি। জেলে সম্প্রদায়ের লোকজনসহ গ্রামের গরীব ও অসহায় মানুষ মিলে আমাদের লক্ষীচাপ ইউনিয়ন পরিষদের এই খাল লিজ নিয়ে মাছ চাষ করছি।
বরং হরিণচড়া ইউনিয়নের শেওটগাড়ী গ্রামের লোকজন জোরপূর্বক এটিকে নদী দাবি করে আমাদের মাছ ধরে নিয়ে যায়। তাদের মাছ ধরতে নিষেধ করতে গেলে বরং তারাই আমাদের ওপর বেশ কয়েক বার হামলা চালিয়েছে।

 

Share





Related News

Comments are Closed