আলোখেকো গ্রহের সন্ধান মিলল এই প্রথম
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: এই প্রথমবার আবিষ্কৃত হলো আলো খেকো গ্রহ। মহাকাশের এই সদ্য আবিষ্কৃত কৃষ্ণ গ্রহটি অনেকটা ব্ল্যাক হোলের মতো।
গ্রহটি তার নক্ষত্রের ফেলা আলোর প্রায় পুরোটাই (৯৪ থেকে ৯৬ শতাংশ) খেয়ে ফেলে। আলোই তার এক ও একমাত্র ‘খাদ্যবস্তু’! তবে সেই আলো খায় গ্রহটির অত্যন্ত ঘন বায়ুমণ্ডল। ব্লটিং পেপারের মতো গ্রহটির বায়ুমণ্ডল প্রায় সবটুকু আলোই শুষে নেয়।
মহাকাশের এই ভিন গ্রহটির আয়ু কিন্তু খুব বেশি নয়। কারণ, তার বায়ুমণ্ডল আর তার শরীরের অংশ একটু একটু করে খেয়ে নিচ্ছে তার জন্মদাতা নক্ষত্র। ফলে এক দিন তার জন্মদাতা নক্ষত্রের সর্বগ্রাসী ক্ষুধায় আত্মবলি দিতে হবে ভিন গ্রহটিকে।
সেই নক্ষত্রটির নাম- ‘ওয়াস্প ১২’। আর সেই নক্ষত্রটিকে পাক মেরে চলেছে যে ‘আলোখেকো’ ভিন গ্রহটি, তার নাম- ‘ওয়াস্প-১২বি’। এখনও পর্যন্ত যে প্রায় সাড়ে ৩ হাজার ভিন গ্রহ আবিষ্কৃত হয়েছে, ‘ওয়াস্প-১২বি’ই তার মধ্যে একমাত্র ‘আলোখেকো গ্রহ’। এমন আজব গ্রহের সন্ধান এর আগেনি মেলেনি।
গ্রহটি অবশ্য পৃথিবী থেকে অনেকটাই দূরে। আলোর গতিতে ছুটলে গ্রহটিতে পৌঁছ্তে আমাদের সময় লাগবে ১ হাজার ৪০০ বছর। সেটি রয়েছে ‘অরিগা’ নক্ষত্রপুঞ্জে। হাবল স্পেস টেলিস্কোপে প্রথম ওই গ্রহটির হদিশ মিলেছিল ২০০৮ সালে। পরে নাসার স্পিৎজার স্পেস টেলিস্কোপ, চন্দ্র এক্স-রে অবজারভেটরিও সেই গ্রহটির অস্তিত্বের প্রমাণ পেয়েছে।
তবে সেই গ্রহটির যে এমন আলো খাওয় স্বভাব রয়েছে, হাবল স্পেস টেলিস্কোপের ইমেজিং স্পেকট্রোগ্রাফে তা ধরা পড়েছে সম্প্রতি। আর সেই গবেষণাপত্রটি প্রকাশিত হয়েছে গত ১৪ সেপ্টেম্বর। আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান-জার্নাল ‘অ্যাস্ট্রোফিজিক্যাল জার্নাল লেটার্স’-এ। যার শিরোনাম- ‘দ্য ভেরি লো অ্যালবেডো অফ ওয়াস্প-১২বি ফ্রম স্পেকট্রাল একলিপ্স অবজারভেশন উইদ হাবল’।
১৪০০ আলোকবর্ষ দূরে থাকা ওই ভিন গ্রহটি বৃহস্পতির দ্বিগুণ। আক্ষরিক অর্থেই দানব গ্রহ! গ্রহদের জাতে এরা ‘হট জুপিটার’। বৃহস্পতি বা তার চেয়ে বড় আকারের হলেও এরা আদতে গ্যাসে ভরা গ্রহ। পৃথিবী, মঙ্গলের মতো পাথুরে গ্রহ নয়।
পৃথিবীর মতো ‘ওয়াস্প-১২বি’র আবর্ত গতি নেই। আর নক্ষত্রের অতি কাছে আছে বলেই ‘ওয়াস্প-১২বি’র একটা দিক সব সময় থাকে তার নক্ষত্রের দিকে। আর অন্য দিকটি থাকে তার নক্ষত্রের ঠিক উল্টো দিকে। ফলে, ভিন গ্রহটির একটা দিক সব সময় জ্বলেপুড়ে যাচ্ছে তার নক্ষত্রের আলো, তাপে। আর অন্য দিকটা সব সময়ই ঢাকা থাকছে জমাট কালো অন্ধকারে। জ্যোতির্বিজ্ঞানের পরিভাষায় এটাকেই বলে ‘টাইড্যালি লক্ড’ অবস্থা। পৃথিবীর সঙ্গে চাঁদ রয়েছে যে ভাবে।
হাবল টেলিস্কোপের পাঠানো তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গিয়েছে ‘ওয়াস্প-১২বি’র যে দিকটা সব সময় তার নক্ষত্রের দিকে থাকে, তার তাপমাত্রা ৪ হাজার ৬০০ ডিগ্রি ফারেনহাইট। আর যে দিকটা সব সময় থাকে নক্ষত্রের উল্টো দিকে, তা তুলনায় অনেকটা ঠান্ডা। সেখানকার তাপমাত্রা ২ হাজার ২০০ ডিগ্রি ফারেনহাইটের মতো।
Related News
ফেসবুকের ভেরিফায়েড ব্যাজ এবার মিলবে ফ্রিতে, যেভাবে পাবেন
প্রযুক্তি ডেস্ক: বর্তমানে ক্রমশ আর্টিফিশিয়াল ইনটেলিজেন্স বা এআই-ভিত্তিক ভুয়া প্রোফাইল, ছবি-ভিডিওসহ বিভিন্ন ধরনের গুজব ছড়িয়েRead More
দেশের ৬৪ জেলায় ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণ দেবে সরকার, ১৮ হাজার টাকা ভাতা
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: দেশের ৬৪ জেলায় শিক্ষিত কর্মপ্রত্যাশী যুবকদের দক্ষতা বৃদ্ধি ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যেRead More



Comments are Closed