সুরমা নদীতে অবৈধ বালু উত্তোলনের ঘটনায় মামলা
বিশেষ সংবাদদাতা: সিলেটের সুূরমা নদীর কানাইঘাট এলাকায় অবৈধ বালু উত্তোলনের দায়ে শাসকদলীয় এক নেতাসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। মামলায় পৌর আওয়ামী লীগ নেতা হারুনুর রশিদ ও তার সহযোগী মশউদ আহমদ পলাতক রয়েছেন। বুধবার (২৭ সেপ্টেম্বর) উপজেলার গাছবাড়ি ইউনিয়ন ভূমি অফিসের তহসীলদার নূরুল আমীন বাদী হয়ে এ মামলা করেন। এর আগের দিন উপজেলার গাছবাড়ি নিজদলইকান্দি এলাকা থেকে অবৈধ বালু উত্তোলনকালে হারুণ ও মশউদের একটি হাইড্রলিক ড্রেজার ও একটি বেলগ্রেড জব্ধ করে উপজেলা প্রশাসন।
অভিয়োগ পাওয়া গেছে, কানাইঘাট উপজেলাধীন সুরমা নদীতে হাইকোর্টের নিষেধাজ্ঞা থাকায় বালুমহালগুলো কাউকে ইজারা দেয়া হচ্ছে না। আর এ সুযোগে বালুখেকোরা সম্পূর্ন বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। প্রত্যহ ১০/১২টি হাইড্রলিক ড্রেজার ব্যবহার করে হাজার ঘনফুট বালু ও মাটি তুলে বিক্রি করছিলেন তারা। শাসকদলের নাম ভাঙ্গিয়ে যথেচ্ছ বালু উত্তোলন ও বিক্রির মাধ্যমে কামাই করে চলেছে কোটি কোটি টাকা । ফলে হুমকির মূখে সরকারী-বেসরকারী বিভিন্ন স্থাপনা সহ বিস্তীর্ন জনপদ। অতি স¤প্রতি কানাইঘাট উপজেলাবাসী বালুখেকোদের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদী হয়ে উঠেছেন। তারা মাটিখেকোদের প্রতিহত করতে না পেরে প্রশাসন ও আইনশৃংখলা রক্ষাবাহিনীর দ্বারস্থ হয়েছেন। গত কয়েকদিনে সিলেটের জেলা প্রশাসক, কানাইঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বরাবরে একাধিকবার আবেদন নিবেদন করে সুরমা নদীর দুই তীরবাসী তাদের জানমাল রক্ষার দাবি জানিয়েছেন। যার ফলে দেরীতে হলেও নড়েচড়ে বসে উপজেলা প্রশাসন। গত মঙ্গলবার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তহসীনা বেগম নিজে উপস্থিত থেকে অভিযান পরিচালনা করেন। তিনি সুরমা নদীর গাছবাড়ি নিজদলইকান্দি এলাকায় অভিযান করে অবৈধ বালু উত্তোলনে ব্যবহৃত একটি হাইড্রলিক ড্রেজার ও বালুভর্তি একটি বেলগ্রেড জব্ধ করেন। এসময় বালুখেকো হারুনুর রশিদ, মশউদ আহমদ ও নাজিম দৌড়ে পালিয়ে যায়। পরে কানাইঘাট গাছবাড়ি ইউনিয়ন ভূমি অফিসের তহসীলদার নূরুল আমীন বাদী হয়ে ২৭ সেপ্টেম্বর বুধবার কানাইঘাট থানায় একটি মামলা {নং-১৬(৯)১৭}করেন। মামলায় কাইঘাট পৌর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক ও সাবেক উপজেলা ছাত্রলীগ নেতা হুরুনুর রশিদ ও তার ব্যবসায়ী পার্টনার মশউদ আহমদকে আসামী করা হয়েছে। এর পর থেকে আওয়ামী লীগ নেতা হারুণ ও মশউদ পলাতক রয়েছেন। মঙ্গলবারের অভিযান ও মামলার পর শসকদলীয় মাটিখেকোরা কিছুটা নিভৃত হলে এলাকাবাসী স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেন। তবে শাসকদল তাদের লুটপাট ভিন্নখাতে প্রবাহিত করতে অপপ্রচারের মাধ্যমে অন্যদের ঘাড়ে দোষ চাপাতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন বলে অভিযোগে প্রকাশ।
কানাইঘাট থানার অফিসার ইনচার্জ আব্দুল আহাদ মামলার সত্যতা নিশ্চিত করে সাংবাদিকদের জানান, মামলার পর থেকে আসামীরা আইনত পলাতক রয়েছেন।
Related News
কোম্পানীগঞ্জে ৮৬ লাখ টাকার ভারতীয় ওষুধ-পণ্য জব্দ, আটক ২
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায় পুলিশের পৃথক অভিযানে বিপুল পরিমাণ ভারতীয় পণ্য ও বিভিন্নRead More
কানাইঘাটে চোরাইপণ্যবাহী পিকআপের ধাক্কায় কিশোরের মৃত্যু
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: সিলেটের কানাইঘাট উপজেলার লক্ষ্মীপ্রসাদ পশ্চিম ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী সুনারতনপুঞ্জি গ্রামে পিকআপের চাকায় পিষ্টRead More



Comments are Closed