প্রকৃতির অনন্য রূপসী কণ্যা জলবন রাতারগুল
স্বপন তালুকদার: তুমি কথা কোয়ো না, তুমি চেয়ে চলে যাও।
এই চাঁদের অালোতে তুমি হেসে গ’লে যাও।
অামি ঘুমের ঘোরে চাঁদের পানে চেয়ে থাকি মধুর প্রাণে,
তোমার অাঁখির মতন দুটি তারায় ঢালুক কিরণধারা।অামি রাতারগুল প্রকৃতির অনন্য জলবনে প্রবেশ করে কবি গুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গানের এই অংশটুকু মনে পড়ে গেলে। গানের নায়িকার মতোই অকৃপণ হস্তে প্রকৃতি সাজিয়েছেন সিলেটের গোয়াইন ঘাট উপজেলার ফতেপুরে ইউনিয়নে অবস্থিত প্রকৃতির অনন্য রূপসী কণ্যা জলবন রাতারগুলকে।অাসলেই রাতারগুলে ঢুকে কারোর মুখে কোন কথা থাকার কথা নয়। শুধু দুচোখ ভরে প্রকৃতির এই অপার নয়নাভিরাম দৃশ্য অবলোকন করা ছাড়া।অনেকদিন ধরেই রাতারগুলের কথা শোনে অাসছি, কিন্তু যাওয়া হয়নি রাতারগুলের পাশে সিলেট শহরে থেকেও। সাহেববাজারের রাস্তায় রামনগর হয়ে চৌমুহনী থেকে নৌকা ভাড়া করে অামরা যখন রাতারগুল প্রবেশ করলাম তখন নিঝুম দুপুর। সিলেট শহর থেকে রাতারগুলের দুরত্ব ২৬ কিলোমিটার। সিলেট শহরের অাম্বরখানা হতে সিএনজি অটোরিকসা দুই থেকে অাড়াই শ টাকা ভাড়ায় যাওয়া যায়। রাতারগুলে হিজল গাছ অার করচ গাছের ছায়ায় নৌকায় করে প্রকৃতির অপার নয়নাভিরাম দৃশ্য অবলোকন যেন চাঁদের অালোতে রবীন্দ্রনাথের গানের নায়িকার অনিন্দ্য সৌন্দর্য দেখার মতোই। দেশের একমাত্র মিঠাপানির জলবন রাতারগুল। এটি মূলত সোয়াম্পফরেস্ট।বর্ষায় ১০ বা ১২ ফুটের মতো পানি থাকে এবং শীতে রাতারগুলের অনেক অংশ শুকিয়ে যায়। রাতারগুল জলবনে হিজল, করচ, বনজাম, মুর্তা নামের গুল্মজাতীয় উদ্ভিদের অাবাসস্থল। মুর্তাকে সিলেটের স্থানীয় ভাষায় রাতাগাছ বলে। রাতাগাছের নামানুসারে এই জলবনের নাম রাতারগুল। রাতার গুলে এই জলমগ্ন গাছগুলো যেন পরম মততায় একে অন্যকে জড়াজড়ি করে ভেসে অাছে জলারবন জুড়ে।গাছের ডালপালায় ছাওয়া লতা-গুল্ম মিলেমিশে এক বিশাল সবুজের অাচ্ছাদনে ফুটিয়ে তুলেছে এক অপরূপ দৃশ্য।জল অার গাছের অপরূপ মিলন মুগ্ধ করছে রাতার গুলে অাসার দর্শনার্থী পর্যটকদের। শহরের ব্যস্ত কোলাহলপূর্ণ জনজীবনে একটু স্বস্তির নি:শ্বাস নিতে বর্ষায় রাতারগুলের বুনোজল ঘুরে বেড়িয়ে প্রকৃতির সান্নিধ্যে কিছু সময় কাটানোর এক অনুপম স্থান বলেই অামার মনে হয়েছে।বাংলাদেশের অন্যসব বন থেকে রাতারগুল সম্পূর্ণ অালাদা। ঘন গাছের ঝোপ ডিঙি নৌকায় হিজল, করচের ফাঁক গলে গাছের সবুজ পাতার ছায়ায় সবুজ অার জলের মনোরম দৃশ্য অবলোকনের মজা ভাষায় বর্ণণাতীত। অার হাওরের স্বচ্ছ জলের নিচে দৃশ্যমান জলজ উদ্ভিদ জলের রঙকে করে তুলেছে রাতারগুলের অনন্য সুন্দরে।এককথায় অসাধারণ। যা রাতারগুলকে দিয়েছে প্রকৃতির অপার সৌন্দর্য্যের গৌরব। রাতারগুলের জলারবনে পাখিদের মধ্যে অাছে সাদা বক, কানা বক, মাছরাঙা, চিল, ঘুঘু, ডুপি ও বাজ। শীত মৌসমে অথিতি পাখিদের ভীড় জমে। শীতে রাতার গুলের কিছু অংশের অাপনি ডিঙি নৌকায় চলাচল করতে পারেন। এই সময়টায় এসব পাখিদের কিচিমিচির শব্দ পর্যটকদের জলারবনের গভীরে প্রবেশের পথ দেখিয়ে দিবে। এবং পাখির কলতান ভরিয়ে তুলবে পর্যটকদের মন।
অায়তনের দিকে থেকে অনেক ছোট হলেও প্রকৃতির অপার সৌন্দর্য্য সুন্দরের চেয়ে কম নয়।অনেক প্রকৃতি প্রেমী রাতারগুলকে বাংলাদেশের দ্বিতীয় সুন্দরবন বলে মনে করেন। বর্ষার মৌসমে এখানে ভীড় করেন হাজার হাজার পর্যটক। রাতারগুল হতে পারে দেশের অন্যতম পর্যটন কেন্দ্র। পর্যটকদের অনন্য অাকর্ষনের জায়গা। যদি রাতারগুলে যাওয়া অাসার রাস্তা ভালো করা হয় এবং অত্র এলাকায় থাকা এবং খাওয়ার সুব্যবস্থা করা যায়, তবে এই রাতারগুল জলারবন থেকে কোটি কোটি রাজস্ব অর্জন সম্ভব হতো। রাতারগুলের অাসেপাশে নেই মান সম্মত খাবারের কোন হোটেল বা ব্যবস্থা। যা দেশী বিদেশী পর্যটকদের অাকর্ষনের প্রধান অন্তরায়।অামাদের রাতারগুল ভ্রমনে কোনরূপ সমস্যা হয়নি। অামরা অনেক শিক্ষক বন্ধু একসাথে গত ২৩ সেপ্টেম্বর রাতারগুল ঘুরে এলাম। এখানকার স্থানীয় শিক্ষক নুরুল অামীন ভাইদের অাতিথেয়তায় সত্যি অামরা অভিভূত। অার শামসুল ইসলাম ভাইয়ের অ্যাপায়ণে অামরা রীতিমত মুগ্ধ।বন্ধুদের এমন অাতিথেয়তা অার রাতারগুলের প্রকৃতিক সৌন্দর্য দর্শন বারবার নয়নাভিরাম জলারবনে নিয়ে যাবে। প্রকৃতি প্রেমী বন্ধুগণ অবসরে অাপনিও একটু ঘুরে দেখে যেতে পারেন প্রকৃতির অনন্য রূপসী কণ্যা জলবন রাতারগুল।
Related News
এক ভিসায় যাওয়া যাবে মধ্যপ্রাচ্যের ৬ দেশে!
পর্যটন ডেস্ক: উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদ (জিসিসি) ভুক্ত ছয়টি দেশে ভ্রমণের জন্য বহুল প্রতীক্ষিত একক পর্যটনRead More
বাংলাদেশি রোগীদের চিকিৎসা যাত্রা সহজ করতে মালয়েশিয়ার নতুন উদ্যোগ
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: বাংলাদেশি রোগীদের মালয়েশিয়ায় চিকিৎসা গ্রহণের প্রক্রিয়া আরও সহজ ও রোগীবান্ধব করতে উদ্যোগRead More



Comments are Closed