জৈন্তাপুরে পরকিয়ায় প্রাণ গেল জামালের
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: পরকিয়া প্রেমের বলি হলেন সিলেটের জৈন্তাপুরে নিখোঁজ হওয়া এক সন্তানের জনক জামাল হোসেন। নিখোঁজের তিনদিনপর নদী থেকে হাত-পা বাধা লাশ উদ্ধারের পর এ ঘটনায় নিহতের পিতা বাদী হয়ে জৈন্তাপুর থানায় মামলা দায়ের করেছেন। এ ঘটনায় প্রেমিকাসহ ৪জনকে আটক করেছে পুলিশ।
এদিকে নিহত জামাল হোসেন বৃহত্তর জৈন্তাপুর পাথর শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়নের ৫নং ইউনিটের সদস্য হওয়ায় তার খুনিদের দৃষ্টান্ত মুলক শাস্তির দাবীতে শ্রমিক ইউনিয়নের নেতৃবৃন্দ প্রতিবাদ সমাবেশ করেছে।
পুলিশ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়- গত ৫ আগষ্ট জৈন্তাপুর উপজেলার বিরাইমারা গ্রামের আব্দুল কুদ্দুস মিয়ার ছেলে এক সন্তানের জনক জামাল হোসেন (২৮) নিখোঁজ হন। ৮ আগষ্ট মঙ্গলবার সকাল ১১টায় কলসী নদীতে হাত-পায়ে পাথর বাঁধা অবস্থায় জামালের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এঘটনায় তাৎক্ষনীক ভাবে পুলিশ ৪ জনকে আটক করে। তারা হলেন- জৈন্তাপুর উপজেলার কেন্দ্রি ঝিঙ্গাবাড়ী গ্রামের ময়নুল ইসলামের স্ত্রী আমেনা বেগম (২২), একই পরিবারের সিরাজ উদ্দিন মিস্ত্রির ছেলে আয়নুল ইসলাম (৩০), জয়নুল ইসলাম (২৪), একই গ্রামের কলিম উদ্দিন বাট্টি মিয়ার ছেলে মনির হোসেন (২২)। আমেনা বেগম নিহত জামালের নিকট আত্মীয় হওয়ায় দীর্ঘ দিন হতে তাদের মধ্যে পরকিয়া প্রেমের সম্পর্ক চলে আসছিল। এক পর্যায় জামাল এবং আমেনার পৃথক পৃথক স্থানে বিয়ে হয়। বর্তমানে জামাল হোসেনের এক বছরে একটি কন্যা সন্তান রয়েছে। প্রেম মানে না কোন বাঁধা তাই আমেনার সাথে থেকেই যায় জামালের সু-সম্পর্ক। এনিয়ে প্রায়ই একে অপরের সাথে যোগাযোগ ছিল। এক পর্যায়ে আমেনার স্বামীর পরিবার পরকিয়া সম্পর্কের বিষয়টি জেনে যায়। তারা সম্পর্ক ছিন্ন করতে আমেনাকে নিয়ে হত্যার নীল নকশা তৈরী করে। সে অনুযায়ী ৫ আগষ্ট শুক্রবার আমেনার মাধ্যমে জামালকে কেন্দ্রি গ্রামে ডেকে নিয়ে গিয়ে তাকে শারিরিক ভাবে নির্যাতন চালিয়ে হত্যা করে নরপশুরা। শুধু হত্যা করে ক্ষান্ত হয়নি নরপশুরা। তারা নিহত জামালের অন্ডকোষ এবং একটি চোঁখ নষ্ট করে দেয়। লাশ গুম করতে হাত-পায়ে পাথর বেঁধে কলসী নদীতে ফেলে দেয় আমেনার শশুরবাড়ীর লোকজন। পুলিশ ও জামালের আত্মীয়-স্বজন অনেক খোঁজাখুজির পর জামালকে পাওয়া যায়নি। অবশেষে তার মৃতদেহটি পরকিয়া প্রেমিকার শ্বশুর বাড়ীর সন্নিকটে কলসী নদীতে ভেসে উঠে। ফলে সন্দেহের ধানা বাঁধে আমেনার শ্বশুরের পরিবারের প্রতি। তাৎক্ষনিক ভাবে পুলিশ প্রেমিকা আমেনা ও তার ২ দেবর ও তাদের ১ সহযোগীকে গ্রেফতার করে।

এদিকে নিহত জামাল হোসেন বৃহত্তর জৈন্তাপুর পাথর শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়নের ৫নং ইউনিটের সদস্য হওয়ায় ঘটনার সুষ্ট বিচারের দাবীতে বুধবার বিকেলে জৈন্তাপুরের ঐতিহ্যবাহী বটতলায় প্রতিবাদ সমাবেশ করে। প্রতিবাদ সমাবেশ থেকে অবিলম্বে এঘটনায় প্রকৃত অপরাধীদের চিহ্নিত করে আইনের মাধ্যমে ফাঁসির দাবী জানানো হয়।
এবিষয়ে জৈন্তাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খান মোঃ ময়নুল জাকির আটকের সত্যতা স্বীকার করে বলেন- নিহতের পিতা বাদী হয়ে থানায় মামলা দায়ের করেছেন। এ ঘটনায় প্রেমিকা আমেনাসহ ৪ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃতদের নিকট হতে প্রাথমিক ভাবে ঘটনার অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উদঘাটন করা হয়েছে। তদন্তের স্বার্থে তাৎক্ষনিক ভাবে কিছু বলা যাচ্ছে না। আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উদঘাটনের জন্য আদালতের মাধ্যমে গ্রেফতারকৃতদের রিমান্ড চাওয়া হবে। পরবর্তীতে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে ঘটনার প্রকৃত রহস্য প্রকাশ কারা হবে।
এদিকে গ্রেফতারকৃতদের বুধবার বিকেল ৩টায় আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
Related News
সিলেটে ৬০০ পিস ইয়াবাসহ দুই মাদক কারবারি গ্রেপ্তার
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: সিলেটের জকিগঞ্জে ডিবি পুলিশের অভিযানে ইয়াবাসহ দুই মাদক কারবারিকে গ্রেফতার করা হয়েছে।Read More
কোম্পানীগঞ্জে গাছ কেনাবেচা নিয়ে টর্চ জ্বালিয়ে দুই গ্রামের সংঘর্ষ, আহত অন্তত ৪০
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: সিলেটের কোম্পানীগঞ্জে গাছ কেনাবেচার দেনাপাওনা নিয়ে টর্চলাইট জ্বালিয়ে দুই গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যেRead More



Comments are Closed