Main Menu

সিলেটে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত দেড় লাখ মানুষ

বৈশাখী নিউজ ২৪ ডটকম: প্রবল বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে সৃষ্ট বন্যায় সিলেটের আট উপজেলার প্রায় দেড় লাখ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। প্রধান দুটি নদী সুরমা ও কুশিয়ারার পানি কিছুটা কমেছে। তবে এখনও বিপদসীমার উপর দিয়েই প্রবাহিত হচ্ছে। ফলে সার্বিক বন্যা পরিস্থিতি স্থিতিশীল রয়েছে। দুর্গতদের সাহায্যে জেলা প্রশাসনের পাশাপাশি বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক সংগঠনের পক্ষ থেকে ত্রাণ সহায়তা দেয়া হচ্ছে। এছাড়া ব্যক্তি উদ্যোগেও অনেকে এগিয়ে এসেছেন বন্যার্তদের পাশে।
সিলেট পানি উন্নয়ন বোর্ডের নিয়ন্ত্রণ কক্ষ থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী বৃহস্পতিবার বিকেল তিনটায় কানাইঘাটে সুরমা বিপদসীমার ৫৩ সেন্টিমিটার, শেওলায় কুশিয়ারা বিপদসীমার ৬৩ সেন্টিমিটার, আমলসীদে কুশিয়ারা বিপদসীমার ৬২ সেন্টিমিটার, শেরপুরে কুশিয়ারা ১২ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
জেলা প্রশাসনের বন্যা নিয়ন্ত্রণ কক্ষ থেকে জানা যায়, সিলেটে আট উপজেলার ৫৬টি ইউনিয়নের ৪৬৬টি গ্রাম বন্যা কবলিত হয়েছে। এসব এলাকার ১৭ হাজার ৮৫৮ পরিবারের ১ লাখ ৩৮ হাজার ৭৫৫ জন লোক ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছেন। তাছাড়া ৪ হাজার ৪৯১টি ঘরবাড়ি বন্যায় ক্ষতি হয়েছে। ৪ হাজার ৩৩০ হেক্টর আউশ ধান ও আমনের বীজতলাসহ ফসলী জমি তলিয়ে গেছে। বন্যার কারণে বন্ধ রয়েছে দু’শত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পাঠদান। এ পর্যন্ত ২৭৫ মেট্রিক টন চাল ও ৪ লাখ ৫৫ হাজার নগদ টাকা বিতরণ করা হয়েছে। এছাড়া বিতরণ করা হচ্ছে শুকনো খাবারও।
সিলেটের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) শহীদুল ইসলাম চৌধুরী জানান, বন্যার্তদের মাঝে ত্রাণ বিতরণ অব্যাহত রয়েছে। পর্যাপ্ত ত্রাণ সামগ্রী মজুদ রয়েছে বলেও জানান তিনি।
এদিকে, বন্যার পানি নেমে যাওয়ার সাথে সাথে বন্যা উপদ্রুত এলাকায় পানিবাহিত ডায়রিয়া, চর্মরোগ, বাচ্চাদের নিউমোনিয়া এবং বয়স্কদের স্বাস-প্রশ্বাসে সমস্যা জনিত রোগের প্রকোপ দেখা দিতে পারে, এজন্য স্বাস্থ্য বিভাগের ৭৮টি মেডিকেল টিম কাজ করছে বলে জানিয়েছেন সিলেটের সিভিল সার্জন ডা. হিমাংশু লাল রায়।
এজন্য পর্যাপ্ত পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট, খাবার স্যালাইন, আইডি ফ্লুইডস বা কলেরা স্যালাইন, সিপ্রোফ্লক্সাসিন ও টেট্রাসাইক্লিন ট্যাবলেটের মজুদ রয়েছে। এছাড়া দুর্গত এলাকায় প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য উপকরণ বিতরণ করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

Share





Related News

Comments are Closed