Main Menu

বালাগঞ্জে অর্ধশতাধিক বিদ্যালয়ে পাঠদান বন্ধ

বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: গত কয়েকদিনের টানা ভারি বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ী ঢলে প্রতিদিনই সিলেটের বালাগঞ্জ উপজেলার নতুন নতুন এলাকা বন্যার পানিতে প্লাবিত হচ্ছে। গোখাদ্য সংকটসহ পানি বাহিত রোগ ও ডায়রিয়া দেখা দিয়েছে।
উপজেলায় পানিবন্দি লোকজনের সংখ্যা প্রায় লক্ষাধিক ছাড়িয়ে গেছে বলে জানা গেছে। উপজেলার ৭০টি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে অর্ধ শতাধিক প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শ্রেনী কক্ষে পানি ঢুকে পড়ায় প্রায় ১৫ হাজার শিক্ষার্থীর পাঠদান বন্ধ হয়ে পড়েছে। এছাড়া বালাগঞ্জের তয়রুননেচ্ছা বালিকা বিদ্যালয়, এম ইলিয়াস আলী উচ্চ বিদ্যালয় ও বালাগঞ্জ ডিএন মডেল উচ্চ বিদ্যালয়সহ আরও প্রায় ১০/১৫ মাধ্যামিক ও মাদ্রাসা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্যার পানিতে প্লাবিত হয়েছে।
বিদ্যালয় গুলোর কর্মরত শিক্ষকরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বিদ্যালয়ে গেলেও শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি শূন্যতে থাকায় পানির মধ্যে বসে অলস সময় কাটাচ্ছেন শিক্ষকরা। আবার একাধিক বন্যা কবলিত বিদ্যালয় গুলোর শিক্ষকরা উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে না জানিয়েই ইতিমধ্যে বিদ্যালয়ে অলিখিত ছুটি ঘোষনা করে বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত রয়েছেন বলে জানা গেছে।
মনোহরপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ক্ষেতকি রঞ্জন চক্রবর্তী জানান, বিদ্যালয়ের শ্রেনী কক্ষে পানি ঢুকে পড়েছে। বিদ্যালয়ের রাস্তাসহ চারপাশে ৩/৪ ফুট উচ্চতার পানিতে তলিয়ে গেছে। বৃষ্টির কারণে পরিস্থিতির আরও অবনতি হচ্ছে।
বালাগঞ্জ উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা আব্দুর রকিব ভুঁইয়া বলেন, বন্যা কবলিত বিদ্যালয়ের সঠিক পরিসংখ্যান এখনও করা হয়নি। বিদ্যালয় গুলোতে শিক্ষার্থীরা না আসলেও কর্মরত শিক্ষকদের বিদ্যালয়ে আসার জন্য বলেছি। উপজেলার শিক্ষকদের মধ্যে অধিকাংশ শিক্ষকই মহিলা হওয়ার ফলে তারা কিভাবে বিদ্যালয়ে যাবেন এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে আলাপ করে এব্যাপারে পরবর্তী দিক নিদের্শনা দেয়া হবে।
বালাগঞ্জ উপজেলা যুবলীগের যুগ্ম আহবায়ক মোঃ জুনেদ মিয়া বলেন, পানি দীর্ঘস্থায়ী হওয়ায় যোগাযোগ সহ নানা কারনে জনসাধারণকে দূর্ভোগ পোহাচ্ছেন। দূর্গত মানুষদের সাহায্যে সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।
বালাগঞ্জ সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোঃ আব্দুল মুনিম বলেন, পর্যাপ্ত ত্রান সামগ্রী আমরা দিতে পারছি না। সমাজের বিত্তশালীদের এগিয়ে আসার আহবান জানান তিনি।
বালাগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডাঃ আনিসুর রহমান বলেন, হাসপাতাল চত্ত্বও পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় রোগীদের আসা যাওয়া করতে কষ্ট হচ্ছে। পানি বাহিত রোগ সহ ডায়রিয়া দেখা দেয়ায় মেডিকেল টিম গঠন করা হয়েছে। আমাদের কাছে যে সমস্ত ওষুধ রয়েছে তা পর্যাপ্ত নয় আরও ওষধের প্রয়োজন রয়েছে।
বালাগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা প্রদীপ সিংহ বলেন, সিলেটে ত্রান ও দুর্যোগ কমিটির সভায় বালাগঞ্জ উপজেলার বন্যা পরিস্থিতি সম্পর্কে জানিয়েছি। ১২টন চাল ২দিনের মধ্যে বিতরনের জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এলাকার বিত্তবান সহ প্রবাসীদের বন্যার্তদের সাহয্যে এগিয়ে আসার আহবান জানান।

 

Share





Related News

Comments are Closed