২০১৮ সাল হবে জনগণের বছর : খালেদা
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক : ২০১৮ সাল হবে জনগণের বছর। ২০১৮ সালে জুলুম অত্যাচার-অত্যাচারীর বিদায় হবে মন্তব্য করে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া বলেছেন, ‘যেভাবে আইনশৃঙ্খলা অবনতি হচ্ছে ঠিক তেমনি ভাবে দ্রব্যমূল্যে উর্ধ্বগতি হচ্ছে। এই আওয়ামী লীগ মানুষকে ভাওতা দেয়ার জন্য অনেক মিথ্যা কথা বলে কিন্তু কাজে কখনো পরিণত করে না। এই আওয়ামী লীগই মানুষকে আশা দিয়েছিল ১০ টাকা কেজি চাল খাওয়াবে কিন্তু আজকে ১ কেজি চালের দাম ৫০ টাকা। গরিব মানুষের অবস্থা খারাপ। মাছ-মাংসের দামের কথা বাদই দিলাম। কোন সবজি ৪০-৫০ টাকার নিচে পাওয়া যায় না। তার উপর আবার গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধি করেই যাচ্ছে।’
লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি) ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। মঙ্গলবার (৬ জুন) বিকেলে রাজধানীর ইস্কাটনস্থ লেডিস ক্লাবে রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের সম্মানে এ ইফতার মাহফিলের আয়োজন করে এলডিপি।
খালেদা জিয়া বলেন, ‘বিদ্যুতের দাম, পানির দাম বাড়িয়েছে, প্রতিটি জিনিসের দাম বাড়িয়েছে। এখন কি উন্নয়ন করছে তারা? এতো বিদ্যুৎ দিবে বাংলাদেশ নাকি ঝলমল করবে। কিন্তু এখন ঢাকা শহরেই লোডশেডিং বেড়ে গেছে। সারাদেশ অন্ধকারে। এই হচ্ছে সত্যিকার আওয়ামী লীগের উন্নয়নের নমুনা।’
বিএনপি চেয়ারপারসন বলেন, ‘আজকে দেশে আইনের শাসন বলে কিছু নেই। মানুষ ন্যায় বিচার পাচ্ছে না। কারণ বিচার বিভাগ বিচারকরা নয়, নিয়ন্ত্রণ করে এই আওয়ামী লীগ সরকার। এদের হাত এতো লম্বা যে কিছুইকেই পরোয়া করে না। তারা কাউকে সম্মান দিতে জানে না। পুলিশ-শিক্ষকের গায়েও তারা হাত তুলছে।’
তিনি বলেন, ‘২০১৬ সাল ছিলো আওয়ামী লীগের ব্যাংক চুরির বছর। ব্যাংকের টাকা চুরি করতে করতে তারা বাংলাদেশ ব্যাংকের টাকাও চুরি করে পাচার করেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের টাকা চুরির ঘটনায় তদন্ত কি হয়েছে কেউ যানে না। সেই তদন্ত রিপোর্ট বাংলাদেশ ব্যাংকে রাখা ছিলো। সেখানেও আগুন লাগলো।’
সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এখন পত্রিকা খুললেই দেখা যায় গুম-খুন। প্রতিনিয়ত গুম-খুনের ঘটনা চলছে। নারী নির্যাতন এতো বেড়ে গেছে যে, ঘরে বাইরে কেউ নিরাপদ নয়। শিশুরাও নিরাপদ নয়। এদের কাছে ভালো কি আশা করবেন, নির্বাচন আসলে এরা সুন্দর সুন্দর কথা বলে, মিথ্যা কথা বলে, অনেক উন্নয়নের ফিরিস্তি দেবে কিন্তু হিসাব চাইলে সেটা তারা মেলাতে পারবে না।’
তিনি বলেন,‘ এই বারের বাজেটে সরকার মানুষের পকেটেও হাত দিয়েছে। এর ফলে ব্যাংকে টাকা রাখতে কেউ সাহস করবে না। এক লাখ টাকা রাখলে বছরে ৮শ’ টাকা কেটে নেবে, তাহলে থাকবে কি? তারপরও অর্থমন্ত্রী বলেন, যার ১ লাখ টাকা থাকবে সে বড়লোক। তাহলে আপনাদের হাজার হাজার কোটি টাকার কি হবে?’
ইফতার মাহফিলে খালেদার পাশে বসেন ২০ দলীয় জোট নেতা লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) ড. কর্ণেল অলি আহমেদ, জামায়াতে ইসলামীর অধ্যাপক মুজিবুর রহমান, বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টির মেজর জেনারেল (অব.) সৈয়দ মুহাম্মদ ইব্রাহিম, জাতীয় পার্টি (কাজী জাফর) মোস্তফা জামাল হায়দার, বাংলাদেশ ন্যাপের জেবেল রহমান গনি, ন্যাশনাল পিপলস পার্টির (এনপিপি) ড. ফরিদুজ্জামান ফরহাদ, ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এনডিপি) খোন্দকার গোলাম মোর্তুজা, বাংলাদেশ লেবার পার্টির ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, বাংলাদেশ পিপলস লীগের গরীবে নেওয়াজ, ন্যাপ ভাসানীর অ্যাডভোকেট আজহারুল ইসলাম, ইসলামী ঐক্যেজোটের এম এ রকিব, বাংলাদেশ মুসলিম লীগের এ এইচ এম কামরুজ্জামান, বাংলাদেশ সাম্যবাদী দলের কমরেড সাঈদ আহমেদ, বাংলাদেশ ইসলামিক পার্টির আবু তাহের, খেলাফত মজলিশের মাওলানা সৈয়দ মুহাম্মদ মুজিবুর রহমান, ডেমোক্রেটিক লীগের সাইফুদ্দিন মনি, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) রেহানা প্রধান প্রমুখ।
এছাড়াও বিএনপির মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, মির্জা আব্বাস, নজরুল ইসলাম, ভাইস-চেয়ারম্যান নিতাই রায় চৌধূরি, উপদেষ্টা তৈমুর আলম খন্দকার, যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, হাবিব উন নবী খান সোহেল প্রমুখ।
Related News
১১ দলীয় ঐক্যের দ্বিতীয় লংমার্চের তারিখ ঘোষণা, দাবিতে নতুন দফা যোগ
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যজোটের ছয় দফা দাবি এখন রূপান্তরিতRead More
জামিনে মুক্ত বিদিশা সিদ্দিক
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: প্রতারণার মামলায় দুই বছরের কারাদণ্ড পাওয়া সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের প্রাক্তনRead More



Comments are Closed