Main Menu

কানাইঘাটে শায়েস্তা ও আশফাকের বিরুদ্ধে মামলা ষড়যন্ত্রমুলক

বৈশাখী নিউজ ২৪ ডটকম: সরকারি চাল পাচারের মিথ্যা অভিযোগে সিলেটের কানাইঘাটের দেওয়ানচক গ্রামের শায়েস্তা মিয়া ও তার ভাই আশফাক আহমদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। বিগত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে শায়েস্তা মিয়া প্রতিদ্বন্দিতা করায় এবং তার ব্যবসায়িক সফলতায় ঈর্ষান্বিত হয়ে একটি কুচক্রিমহল পরিকল্পিতভাবে এ মামলা দায়ের করেছে বলে অভিযোগ মা আছারুন নেছার।
সিলেট জেলা প্রেসক্লাবে শনিবার অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে আছারুন বলেন, শায়েস্তা মিয়া উপজেলার রাজাগঞ্জ ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডে সদস্য পদে তিনবার নির্বাচিত হয়ে সফলতার সাথে দায়িত্ব পালন করেছেন। গত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে শায়েস্তা ওই ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্ব›িদ্বতা করেন। আর এতেই একটি কুচক্রি মহল তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে মেতে ওঠে। তিনি বলেন, রাজাগঞ্জ বাজারে অবস্থিত নজির এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী শায়েস্তা মিয়া। তার ওই ব্যবসা প্রতিষ্ঠান সরকার অনুমোদিত ডিলার হিসেবে ১০ টাকা মূল্যের ৩০ কেজি চাল (খাদ্য বান্ধব কমৃসূচীর) কার্ডধারীগণের মধ্যে বিতরণ করে। ২০১৬ সালের আগস্ট মাসে ডিলার নিযুক্ত হওয়ার পর হতে তার বিরুদ্ধে কখনো কোন অনিয়ম বা অব্যবস্থাপনার অভিযোগ ওঠেনি।
আছারুন বলেন, গত ১৭ এপ্রিল ৭ হাজার ৪৭০ কেজি চাল উত্তোলন করে গত ২৫ এপ্রিল পর্যন্ত ৬ হাজার ৯৩০ কেজি চাল খাদ্য বান্ধব কর্মসুচীর কার্ডধারীদের মধ্যে বিতরণ করে নজির এন্টারপ্রাইজ। অবশিষ্ট ৫৪০ কেজি চাল গত ১৭ মে উপজেলা টেগ কর্মকর্তা বেলাল আহমদ, গোদাম প্রতিনিধি কারেন্ড বাবু, ইউপি চেয়ারম্যান ফখরুল ইসলাম, ইউপি সদস্য রফিক আহমদ ও সরফ উদ্দিনসহ সংশ্লিষ্টদের উপস্থিতির মাধ্যমে ১৮ জন কার্ডধারীর মধ্যে ৩০ কেজি করে বিতরণ করা হয়। কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় শায়েস্তা মিয়ার নির্বাচনী ও ব্যবসায়িক কাজে বিরোধীতাকারী লুৎফুর রহমান, ছালিম আহমদ, আওলাদ হোসেন, হোসেন আহমদ, মাসুদ আহমদ ও আফছরসহ একটি কুচক্রি মহল ষড়যন্ত্রে মেতে ওঠে। তারা প্রকাশ্য নানা হুমকিও দেয় শায়েস্তাকে।
গত ২৫ এপ্রিল রাত ১২টা ৫৫ মিনিটে রাজাগঞ্জ ইউনিয়নের মির্জাগড় শাহী-ঈদগাহ সংলগ্ন কানাইঘাট-সিলেট পাকা সড়কের উপর সরকারি ন্যায্য মূল্যের চাল আটকের একটি নাটক সাজায় ষড়যন্ত্রকারীরা। আর এর মাধ্যমে চাল পাচারের মিথ্যা অভিযোগ তুলে শায়েস্তা মিয়া ও আশফাকের বিরুদ্ধে। স্থানীয় লোকজন এর তীব্র প্রতিবাদ জানালেও ধুরন্ধর ওই ব্যক্তিরা পুলিশের মাধ্যমে কিছু চাল আটক দেখিয়ে কানাইঘাট থানায় নিয়ে যায়। পরবর্তিতে লুৎফুর রহমান ও তার সহযোগীদের সাক্ষী সাজিয়ে স্বল্প সময়ের মধ্যে থানায় মামলা দায়ের করা হয়।
এসআই জাহাঙ্গীর আলম বাদি হয়ে দায়েরকৃত ওই মামলার এজাহারে উল্লেখিত বিবরণ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন উল্লেখ করে আছারুন নেছা বলেন, আটককৃত ৬ বস্তা চাল শায়েস্তা মিয়ার মালিকানাধীন নজির এন্টারপ্রাইজের নয়। বিষয়টি ইতোমধ্যে প্রমাণিতও হয়েছে। ২৫ এপ্রিল রাতে রাস্তায় চাল আটকের পর উপজেলার একজন কর্মকর্তা ও জেলা নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট ঘটনাস্থলে যান এবং নজির এন্টারপ্রাইজের গোদামজাতকৃত চাল যথাযথভাবে মজুত রয়েছে বলে পরিদর্শনকালে মন্তব্য করেন।
আছারুন বলেন, যে স্থানে চাল আটক করা হয়েছে সেখান থেকে লুৎফুর রহমান ও তার সহযোগীদের বাড়ি ৩/৪ কি.মি. দূরে থাকলেও তারা কিভাবে গভীর রাতে মুশলধারে চলা বৃষ্টির মাঝে সেখানে ওই সময় উপস্থিত হলো সে বিষয়টি নানা প্রশ্নের সৃষ্টি করেছে। তাছাড়া ঘনবসতিপূর্ণ ওই এলাকায় সরকারি চাল আটকের মতো ঘটনায় মামলা দায়ের করা হলেও তাতে স্থানীয় কোনো ব্যক্তিকে সাক্ষী করা হয়নি।
তাই পুরো বিষয়টি ষড়যন্ত্রমুলক উল্লেখ করে শায়েস্তা ও আশফাকের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত ওই মামলা প্রত্যাহারপূর্বক সকল প্রকার হয়রানি থেকে তাদেরকে মুক্ত করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে জোর দাবি জানান আছারুন নেছা।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন আছারুন নেছার ভাইপো মাওলানা মিসবাহ উদ্দিন। উপস্থিত ছিলেন দেওয়ানচক গ্রামের আয়াছ আলী, আব্দুল হামিদ, বুদুল মিয়া, নোয়াগ্রামের হাবিবুর রহমান প্রমুখ।

Share





Related News

Comments are Closed