দিরাইয়ের কালিয়াকোটায় বাঁধ নির্মানে অনিয়ম
বিশেষ সংবাদদাতা : সুনামগঞ্জের দিরাইয়ে সময়মত বাঁধ মেরামত না করে টাকা আত্মসাতের অভিযোগ পাওয়া গেছে। সময় মত কাজ না করায় বন্যায় এলাকার ১০ কোটি টাকার বোর ফসলের হানী ঘটেছে। এব্যাপারে এলাকাবাসীর পক্ষে জনৈক জহিরুর ইসলাম জুয়েল সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক ও দূর্নীতি দমন কমিশনসহ বিভিন্ন দায়িত্বশীল মহলে লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন। অভিযোগের প্রেক্ষিতে বন্যার ২ মাসের মাথায় শুরু হয় প্রকল্প বাস্তবায়ন কাজ। সামান্য মাটির প্রলেপ দিয়েই কাজের ইতি ঘটিয়ে টাকা হাতিয়ে নেয়া হয়েছে বলে অভিযোগে প্রকাশ।
জানা গেছে, পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) সুনামগঞ্জ-এর আওতায় দিরাই উপজেলার রাজনগর ইউনয়নের কালিয়াকোটায় বাঁধ নির্মান একটি প্রকল্প দেয়া হয়। যা’ জেলার ১১২নং প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটিকে দেয়া হয়েছিল। ওই প্রকল্প কমিটির চেয়ারম্যান হচ্ছেন উপজেলার রাজানগর ইউপি চেয়ারম্যন সৌম্য চৌধুরী। প্রকল্প বাস্তবায়নের শেষ সময়সীমা ছিল গত ১৪২৩ বাংলা সনের চৈত্রমাস।
কিন্তু চেয়ারম্যান সৌম্য চৌধুরী বাঁধ নির্মানের কোন কাজ না করিয়েই টাকা উত্তোলন করে আত্মসাত করে ফেলেন। ফলে বৈশাখের বানে তলিয়ে যায় হাওরের ১০ কোটি টাকার ফসল। বন্যা পরবর্তী অনিয়ম-আত্মসাতের অভিযোগ ও উপর মহলেল চাপ পড়ায় বিপাকে পড়েন চেয়ারম্যান সৌম্য চৌধুরীসহ প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা। তাই্ অভিযোগ থেকে রেহাই পেতে চেয়ারম্যান সৌম্য চৌধুরী মেয়াদ শেষ হওয়ার ২মাস পর ১৪২৪ বাংলার জৈষ্টমাসে শুরু করেন প্রকল্প বাস্তবাযনের কাজ। গত ২/৩দিন আগে তিনি পুরনো বাঁধের উপর সামান্য মাটির কাজ করিয়ে কাজ সম্পন্ন করে ফলেন।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, এ এলাকায় পুরনো বাঁধ ও রাস্তা ছিল। প্রয়োজন ছিল শুধু টুকটাক ভাঙ্গা মেরামত কাজের। কিন্তু মোটা অংকের টাকা আত্মসাতের উদ্দেশ্যে মেরামত নয়, নতুন করে ‘বাঁধ নির্মান প্রকল্প’ দেখিয়ে সরকারী টাকা লুটে নেয়া হয়েছে। প্রকল্প বাস্তবায়ন মেয়াদ শেষ হওয়ার ২মাস পর পুরনো বাঁধের উপর সামান্য মাটির প্রলেপ দিয়েই কাজ শেষ করে দেয়া হয়েছে।
এলাকার বিশিষ্ট মুরব্বি ইন্দ্রজিত বাবু, মঙ্গল চরন দাস, মাহমদ আলী ও আব্দুল জব্বার প্রমূখের সাথে আলাপ করে জানা যায়, বন্যাপূর্ব সময়ে প্রকল্পের তেমন কোন কাজ হয়নি। বন্যাপরবর্তী গত ২/৩দিন পূর্বে পুরনো বাঁধের উপর মাটির সামান্য প্রলেপ দেয়া হয়েছে । সব মিলিয়ে এ পর্যন্ত বাঁধের উপর ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকার কাজ করা হয়েছে বলে জানান তারা।
ইউপি ও প্রকল্প কমিটি চেয়ারম্যন সৌম্য চৌধুরী বাঁ নির্মানের টাকা আত্মসাতের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন প্রকল্পের জন্য দেড়লাখ টাকার বরাদ্দ দেয়া হয়েছিল। বাস্তবায়নের কাজ সম্পন্ন হয়ে গেছে। তবে এ পর্যন্ত ৬০ হাজার টাকা উত্তোলন করা হয়েছে। বাকি টাকা এখনো উত্তোলন করা যায়নি বলে জানান তিনি।
Related News
সুনামগঞ্জে দুই পক্ষের সংঘর্ষে নিহত ১
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: সুনামগঞ্জের শাল্লা উপজেলায় জায়গা-জমি ও এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে কার্যক্রম নিষিদ্ধRead More
ছাতকে পাগনা বড়বিলে ১০ লাখ টাকার মাছ লুটের অভিযোগ
আনোয়ার হোসেন রনি, সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি: সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলায় পাগনা বড়বিল জলমহালসহ বিভিন্ন জলাশয়কে কেন্দ্র করেRead More



Comments are Closed