একটি সেতুর কারনে ৪০ কিলোমিটার ঘুরে যাওয়া-আসা
মো রিমন চৌধুরী, ডোমার (নীলফামারী) থেকে: নীলফামারী ও পঞ্চগড় জেলার চিলাহাটি-ভাউলাগঞ্জ সড়কের উপর শতবর্ষী একটি ঝুঁকিপূর্ণ সেতুর কারণে প্রায় ৪০ কিলোমিটার পথ অতিরিক্ত ঘুরতে হচ্ছে যাত্রীদের। এতে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছেন এলাকার ব্যবসায়ী মহল।
দীর্ঘদিন ধরে সেতুটি নির্মাণের দাবি জানালেও সেটি বাস্তবায়িত হয়নি আজও। সড়ক ও জনপথ বিভাগ সেতুটির গুরুত্বের কথা স্বীকার করে নির্মাণের উদ্যোগের কথা জানিয়েছেন।
এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, নীলফামারী জেলার ডোমার উপজেলার চিলাহাটি থেকে পঞ্চগড় জেলার দেবীগঞ্জ উপজেলার চিলাহাটি ইউনিয়নের ভাউলাগঞ্জ বাজারের দূরত্ব মাত্র সাত কিলোমিটার। এই সাত কিলোমিটার সড়কের উপর তিস্তাপাড়া নামক স্থানে বুড়িতিস্তা নদীর উপর একটি শতবর্ষী লোহার সেতু মেরামতের অভাবে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় পড়ে আছে দীর্ঘদিন। এতে সকল প্রকার যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে প্রায় এক যুগেরও বেশি সময়। ফলে যাত্রীদের দেবীগঞ্জ-ডোমার হয়ে প্রায় ৪০ কিলোমিটার ঘুরে যাওয়া-আসা করতে হচ্ছে। আবার কেউ কেউ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে যাওয়া-আসা করছেন ঝুঁকিপূর্ণ সেতুটির উপর দিয়েই।
নড়বড়ে সেতুটির কারণে চিলাহাটি ভাউলাগঞ্জ অঞ্চলের কৃষকরা তাদের উৎপাদিত ফসলের ন্যায্য মূল্য থেকেও যেমন বঞ্চিত হচ্ছেন, তেমনিভাবে ঝিমিয়ে পড়েছে ওই অঞ্চলের ব্যবসা বাণিজ্যও।
স্থানীয়রা জানান, নীলফামারীর চিলাহাটি রেল স্টেশন থেকে ঢাকা, খুলনা, রাজশাহীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে যাওয়া-আসার জন্য আন্ত:নগর রেল যোগাযোগ চালু রয়েছে। চিলাহাটি থেকে পঞ্চগড় জেলার দূরত্ব মাত্র ৩০ কিলোমিটার হওয়ায় ওই অঞ্চলের যাত্রীরা এই পথে এসে ট্রেনে চলাচল করেন। কিন্তু তাদের প্রধান বাধা হয়ে দাড়িয়েছে সেতুটি। ইজিবাইকে ওই সেতু পারাপারের সময় কথা হয় ট্রেন যাত্রী আব্দুল করিম, তসলিম উদ্দিন ও মনির হোসেনের সাথে। তারা পঞ্চগড়, আটোয়ারী, তেতুলিয়া থেকে এই পথে চিলাহাটি রেলস্টেশনে আন্ত:নগর তিতুমীর এক্সপ্রেসযোগে রাজশাহী যাওয়া-আসা করেন। তাদের মতো অনেকেই এভাবে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে যাওয়া-আসা করেন বলে জানান তারা।
আব্দুল হাকিম বলেন, নীলফামারী জেলার চিলাহাটি রেলস্টেশন চালু থাকায় পঞ্চগড়, দেবীগঞ্জ বাংলাবান্ধা, তেতুলিয়া, বোদাসহ ওই অঞ্চলের হাজারো মানুষ এই পথে নিরাপদ রেল সুবিধা গ্রহণ করে সরাসরি ঢাকা রাজশাহীসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে চলাচল করেন। কিন্তু একটি সেতু সংস্কারের অভাবে তারা মাত্র সাত কিলোমিটার পথ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে অথবা অতিরিক্ত প্রায় ৪০ কিলোমিটার পাড়ি দিতে বাধ্য হচ্ছেন।
দেবীগঞ্জ উপজেলার চিলাহাটি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান কামাল মোস্তাহারুল হাসান বলেন, আগে এই সড়কটি পঞ্চগড় ও নীলফামারী দুই জেলার মধ্যে থাকায় সেতুটি কে করবে এ নিয়ে দুই জেলার মধ্যে রশি টানাটানির মতো অবস্থা ছিল। এখন সড়কটি নীলফামারী সড়ক ও জনপথ বিভাগের কাছে হস্তান্তর করেছে পঞ্চগড় সড়ক ও জনপথ বিভাগ। ২৪ ঘণ্টাই ওই পথে চলাচল করে এলাকার মানুষজন। অনেক সময় ঝুঁকি নিয়ে যানবাহনও পারাপার হয় ওই সেতু দিয়ে। যে কোনো মুহুর্তে সেখানে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
পঞ্চগড়ের চিলাহাটি ইউনিয়নের বানিয়াপাড়া গ্রামের সাবেক প্রধান শিক্ষক জহিরুল ইসলাম (৭৫) বলেন, সেতুটার বয়স এক’শ বছর পার হয়েছে অনেক আগেই। এটা এখন চলাচলের উপযোগী না। সেতুটি নতুন করে হওয়া খুবই জরুরি।
ডোমার উপজেলার ভোগডাবুরী ইউনিয়নের প্রামাণিক পাড়া গ্রামের তোজাম্মেল হোসেন (৫৫) বলেন, পঞ্চগড় চিলাহাটি চলাচলের এখন প্রধান সমস্যা তিস্তা পাড়ার লোহার সেতুটি। এই সেতু মেরামত করা গেলে পঞ্চগড়, নীলফামারী লালমনিরহাট সরাসরি যোগাযোগ সম্ভব হবে।
ডোমার উপজেলার ভোগডাবুরী ইউনিয়নের সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মুরাদ আলী প্রামাণিক বলেন, নীলফামারী জেলার চিলাহাটি ও ভাউলাগঞ্জ এক সময় প্রসিদ্ধ ব্যবসা কেন্দ্র হিসাবে খ্যাত ছিল। এখন অনুন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থার কারণে দূর-দূরান্তের ব্যবসায়ীরা এখানে আসতে পারেন না। সে কারণে এ অঞ্চলের কৃষকরা তাদের উৎপাদিত ফসলের ন্যায্য মূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
তিনি বলেন, ৭ কিলোমিটার সড়ক পাকা হয়েছে, কিন্তু ওই সেতুটির কারণে পিছিয়ে পড়া এ অঞ্চলে উন্নয়নের ছোয়া লাগছে না।
জানতে চাইলে নীলফামারী সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী হামিদুর রহমান জানান, ৫০ মিটার ওই সেতুসহ চারটি সেতু করার জন্য সড়ক ও জনপথ বিভাগের রংপুর জোনে একটি প্রকল্প করা হচ্ছে। ওই প্রকল্পের আওতায় সেতুটি নির্মাণ করা হবে।
Related News
পঞ্চগড়ের আকাশে মায়াবী কাঞ্চনজঙ্ঘা, মেঘ সরতেই ধরা দিল হিমালয়ের রূপালি মুকুট
সফিকুল আলম দোলন, পঞ্চগড় জেলা প্রতিনিধি: অপেক্ষার প্রহর শেষে মেঘের আড়াল ভেদ করে উত্তরের আকাশেRead More
রংপুরে দাঁড়িয়ে থাকা ট্রাকে বাসের ধাক্কা, তিনজনের মৃত্যু
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলার বৈরাগীগঞ্জে ঢাকা-রংপুর মহাসড়কে দাঁড়িয়ে থাকা একটি ট্রাকে বাসের ধাক্কায়Read More



Comments are Closed