Main Menu

বিয়ানীবাজার পৌরসভায় শান্তিপূর্ণ ভোটগ্রহণ চলছে

বিয়ানীবাজার প্রতিনিধি : দীর্ঘ ১৬ বছর পর সিলেটের বিয়ানীবাজার পৌর মেয়র নির্ধারণের জন্য বৃষ্টিকে উপেক্ষা করে বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনা নিয়ে ভোট দিচ্ছেন পৌরবাসী ভোটাররা।
সিলেটের অন্যান্য স্থানের মত বিয়ানীবাজারে সকাল থেকে গুড়িগুড়ি বৃষ্টি হচ্ছে। কিন্তু ভোটারদের মাঝে এই নির্বাচন নিয়ে উৎসাহ বেশী দেখা যায়। বিয়ানীবাজার পৌরসভায় কেন্দ্র রয়েছে ১০টি। মোট ভোটার হচ্ছেন ২৫ হাজার ২৪ জন। এরমধ্যে পুরুষ ১২ হাজার ৪শ’ ৩০ এবং মহিলা ১২ হাজার ৫শ’ ৯৪ জন।
একাধারে অনেক বছর অপেক্ষার পর আবেগ অনুভূতি বুকে নিয়ে স্বতস্ফুর্তভাবে ভোটে অংশগ্রহন করছেন পৌরসভার নাগরিকগণ। সকাল ৮টা থেকে বিভিন্ন সেন্টারে ভোটাররা তাদের পছন্দের প্রার্থীকে মুল্যবান ভোট প্রদান করছেন।
আজ মঙ্গলবার বিয়ানীবাজার পৌরসভার নির্বাচনের ভোটগ্রহণ সেন্টারগুলোতে ভোটারদের দীর্ঘ সারি প্রমান করেছে জনপ্রতিনিধি নির্বাচনের কত আকাংঙ্খা লালন করে এতদিন অপেক্ষায় ছিলেন তারা । আজ সকল জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটাতে দলে দলে পৌরবাসী ভোটকেন্দ্রে আসলেন।
সকাল ১০টা পর্যন্ত বিয়ানীবাজার ডিগ্রি কলেজ, বিয়ানীবাজার মহিলা কলেজ ও খাসা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে মহিলা ভোটারের উপস্থিতি চোখে পড়ার মত। ভোটাররা নিজেদের নাগরিক অধিকার প্রয়োগ করে আবার হাসিমুখে ফিরেও যাচ্ছেন।
বিয়ানীবাজার থানা পুলিশ পৌরসভার মোট ১০টি কেন্দ্রের সবগুলোকেই ঝুঁকিপূর্ণ হিসাবে চিহ্নিত করেছে। ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে বাড়তি সতর্কতা নেওয়া হয়েছে।
এছাড়াও নির্বাচন সুশৃংখলভাবে সমাপ্ত করতে বিজিবি, র‌্যাব এবং আনসার সদস্যদের সমন্বয়ে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা বলয় গঠন করা হয়েছে।
তাৎক্ষনিক কোন অপ্রীতিকর অবস্থা মোকাবেলায় পাঁচজন ম্যাজিষ্ট্রেটের নেতৃত্বে ৫টি মোবাইল কোর্ট নির্বাচনি এলাকায় রয়েছে।
এবারের বিয়ানীবাজার পৌরসভা নির্বাচনে মেয়র পদে ৮ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দিতা করছেন এবং সাধারণ কাউন্সিলর হিসেবে ৬৫ জন ও সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর পদে ৭ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দিতায় অংশগ্রহণ করছেন। বহুল প্রত্যাশিত এই নির্বাচনের ভোট গ্রহণ কার্যক্রম বিকাল ৪টায় সমাপ্ত হবে।
বেলা সাড়ে ১১টায় এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত অপ্রতিকর কোন ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।

বিয়ানীবাজার পৌরসভার যে ওয়ার্ডে যতো ভোট রয়েছে-
১নং ওয়ার্ড: শ্রীধরা গ্রাম নিয়ে ১নং ওয়ার্ড গঠিত। এ ওয়ার্ডে ভোটার রয়েছেন ৩ হাজার ১০৪ জন। ভোট কেন্দ্র হচ্ছে শ্রীধরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।

২নং ওয়ার্ড: এ ওয়ার্ড নবাং ও কসবা গ্রামের চালিকোনা, শেরাইগুষ্টি নিয়ে গঠিত। ওয়ার্ডে ভোটার সংখ্যা ১ হাজার ৮০৬ জন। ভোট কেন্দ্র কসবা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে।

৩নং ওয়ার্ড: কসবা উত্তর, কসবা দক্ষিণ, খাসা ও নয়াগ্রাম নিয়ে গঠিত ৩নং ওয়ার্ড। এ ওয়ার্ডে ভোটার সংখ্যা ৩ হাজার ৩৩৮ জন।

৪নং ওয়ার্ড: কসবা দক্ষিণ, খাসা ও নয়াগ্রাম নিয়ে ঘটিত ৪নং ওয়ার্ড। এ ওয়ার্ডের ভোটার সংখ্যা ২ হাজার ৩৮৩ জন। ভোট কেন্দ্র হচ্ছে খাসা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।

৫নং ওয়ার্ড: নয়াগ্রাম এলাকা নিয়ে ৫নং ওয়ার্ড গঠিত। এ ওয়ার্ডে ৩ হাজার ৩৬ জন ভোটার রয়েছেন এবং ভোট কেন্দ্র হচ্ছে পি.এইচ.জি মডেল উচ্চ বিদ্যালয়।

৬নং ওয়ার্ড: ফতেহপুর, নয়াগ্রাম, দাসগ্রাম ও লাসাইতলা নিয়ে গঠিত এ ওয়ার্ড। বিয়ানীবাজার সরকারি কলেজ ও বিয়ানীবাজার বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে হবে ভোট গ্রহণ। ফতেহপুর, দাসগ্রাম, লাসাইতলা ও নয়াগ্রামের ১ হাজার ৯৯৪ জন ভোটার ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন বিয়ানীবাজার বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে। একই গ্রামগুলোর ১ হাজার ৭৯৭ জন ভোটার ভোট দেবেন বিয়ানীবাজার বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে।

৭নং ওয়ার্ড: খাসাড়িপাড়া, নয়াগ্রাম ও উপর নিদনপুর নিয়ে ৭নং ওয়ার্ড গঠিত। এ ওয়ার্ডে ভোটার সংখ্যা ২ হাজার ৪০৫ জন। ভোট কেন্দ্র খাসাড়িপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।

৮নং ওয়ার্ড: সুপাতলা, ফতেহপুর, দাসগ্রাম, খাসাড়িপাড়া ও উপর নিদনপুর নিয়ে ৮নং ওয়ার্ড গঠিত। এ ওয়ার্ডে ২ হাজার ৮৫৮ জন জন ভোটার রয়েছেন এবং ভোট কেন্দ্র সুপাতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।

৯নং ওয়ার্ড: উপর নিদনপুর, লামা নিদনপুর, ও সুপাতলা নিয়ে ৯নং ওয়ার্ড গঠিত। এ ওয়ার্ডে ২ হাজার ২৭৩ জন ভোটার রয়েছেন এবং ভোট কেন্দ্র নিদনপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।

Share





Related News

Comments are Closed