সিসিকের ক্যামেরায় কুয়েত প্রবাসীকে খুনের দৃশ্য, আটক ৩
বৈশাখী নিউজ ২৪ ডটকম: রাতে পুলিশের চোখ ফাঁকি দিতে ওরা সিলেট সিটি করপোরেশনের (সিসিকের) পরিচ্ছন্নতাকর্মীর পোশাক পরে নগরীর রাস্তায় ঘুরাফেরা করতো। পুলিশ এলে তারা নগরের রাস্তা ঝাড়ু দেওয়ার কাজে লেগে যেত। পুলিশ চলে যাবার পরই তারা সেই পোশাক খুলে অন্য পোশাক পরে রাস্তায় ওত পেতে থাকতো ছিনতাই করতে।
এমনইভাবে সম্প্রতি নগরীর জিন্দাবাজারে কুয়েত প্রবাসী আসাদুজ্জামান রিপনকে খুন করে তিন ছিনতাইকারী। সিসিকের বসানো ক্যামেরার ফুটেজ দেখে এবং প্রযুক্তি ব্যবহার করে এই তিন ঘাতক ছিনতাইকারীকে শনাক্ত করে পুলিশ। এরপর সিলেট কোতোয়ালি মডেল থানার নবনিযুক্ত ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গৌছুল হোসেনের নেতৃত্বে নগরীতে অভিযান চালিয়ে তিনজন ছিনতাইকারীকে আটক করা হয়।
আটককৃতরা হচ্ছে, এয়ারপোর্ট থানাধীন খাসদবিরের মসজিদ গলির নুরুল হকের ছেলে সুমন মিয়া ওরফে মানিক (২১), হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ থানাধীন দত্তগ্রামের আমির উদ্দিনের ছেলে জমির উদ্দিন (১৯) এবং সুনামগঞ্জের হাছন নগরের মাহমুদ আলীর ছেলে হাসান আলী (২০)। এসময় সুমন মিয়ার কাছ থেকে হত্যার কাজে ব্যবহৃত একটি ছুরি উদ্ধার করা হয়।
ওসি গৌছুল হোসেন জানান, গত ১২ এপ্রিল রাতে কুয়েত যাবার উদ্দেশ্যে মেডিকেল চেকআপের জন্য স্ত্রী হাছনা বেগমকে নিয়ে দক্ষিণ সুরমার কদমতলী বাস টার্মিমালে আসেন প্রবাসী আসাদুজ্জামান। এসময় শাহজালাল মাজারে বিশ্রাম নেওয়ার উদ্দেশ্যে তারা একটি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশায় ওঠেন। কিনব্রিজ পার হয়ে অটোরিকশা জিন্দাবাজারে পৌঁছামাত্র পরিচ্ছন্নতাকর্মীর বেশে চাকু হাতে ওই তিন ছিনতাইকারী তাদের গতিরোধ করে। এসময় রিপনের কাছ থেকে টাকা নেওয়ার পর তাঁর স্ত্রীর ব্যাগ ধরে টানাহেঁচড়া করে ছিনতাইকারীরা। রিপন বাধা দিলে তার বুকে ছুরিকাঘাত করে ব্যাগ, টাকা ও মোবাইল ছিনিয়ে পালিয়ে যায় তারা। হাসপাতালে নেওয়ার পথে রিপন মারা যান। এ ঘটনায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়। পরে পুলিশ সিসি ক্যামেরার ফুটেজ দেখে ঘটনার তথ্য সংগ্রহ করে তাদের আটক করে।
সিলেট কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গৌছুল হোসেন বলেন, ওরা কৌশলী ছিনতাইকারী। ফুটেজ ও প্রযুক্তি ব্যবহার করে বেশ কিছু পুলিশ নিয়ে বিভিন্নভাবে তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করে তাদের আটক করা হয়। হত্যা মামলায় তাদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ১২ এপ্রিল বুধবার রাতে কুয়েত যাওয়ার লক্ষ্যে মেডিকেল চেকআপের জন্য আসাদুজ্জামান রিপন তার স্ত্রী হাসনা হেনাকে সাথে নিয়ে সিলেট আসেন। দক্ষিন সুরমার কদমতলি বাসস্ট্যান্ড এলাকায় নেমে অটোরিকশাযোগে হযরত শাহজালালের (রাহ.) মাজারে যাওয়ার পথে জিন্দাবাজার এলাকায় তারা ছিনতাইয়ের শিকার হন। এ সময় ছিনতাইকারীরা নগদ ১৪ হাজার টাকা ও মোবাইল সেট ছিনিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি আসাদুজ্জামানের বুকে ছুরি দিয়ে আঘাত করে। পরে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসক রিপনকে মৃত ঘোষণা করেন। আসাদুজ্জামানের রিপনের বাড়ি নীলফামারি জেলায়।
Related News
সিউকের আনুষ্ঠানিকভাবে সেবা প্রদান শুরু
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: সিলেটকে একটি পরিকল্পিত, বাসযোগ্য ও নিরাপদ নগরী হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যয়ে নতুনRead More
এলপিজি ও অটোগ্যাসের মূল্যবৃদ্ধিতে সিলেট মহানগর জামায়াতের নিন্দা ও প্রতিবাদ
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম এক লাফে ২২৩ টাকা বাড়িয়ে ২ হাজারRead More



Comments are Closed