ভাষা সৈনিক মুহম্মদ নূরুল হক’র ১১০তম জন্ম বার্ষিকী আজ
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: গ্রন্থাগার আন্দোলনের পথিকৃৎ, ভাষা সৈনিক, সিলেট কেন্দ্রীয় মুসলিম সাহিত্য সংসদের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা ও আজীবন সম্পাদক এবং মাসিক আল ইসলাহ এর প্রতিষ্ঠাতা ও সম্পাদক মরহুম মুহম্মদ নূরুল হকের ১১০তম জন্মবার্ষিকী আজ ১৯ মার্চ।
মুহম্মদ নূরুল হক ১৯০৭ সালের ১৯ মার্চ সিলেট জেলার বিশ্বনাথ উপজেলার দশঘর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা হাজী মুহম্মদ আয়াজ ফার্সী সাহিত্যে পারদর্শী ছিলেন। নূরুল হক শৈশবে গ্রামের প্রাইমারী স্কুল, কৈশোরে রায়কেলী এম.ই স্কুল, ফুলবাড়ী জাতীয় মাদ্রাসা বেলাব অঞ্চলের আমলাব সিনিয়র মাদ্রাসা ও সর্বশেষ সিলেট সরকারী আলীয়া মাদ্রাসায় অধ্যয়ন করেন।
সাহিত্য সাধনার নিরলস কর্মী মুহম্মদ নূরুল হক সিলেট সরকারী আলীয়া মাদ্রাসায় অধ্যয়নকালে প্রথমে ‘অভিযান’ নামে একটি হাতে লেখা পত্রিকা বের করেন। ১৯৩২ সালে এই পত্রিকাই ‘মাসিক আল ইসলাহ’ নামে আত্মপ্রকাশ করে মুদ্রিত আকারে বের হয়। এই পত্রিকার মাধ্যমে তিনি বাংলা ও আসাম অঞ্চলের সাহিত্য চর্চায় যুগান্তকারী অবদান রাখেন। তিনি প্রায় অর্ধ শতাব্দীরও অধিককাল আল ইসলাহ প্রকাশ ও সম্পাদনা করেন।
১৯৩৬ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর নূরুল হকের আগ্রহ ও ব্যাপক প্রচেষ্টায় স্থানীয় কবি, সাহিত্যিক ও বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গের সহযোগিতায় বিশিষ্ট কথা সাহিত্যিক সরেকওম এ.জেড আব্দুল্লাহ’র বাসভবনে এক সভায় সর্বসম্মতিক্রমে ‘সিলহেট মুসলিম সাহিত্য সংসদ’ এর আত্মপ্রকাশ করে। সভায় দেওয়ান একলিমুর রেজা চৌধুরীকে সভাপতি, সরেকওম এ.জেড আব্দুল্লাহকে সম্পাদক এবং আল ইসলাহ’র সম্পাদক মুহম্মদ নূরুল হকসহ ১০ জনকে সদস্য করে কমিটি গঠন করা হয়। ১৯৩৯ সালে ২য় বার্ষিক অধিবেশনে নূরুল হক সম্পাদক ও কোষাধ্যক্ষের দায়িত্ব পান। তিনি অর্ধ শতাব্দীকাল নিজ মেধা, শ্রম ও একাগ্রতা নিয়ে ঐতিহ্যবাহী সিলেট কেন্দ্রীয় মুসলিম সাহিত্য সংসদকে একটি সমৃদ্ধ পাঠাগারে রূপ দিয়ে যান। বহু প্রতিকূল পরিবেশ ও পরিস্থিতির সাথে নিরন্তর লড়াই করে সাহিত্য সংসদকে তিনি দেশের একটি উল্লেখযোগ্য মানের প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তুলেন। মুহম্মদ নূরুল ১৯৪৬-৪৭ খ্রিষ্টাব্দে আসাম সেন্ট্রাল বুক কমিটির সদস্য নিযুক্ত হন, ১৯৬১ খ্রিষ্টাব্দে তিনি সিলেটে অনুষ্ঠিত ঐতিহাসিক নজরুল সাহিত্য সম্মেলনের মূল উদ্যোক্তা ছিলেন এবং একই বছর রবীন্দ্র শত বার্ষিকী অনুষ্ঠানের সাহিত্য বিভাগের দায়িত্ব পালন করেন।
১৯৬৩ খ্রিষ্টাব্দে তৎকালীন পাকিস্তানের ১৭তম স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে সমাজসেবা স্বীকৃতি স্বরূপ ‘তমগা-ই-খেদমত’ উপাধি লাভ করেন এবং ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের প্রাক্কালে তিনি এই খেতাব বর্জন করেন। মুহম্মদ নূরুল হককে সাহিত্য ও সমাজসেবার স্বীকৃতি স্বরূপ জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্র, বাংলা একাডেমীসহ দেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও সংগঠন পদক সম্মানে ভূষিত করে। তিনি মরহুম আমিনুর রশীদ চৌধুরী স্মৃতি স্বর্ণপদকও লাভ করেন। নূরুল হক ১৯৪৭ সালে বাংলাকে পাকিস্তানে অন্যতম রাষ্ট্র ভাষা করার দাবী জানান। তিনি মুসলিম সাহিত্য সংসদ, মাসিক আল ইসলাহ ও ব্যক্তিগত উদ্যোগে সভা-সমাবেশ সহ নানা পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। নীরব সমাজকর্মী মরহুম মুহম্মদ নুরুল হক একজন প্রথিতযশা সাহিত্যিকও ছিলেন। তাঁর ৭টি গ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছে। ‘মুহম্মদ নূরুল হক জীবন ও সাধনা’ শীর্ষক পিএইচডি ডিগ্রী লাভ করেন এমসি কলেজের বাংলা বিভাগের প্রধান অধ্যাপক সাহেদা আক্তার। সাহিত্য সাধনায় নিরলস কর্মী প্রচারবিমুখ এই বিরল ব্যক্তিত্ব ১৯৮৭ সালের ২ সেপ্টেম্বর সিলেট শহরের পায়রা-৫৪, ঝর্ণার পারস্থ তাঁর নিজ বাসভবনে ইন্তেকাল করেন।
Related News
বাউলসম্রাট দুর্বিন শাহ: মরমি গানের জগতে এক অনন্য সাধক
আনোয়ার হোসেন রনি, ছাতক (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি: বাংলা লোকসংগীত ও মরমি সাহিত্যের ইতিহাসে এক উজ্জ্বল নামRead More
বিশ্ববাংলার ২৩ বছরের প্রকাশনা কেমুসাস লাইব্রেরিতে প্রদান
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: ঐতিহ্যবাহী সাহিত্য প্রতিষ্ঠান কেন্দ্রীয় মুসলিম সাহিত্য সংসদ (কেমুসাস) লাইব্রেরিতে মাসিক বিশ্ববাংলার গতRead More



Comments are Closed