‘নদী বাঁচাও, বাঁচাও নদী তীরের ঐতিহ্য’
মোঃ রেজওয়ান করিম সাব্বির, গোয়াইনঘাট থেকে ফিরে:আন্তর্জাতিক নদীকৃত্য দিবস উপলক্ষে সারি নদী বাঁচাও আন্দোলন ও রিভারকিপার বাংলাদেশ আয়োজিত ‘নদী বাঁচাও, বাঁচাও নদী তীরের ঐতিহ্য’ শীর্ষক এক নাগরিক সমাবেশ ও মানববন্ধন শনিবার বিকেলে গোয়াইন উপজেলার নদীর তীরে (খেয়াঘাটে) অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে বক্তারা বলেন, সভ্যতা নদীর দান। মানুষের সংস্কৃতির বিকাশ ও সভ্যতায় নদীর ভূমিকা অপরিসীম। নদীকে কেন্দ্র করেই গড়ে উঠেছে মানুষের সর্বোত্তম কীর্তি ও মূল্যবান সব কিছু। সে নদী ক্রমশঃ মানুষের দখল, দূষণ আর খননে বিপর্যদস্ত হয়ে পড়েছে। একই সাথে নদীর পাশাপাশি নদী কেন্দ্রীক ঐতিহ্যকে রক্ষা করতে সবাইকে সোচ্চার হতে হবে।
সারি নদী বাঁচাও আন্দোলনের সভাপতি আব্দুল হাই আল-হাদীর সভাপতিত্বে ও সিনিয়র সহ-সভাপতি, গোয়াইনঘাট প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি মো. মনজুর আহমদের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত এ সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন গোয়াইনঘাট বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের অধ্যক্ষ ফজলুল হক, প্রধান বক্তা ছিলেন রিভারকিপার বাংলাদেশ-এর সিলেট বিভাগীয় সমন্বয়কারী ও বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপার) সিলেটের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল করিম কিম। বক্তব্য রাখেন- গোয়াইনঘাটের ৪নং ল্যাংগুড়া ইউপির প্যানেল চেয়ারম্যান এম কামাল উদ্দিন, সারী নদী বাচাও আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুল আলম, গোয়াইনঘাট প্রেসক্লাবের সিনিয়র সহ-সভাপতি মিনহাজ উদ্দিন, ইউপি সদস্য জসিম উদ্দিন, উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান আসাদ, গোয়াইনঘাট কলেজ ছাত্রদল সভাপতি সাদেক আহমদ, জৈন্তাপুর প্রেসক্লাবের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবুল হোসেন মো. হানিফ, জৈন্তাপুর অনলাইন প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মোঃ রেজওয়ান করিম সাব্বির, সাংবাদিক ইলিয়াছ আকরাম, ইব্রাহিম খলিল, গোয়াইনঘাট বাজার ব্যবসায়ী কমিটির সিনিয়র সহসভাপতি নাজিম উদ্দিন, ব্যবসায়ী আশরাফ আলী নোমান, ছাত্রলীগ নেতা মনসুর আহমদ ডালিম, কলেজ ছাত্র দলের সাংগঠনিক সম্পাদক ফাহিম, ছাত্রদলনেতা জসিম উদ্দিন, কামরুল হোসেন, প্রবাসী সমাজ কল্যান পরিষদ নেতা আব্দুল মান্নান, যুবনেতা সাইদুজ্জামান, শ্রমিকনেতা সাইদুর রহমান, ওলামালীগ নেতা জয়নাল আবেদিন প্রমুখ।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন- গোয়াইনঘাট একটি সমৃদ্ধ ও প্রাচীন জনপদ। বৈচিত্র্যময় নৈসির্গিক সৌন্দর্য ও প্রাকৃতিক সম্পদের পর্যাপ্ততা এ জনপদকে এক ভিন্ন মাত্রায় নিয়ে গেছে। বিশেষ করে, এখানকার পুরাকীর্তি ও ঐতিহাসিক নিদর্শনসমূহ নিদর্শন প্রমাণ করে যে প্রাগৈতিহাসিক কাল থেকে এ জনপদে সভ্যতা বিকশিত হয়েছিল । সে সভ্যতা ও সমৃদ্ধির ক্ষেত্রে অনুঘটক হিসেবে কাজ করেছে এখানকার গোয়াইন, পিয়াইন, ডাউকিসহ অন্যান্য নদী। জালের মতো বিস্তৃত সে গুরুত্বপূর্ণ নদী ও তীরের ঐতিহাসিক নিদর্শনসমূহ দখলদারদের হাতে ক্রমশ: ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। বিশেষ করে, ডাউকি নদীর তীরবর্তি ’মন্দিরের জুম’ হিসেবে কথিত ৮ শতাধিক বছরের প্রাচীন মালনিয়াং রাজ্যের রাজ্যের স্মৃতি বিজড়িত রাজবাড়ীটি দখলদারদের হাত থেকে রক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য জোর দাবি জানানো হয়।
পরিবেশবিদ আব্দুল করিম কিম বলেন- জাফলং, বিছনাকান্দি, শ্রীপুর পাথর কোয়ারীতে হাইকোর্টের নির্দেশনা মোতাবেক পাথর উত্তোলন নিশ্চিত করতে হবে। নদীর নব্যতা বৃদ্ধির জন্য সরকারের পাশাপাশি ব্যক্তি পর্যায়ে সবাইকে সচেতন হতে হবে। নদীর তীরবর্তী জাফলং রাজবাড়ীসহ সকল স্থাপনা আমাদের গৌরবজনক অতীতের স্বার্থেই রক্ষার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।
Related News
কোম্পানীগঞ্জে বৃদ্ধ খুন, আটক ১
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: সিলেটের কোম্পানীগঞ্জে হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। বুধবার (৪ নভেম্বর) সকাল ৮টার দিকে উপজেলারRead More
ওসমানীনগরে ‘প্রেমিকার বাবার ছুরিকাঘাতে’ প্রেমিক নিহত
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: সিলেটের ওসমানীনগরে ভাতিজির সাথে প্রেমের জেরে সাইফুর রহমান (২৪) নামের এক যুবকRead More



Comments are Closed