Main Menu

পুলিশের দায়িত্ব- দুষ্টের দমন, শিষ্টের পালন

Manual6 Ad Code

এ এইচ এম ফিরোজ আলী: পুলিশ যে কোন দেশের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান। এ প্রতিষ্ঠানের উপর জননিরাপত্তা, আইনের শাসন ও রাষ্ট্রের অনেক ভাল-মন্দ নির্ভরশীল। বাংলাদেশের পুলিশ হচ্ছে, প্রধান আইন প্রয়োগকারী সংস্থা। আর এ সংস্থাটি বাংলাদেশ সরকারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনে পরিচালিত ও নিয়ন্ত্রিত হয়। ইংরেজি ছয় বর্ণের POLICE শব্দটির প্রত্যেকটি অক্ষর বা বর্ণের চমৎকারভাবে একটি অর্থ বা গুণবাচক শব্দ রয়েছে। যেমন- P=Polite অর্থ বিনয়ী, O=Obedient অর্থ বাধ্যগত, L=Loyal অর্থ বিশ্বস্থ, I=Intelligent অর্থ বুদ্ধিমান, C=Courageous অর্থ সাহসী, E=Efficient অর্থ দক্ষতা- এসব হচ্ছে, পুলিশ শব্দের বিশেষণ। বহুগুণে গুণান্বিত পুলিশ। সহজ কথায় বলা হয়, পুলিশ জনগণের বন্ধু বা পুলিশ আমাদের রক্ষক। পৃথিবীর উন্নত-অনুন্নত দেশে পুলিশ প্রকৃত অর্থেই জনগেণর বন্ধু। আপনজনের চেয়ে বেশি আপন। ডাক দিলেই জনগণের পুলিশ জনগণের কাছে দৌড়ে যায়। আপদে-বিপদে সাহায্য করে, সেবাই পুলিশের ধর্ম, সেই বাক্যের প্রমাণ দেয় অন্য দেশের পুলিশ। কিন্তু আমাদের দেশের পুলিশ জনগণের বন্ধু হয়না কেন? দুষ্টের দমন ও শিষ্টের পালন যদি পুলিশ না করে তাহলে করবে কে? বিপদ থেকে রক্ষা পাওয়ার বদলে যদি পুলিশ আরও বেশি বিপদে ফেলে দেয় তাহলে পুলিশের উপর মানুষের বিশ্বাস থাকে কি করে? বর্তমান সময়ে পুলিশকে দেশের রাজাও বলা হয়। কেউ কেউ বলেন, এ সরকার পুলিশের উপর নির্ভর করে ঠিকে আছেন। এমন কথা শুনলে পুলিশের অনেক কর্মকর্তা ভাল স্বাদও পান। পুলিশের সফলতা এবং ব্যর্থতা দুই-ই আছে। মহান মুক্তিযুদ্ধে পুলিশের অবদন অবিস্মরণীয়। পাকিস্তানী সেনাদের আক্রমনের প্রথম শিকার হয় রাজারভাগ পুলিশ লাইন। পুলিশে অনেক ভাল, সৎ, দক্ষ, কর্মট কর্মকর্তা রয়েছেন। কিন্তু কতিপয় অসৎ পুলিশের নেতিবাচক কারণে গৌরবময় এ প্রতিষ্ঠানটির সব অর্জন ম্লান হচ্ছে।
দেশে সা¤প্রতিকালে চাঞ্চল্যকর কয়েকটি ঘটনায় আইন-শৃংখলা বাহিনীর জড়িত থাকায় বেশি সমালোচনা হচ্ছে। গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জের সাঁওতাল পল­ীতে বাড়ি-ঘরে আগুন দিয়েছে পুলিশ। বিদেশী গণমাধ্যমে ঘটনা দেখানো হয়েছে। বিচারকি তদন্তেও পুলিশ জড়িত থাকার কথা বলা হয়েছে। নারায়ণগঞ্জের ৭ খুনের ঘটনায় আইন-শৃংখলা বাহিনী সহ ২৬ জনের ফাঁসি, এদেশের ইতিহাসে বিরল। চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার বাবুল আখতারের স্ত্রী হত্যা এবং বাবুল আখতার একজন এস.আই স্ত্রীর সাথে পরকীয়ার কারণে তার স্বামী হত্যার ঘটনা ব্যাপকভাবে সমালোচিত হচ্ছে। পুলিশের পক্ষে সাফাই দিতে গিয়ে আমাদের অল্পভাষী স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হরতালে সাংবাদিক পেটানোর ঘটনাকে ধাক্কা-ধাক্কি বলায় জাতি মর্মাহত হয়েছে। তবে তিনি যেভাবে বক্তব্য সংশোধন করলেন অভিনন্দন পাওয়ার যোগ্য। আল­াহর মাল আল­াহ নিয়েছেন, বিরোধী দল ধাক্কা দিয়ে রানা প্লাজা ফেলে দিয়েছে, আই.এম লুকিং ফর শত্র“জ- এমন কথা দায়িত্বশীল মন্ত্রীদের মুখ থেকে শুনেছি। জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাসবাদ দমনে বিশ্বব্যাপী আমাদের আইন-শৃংখলা বাহিনীর ভূমিকা প্রশংসিত হয়েছে। আবার নানা কারণে সমালোচিত হচ্ছে। গণমাধ্যমে পুলিশের একটি সু-সংবাদের খরব আসলে দু-সংবাদের তথা অপরাধের খবর থাকে ১০টি। টাকার লোভে পুলিশ চাঁদাবাজি, ছিনতাই, মাদক ব্যবসা, গ্রেফতার বাণিজ্য, জমি ফ্ল্যাট দখল, ঘুষ, দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার, মহিলা পুুলিশ ধর্ষন সহ সবধরনের অপরাধে জড়িয়ে পড়েছে পুলিশ। চাকরীচ্যুত, তিরস্কার, গুরুদন্ড, লগুদন্ড সহ বিভিন্ন শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হলেও পুলিশের অপরাধ কমছে না, বরং দিন দিন অপরাধ প্রবণতা বাড়ছে।
পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্য মতে ২০১১ সাল থেকে ২০১৬ সালের আগস্ট মাস পর্যন্ত ছয় বছরে ৭৬ হাজার ৪২৬ জন পুলিশ সদস্যদের শাস্তি দেয়া হয়েছে। কনষ্টেবল, এস.আই, এ.এস.আই সহ উর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তারাও শাস্তির আওতায় পড়েছেন। দেশে ১১ হাজার ৩৮ জন মহিলা পুলিশ রয়েছে। এ সংখ্যা এখন আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। এদের অধিকাংশ পুলিশ কর্তৃক যৌন হয়রানির শিকার বলে এক গবেষণায় তথ্য বেরিয়েছে। দায়িত্ব-কর্তব্য পালন করতে গিয়ে ২০০০ সাল থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত পুলিশ বাহিনীর ৮৯৪ সদস্য নিহত এবং ৬ হাজারেরও বেশি আহত হয়েছেন। গুলশানের হলি আটিজান হোটেলে জঙ্গিদের হামলায় ডিবি পুলিশের সহকারি কমিশনার রবিউল করিম, বনানী থানার ওসি সালাউদ্দিন নিহত হয়েছেন। শোলাকিয়ায় জঙ্গি হামলায় জহিরুল ও আনসারুল নামের দুইজন কনষ্টেবল নিহত হয়েছেন। ২০১৬ সালের ১২ জানুয়ারি ঢাকার একটি জাতীয় দৈনিকে “বেপরোয়া পুলিশ” শিরোনামে একটি সংবাদ প্রকাশিত হয়। তাতে রাজধানীর ৪৯টি থানার অপরাধের কিছু চিত্র তুলে ধরা হয়। তাতে বলা হয়, ৯ জানুয়ারি মোহাম্মদপুর থানার মাসুদ রানা শিকদার ও কয়েকজন পুলিশ বাংলাদেশ ব্যাংকের জনসংযোগ বিভাগের সহকারি পরিচালক গোলাম রাব্বীকে মারপিঠ করে ৫ লাখ টাকা দাবি করেন। ঐদিন সকালে রূপনগর থানার এস.আই সেলিম, এ.এস.আই আসাদ, সামসুল হুদা তুহিন নামের এক ব্যবসায়ীর নিকট ৫ লাখ টাকা দাবি করে। ২০১৫ সালের ডিসেম্বর মাসে একই থানার এস.আই ফিরোজ ওয়াহিদ, এ.এস.আই মিজান, শামসুজ জোহা ফরহাদ নামক এক ব্যবসায়ীকে মামলায় ফাঁসানোর ভয় দেখিয়ে ২ লাখ ৮৫ হাজার টাকা হাতিয়ে নেন। ভাটারা এলাকার ব্যবসায়ী মমতাজ উদ্দিন খানের স্ত্রীর নিকট পুলিশ, ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করলে চাঁদা না দেয়ায় তার ছেলেকে ক্রসফায়ারের ভয় দেখিয়ে নির্যাতন করে এবং বাসায় গিয়ে আলমীরা ভেঙ্গে ২৫ ভরি স্বর্ণ ও ৩ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয় পুলিশ। মিরপুর থানার এস.আই ইমরুল ফাহাদ, মোয়াজ্জেম হোসেন, এ.এস.আই আজিজ, রাজু নামের এক যুবককে ধরে নিয়ে ৫ লাখ টাকা দাবি করে। স্বজনরা টাকা দিতে না পারায় ইয়াবা মামলায় ফাঁসিয়ে আদালতে চালান দেয়। এ বছর ৩ মে মধ্য রাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীকে মামলায় ফাঁসানোর হুমকি দিয়ে ৫০ হাজার টাকা দাবি করলে এস.আই শ্যামল দত্তকে আটক করে প্রক্টরের কাছে সোপর্দ করে শিক্ষার্থীরা। যাত্রাবাড়ীর শনির আখড়ায় নারায়ণগঞ্জগামী একটি বিআরটিসি বাস আটক করে জুট ব্যবসায়ী নাজমুলের নিকট থেকে ১৯ লাখ টাকা লুট করে নেয়, কাফরুল থানার এস.আই শফিকুল ইসলাম নারায়ন সাহা নামের এক ভারতীয় নাগরিককে মাদক ব্যবসায়ী বলে আটক করে নগদ ১২ হাজার টাকা ও একটি স্বর্ণের চেইন ছিনিয়ে নেয় রমনা থানার এস.আই আব্দুল করিম। দক্ষিণখান থানার এস.আই জয়নাল আবেদীন, ফয়েজ আহমদ নামের এক ব্যক্তিকে ৫ লাখ টাকা চাঁদা না দেয়ায় গুলি করে আহত করে। আশুলিয়া থানার এস.আই শহিদুল ইসলাম মোল­ার অপরাধের খতিয়ান খুব দীর্ঘ। তাঁর চাঁদাবাজি করে মাসিক আয় ৫০ লাখ টাকা। চট্টগ্রামের নিউ মার্কেট এলাকায় অস্ত্র বিক্রীর সময় ডিবি পুলিশ, উজ্জ্বল কান্তি দাস ও এ.এস.আই আনিসুর রহমানকে গ্রেফতার করে। চট্টগ্রাম হাটহাজারী থানার ওসি বেলাল জাহাঙ্গীর সহ দুই এস.আইর বিরুদ্ধে ঘুষ গ্রহণের অভিযোগে মামলা হয়। পাহাড়তলী থানার ওসি রঞ্জিত বড়–য়ার বিরুদ্ধে ধর্ষনের মামলা করেন এক নারী। নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও থানার ওসি মঞ্জুর কাদেরের বিরুদ্ধে গণমাধ্যমে দুর্নীতির ব্যাপক অভিযোগ প্রকাশিত হয়েছে। তিনি মাদক চোরাচালানিদের সাথে আঁতাত করে প্রতি মাসে কোটি টাকা পর্যন্ত আয় করেন। ২০১৬ সালের ২৭ মার্চ ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পাশে মোগড়াপাড়া চৌরাস্তায় প্রায় সোয়া দুই কোটি টাকার বিরোধপূর্ণ জমি ওসি তার আপন ছোট ভাই ইফতেখারুল ইসলামের নামে বায়না দলিল রেজিষ্ট্রারী করে দখল করেন (দলিল নং-৪১১৩)। অথচ এ জমির মালিক হাবিবপুর গ্রামের মৃত নুরুল ইসলাম বেপারীর মেয়ে বিউটি আক্তার। এ ওসির বিরুদ্ধে ঝাড়– মিছিলও হয়েছে।
২০১৫ সালের ২৪ জুন বহুল প্রচারিত একটি জাতীয় দৈনিকে “ইয়াবার নিরাপদ বাহক পুলিশ” শিরোনামে একটি সংবাদে বলা হয়। ঢাকা-চট্টগ্রাম-কক্সবাজার ইয়াবা বহনে অর্ধ শতাধিক পুলিশের কর্মকর্তা জড়িত বলে একটি গোয়েন্দা সংস্থা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে তালিকা জমা দিয়েছেন। ইয়াবা উদ্ধারের পর জব্দ তালিকায় কম দেখানো হয়, নতুবা আটক ইয়াবা কম মূল্যে কিনে বিভিন্ন স্থানে বেশি মূল্য বিক্রি করে পুলিশ। ফেনী লাল পোল এলাকা থেকে ২৮ কোটি টাকার ইয়াবা সহ গ্রেফতার করা হয় পুলিশের বিশেষ শাখার এ.এস.আই মাহফুজুর রহমান ও তাঁর গাড়ীচালক জাবেদ আলীকে। তাদের তথ্য মতে এস.আই বেলাল হোসেন, এস.আই আমির, এ.এস.আই আশিক হোসেন, ঢাকার এসবির কনষ্টেবল কাশেম, গিয়াস এবং শাহিন জড়িত থাকার ঘটনা প্রকাশ পায়। চকরিয়ার মাতামুহরী পুলিশ ফাঁড়ির কনষ্টেবল নাজমুল ইসলাম ১ লাখ ২০ হাজার পিস ইয়াবা, চকরিয়া থানার এস.আই আখতার, কনষ্টেবল দেলওয়ার ১ কোটি ১০ লাখ পিস ইয়াবা সহ গ্রেফতার হয়। চট্টগ্রামের বিশেষ শাখার কনষ্টেবল বাছির আহমদ, বিপুল পরিমাণ ইয়াবা সহ গ্রেফতার হয়। তাহিরপুর থানার বাদাঘাট পুলিশ ফাঁড়ির এস.আই জালাল এক কিশোরী ধর্ষনের ঘটনায় টাকার বিনিময়ে মামলা রেকর্ড করেননি। রাজশাহী পবা থানার ওসি শরিফুল ইসলাম ধর্ষনের মামলা রেকর্ড না করার অভিযোগ উঠে। রাজধানীর কারওয়ান বাজার মুড়ে আব্দুল বাছির মনা নামের এক ডিম ব্যবসায়ীর ৪৪ হাজার টাকা ছিনতাইকালে লতিফুজ্জামান লতিফ, রাজেকুল খন্দকার নামের দুই কনষ্টেবলকে জনতা হাতে-নাতে আটক করে। মিরপুর ১ নম্বরে মাহবুবুর রহমান সুজন পুলিশ হেফাজতে মারা গেলে তাঁর স্ত্রী মমতাজ সুলতানা ওসি সালাউদ্দিন খান, এস.আই জাহিদুর রহমান সহ ১০ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করলে সুলতানাকে পুলিশ আবার অপহরণ করে। চট্টগ্রাম ডিবি পুলিশের এস.আই ও এ.এস.আই পদমর্যাদার অফিসাররা সোনা, ইয়াবা, হুন্ডির টাকা ছিনতাইয়ের সাথে জড়িত। ২০১৬ সালের ৫ নভেম্বর দেড় কোটি টাকার, ২৭ টি সোনার বার ডিবি পরিচয়ে ছিনতাই করা হয়। ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে নাসির উদ্দিন নামক এক ট্রাক চালকের নিকট ১ লাখ টাকা ঘুষ না দেয়ায় পুলিশ গুলি করে তাকে আহত করে। রামপুরা থানার এস.আই রফিকুল ইসলাম, এ.এস.আই মিলন, এ.এস.আই খালেক, কনষ্টেবল আসাদ জেসমিন আক্তার নামের এক মহিলার বাসায় ঢুকে লুটপাট ও মহিলাকে ধর্ষন করে। হবিগঞ্জের বাহুবলে ৪ শিশু হত্যার দায়িত্ব-কর্তব্য অবহেলার দায়ে এস.আই জিয়াউর রহমানকে বরখাস্ত করা হয়। চুয়াডাঙ্গার সুমন নামের এক পুলিশ সদস্য তাঁর স্ত্রী সুমা খাতুনকে গলায় ফাঁস দিয়ে হত্যা করে। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র জুবায়ের হত্যা মামলার ৪ আসামী আদালতের কাঠগড়া থেকে পালিয়ে যায়। কক্সবাজারের টেকনাফে আটক ইয়াবা ব্যবসায়ী নুরুল হুদা হাতকড়া অবস্থায় পালিয়ে যায়। জামালপুরের সরিষাবাড়িতে পুলিশকে পিঠিয়ে আহত করে, দন্ডপ্রাপ্ত আসামী হাফিজুল পুলিশের অস্ত্র নিয়ে পালিয়ে যায়। রাজধানীর পল­বী থানা থেকে আতিকুর রহমান সূর্য নামের রিমান্ডে থাকা আসামী, ঢাকার গারো তরুনী ধর্ষন ও ১২ মামলার আসামী রাফসান হোসেন রুবেল আদালত থেকে পালিয়ে যায়। ফরিদপুরে হাসপাতাল থেকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শহীদ প্রামাণিক নামের এক আসামী হাতকড়া পরা অবস্থায় পালিয়ে যায়। নারায়ণগঞ্জের ফতুল­া থানা থেকে একটি হত্যা মামলার রিমান্ডে থাকা আসামী কবির হোসেন পালিয়ে যায়। এসব তথ্য কয়েকটি গণমাধ্যমের।
একজন সংবাদকর্মী হিসাবে পুলিশের অনেক ভাল-মন্দ নিজে দেখেছি। পুলিশের অনেক অফিসার নিজের ব্যবহার ও আচরণ দিয়ে মানুষকে ম্যানেজ করে বিরোধ মিমাংসা করেছেন। মানুষ, তাদের প্রতি আত্মবিশ্বাসীও ছিল। এখানে স¤প্রতিকালে দুটো ঘটনার কথা না লেখলে যেন লেখাটি পূর্ণ হয় না। কয়েক মাস পূর্বে একটি উচ্চ বিদ্যালয়ের সভাপতি আমাকে নিয়ে আমাদের থানায় গিয়েছিলেন একটি জিডি করার জন্য। সভাপতির স্বাক্ষরিত জিডিটি ওসি আব্দুল হাই (বদলী) তিনবার পরিবর্তন করালেন, তারপর ডিউটি অফিসার কলে­ালের নিকট পাঠালেন। তারপর তিনি এস.আই হাবিবুর রহমানের নিকট পাঠান। এস.আই হাবিবুর রহমান আরেকবার জিডিটিকে পরিবর্তন করে শেষ পর্যন্ত নামী-দামী এক দালালের টেলিফোনে জিডিটি ছিড়ে ফেলে দেন। তখন আমরা দু’জন হতবাক ও লজ্জায় ফিরে আসি। তারপরের ঘটনা, প্রতাবপুর গ্রামের সমুজ আলী তার এক শিশু পুত্র শাহিনকে গ্রামের এক বখাটে ধরে নিয়ে বাড়িতে বেঁধে আটকে রাখে। সারাদিন অপেক্ষার পর তারা থানা পুলিশের কাছে গেলে ওসি ঘটনা শুনে এস.আই শুভ্রকে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেন। এস.আই শুভ্র গাড়িতে উঠেই সমুজ আলীকে টাকার জন্য চাপ সৃষ্টি করেন এবং ঘটনাস্থলে গিয়ে ঘটনা সত্যতা পাওয়ার পর আসামীদের সাথে কানা-ঘুষা করে কিছু টাকা পেয়ে বাদী পক্ষের উপর ক্ষেপে যান। এক পর্যায়ে সমুজ আলীর চাচাকে আটক করে মাথার টুপি খুলে নানা কটুক্তি করে মারপিঠ করেন। তারা নিরুপায় হয়ে ১৯ হাজার ৫ শত টাকা দিয়ে তাকে ছাড়িয়ে আনেন। এ গ্রামের মানুষ খুবই গরিব এবং শিক্ষিতের সংখ্যা একেবারেই কম। পুলিশ সুপারের নিকট এ বিষয়ে অভিযোগ করা হলে ঘটনার সত্যতা প্রমাণিত হয় এবং দারোগা শুভ্র ঘুষের ১৯ হাজার ৫ শত টাকা ফেরত দিয়ে তাদের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেন। কিন্তু তার বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। এভাবে শত শত নয়, হাজার হাজার ঘটনা ঘটছে এদেশের থানাগুলোতে। কিন্তু অপরাধ প্রবণতা কমছে না বরং বাড়ছে। এমন ভোগান্তি থেকে মানুষ মুক্তি চায়। আর পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগ পুলিশ দিয়ে তদন্ত না করে বিচারকি তদন্ত করা হলে পুলিশের অপরাধ প্রবণতা অনেকটা হ্রাস পাবে বলে বিজ্ঞ মহল মনে করছেন।
২০১৩ সালে পুলিশ হেফাজতে মৃত্যু ও নির্যাতন (নিবারণ) আইন পাস হওয়ার পর পুলিশ হেফাজতে ২০৫ জন ব্যক্তি মারা গিয়েছেন। গত ২৩ জানুয়ারি পুলিশ সপ্তাহ পালন উপলক্ষে রাজারভাগ পুলিশ লাইনে এ আইন রদ করার জন্য প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়। জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, পার্লামেন্টের যে বিল পাস করা হয়েছে সেটা খারিজ বা রদ করা সঙ্গত হবে কি না তা জানি না। ২০১৩ সালে আওয়ামীলীগের সংসদ সদস্য সাবের হোসেন চৌধুরী সংবিধানের ৩৫ (৫) ধারা অনুয়ায়ী বিলটি সংসদে পেশ করেন। বাংলাদেশের পুলিশ তাদের হেফাজতে থাকা বন্দীদের উপর যে নির্যাতন করে তার প্রকাশ্য স্বীকৃতি চায় তারা। পুলিশের হেফাজতে নির্যাতনের বিরুদ্ধে সংসদে পাশ করা আইন রদ করার দাবি করে পুলিশ স্পষ্ট ভাবে নির্যাতনের কথা স্বীকার করেছেন। দেশের মানুষকে নির্যাতন করে তাদের অধিকার বলে মনে করেন তারা। সুপ্রিম কোর্টের দিক নির্দেশনার ৪ ধারায় বলা হয়েছে দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতির অস্থিতিশীলতা বা যুদ্ধের হুমকির মতো পরিস্থিতির দোহাই দিয়ে নির্যাতন করা যাবে না। কারও সঙ্গে কোন ধরনের অপমানকর আচরণকে যৌক্তিকতা দেয়া যাবে না। নিবারণ আইনের ১২ ধারাতেও ঠিক একথা বলা হয়েছে। সুতরাং দেশের মানুষের আক্ষেপ আমাদের পুলিশ আমাদের হয়না কেন? জাতির মেরুদন্ড কৃষক, তাঁদের কষ্টে অর্জিত অর্থ রাজকোষ থেকে বেতন দেয়া হয় পুলিশের। এ কথাটি পুলিশকে ভাবতে হবে। আমরা চাই, পুলিশ সকল অপরাধ থেকে দূরে থাক এবং মানুষের আস্থা যেন পুলিশ অর্জন করতে পারে।
লেখক : কলামিস্ট

Share





Related News

Comments are Closed

Manual1 Ad Code
Manual4 Ad Code