ইউপি সদস্য রহিমা বেগমের এখনো মাথাগোঁজার ঠাই হয়নি
700ছনি চৌধুরী, নবীগঞ্জ (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি : যার কেউ নেই তার আল্লাহ আছেন, এটাকে বিশ্বাস করেই এক নারীর পথচলা শুরু। এমনকি নেই তার বাড়ি, গাড়ী, দামী কাপড় চোপড়, নেই কোন বসসাবের নিজস্ব জায়গা।
স্বামী সন্তান ও জীবনের ঝুকি নিয়ে ঢাকা- সিলেট মহাসড়কের ব্রীজের নিচে ঝড়, বৃষ্টিকে অতিক্রম করে জীবন যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছেন জনগণের বিপুল ভোটে নির্বাচিত রহিমা বেগম।
ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের ব্রীজের নিচে বসবাস, তাও আবার দীর্ঘ ১ যুগ ধরে! চোখ কপালে উঠবে যখন জানবেন ভোটে নির্বাচিত একজন জনপ্রতিনিধি তিনি। নাগরিক সুবিধার দেখবাল করলেও নিজের মাথা গোজাঁর ঠাই নেই। এমন কি দীঘদিন ঘটক হিসাবে কাজ করেছেন তিনি। আর মাসে ২/১টি বিয়ে পড়াতে পারলেও নুন আন্তে পান্তা ফুরাতো। ঘটকালির সুবাধে এলাকার সকল শ্রেনী পেশার লোকজনের সাথে রহিমার ছিল সু-সম্পর্ক। কিন্তু অভাব কখনোই থামাতে পারেনি রহিমা বেগমকে। সবার আগে ছুটে যান এলাকাবাসীর সূখে, দুখে তাদের পাশে।
মানব সেবার প্রত্যয়ে তিনি তিনবার নির্বাচন করেছেন। কিন্তু ২ বারের নির্বাচনে তিনি পরাজয় মেনে নিলেও গেল বছরের ২৮মে নির্বাচনী তফসিল ঘোষনার পর থেকে কোমর বেধেঁ নেমে পড়েন নির্বাচনী প্রচার- প্রচারনায়। অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচনে ৪জন প্রার্থীর সঙ্গে প্রতিদ্বন্দিতা করেন মাইক মার্কা প্রতীক নিয়ে। তবে, সচেতন ভোটাররা সবার চেয়ে যোগ্য ব্যক্তি দেখে বিচার- বিবেচনা করে অপর তিন প্রাথীর চেয়েও প্রায় ১৮শ ভোট বেশি পেয়ে জনপ্রতিনিধি হিসাবে রহিমা বেগমকে নির্বাচিত করেন।
এ সংবাদ গণমাধ্যমে প্রচার হওয়ায় বুধবার দুপুরে নবীগঞ্জ উপজেলার ব্যস্ততম জনবহুল ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের আউশকান্দি ইউনিয়ন পরিষদ সংলগ্ন মনু খালের ব্রীজের নীচে তাকে দেখতে যান নবীগঞ্জ উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান ও উপজেলা নারী উন্নয়ন ফোরামের সভাপতি নাজমা বেগম। সাথে ছিলেন, নবীগঞ্জ উপজেলা নারী উন্নয়ন ফোরামের সাধারন সম্পাদ রাবিয়া বেগম, সদস্য মরিয়ম বেগম, রুজিনা বেগম, শিবু রানী দেব ও চ্যানেল এস/ দৈনিক হবিগঞ্জ সমাচার নবীগঞ্জ প্রতিনিধি বুলবুল আহমদ প্রমূখ। জনদরদি নবীগঞ্জ উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান নাজমা বেগমের আগমনে আগমনে ইউপি সদস্য রহিমা বেগম সহ তার পরিবারের লোকজনের মনে যেন আনন্দের বন্যা বইছিল। কথা বলেন একজন আরেক জনের সাথে। শুরু হয়ে যায় রহিমার জীবন সংগ্রামের সুখ, দুঃখের কাহিনী।
ইউপি সদস্য রহিমা বলেন, বয়স প্রায় ৫০’র কাছাকাছি, হঠাৎ পরপারে চলে যাব। কিন্তু মরার আগ মূহুর্তে কি সন্তানদের মাথাগোঁজার ঠাই হবে? দিন রাত ওই ব্রীজের উপর দিয়ে সারাদেশের ছোট বড় কয়েক হাজার যান বাহন চলাচল করে। আর বর্ষার সময় খালে পানি হলে বেড়ে যায় দূর্ভোগ। আমার ২ পুত্র ও ১ কন্যা সন্তান রয়েছে। অসুস্থ্য স্বামী ও অপ্রাপ্ত বয়স্ক ছেলে মেয়েকে নিয়ে বেচেঁ থাকার তাগিদে দিশেহারা হয়ে পড়েছি। আমি আউশকান্দি ইউনিয়নের জালালপুর গ্রামের মকদ্দুছ মিয়ার স্ত্রী বলে মহিলা ভাইস চেয়ারম্যানের গলায় ধরে হাউমাউ করে কান্না শুরু করেন রহিমা বেগম। এমন এক হৃদয় বিদারক ঘটনা দেখে চোখের পানি কেউ ধরে রাখার মতো নয়!
Related News
হবিগঞ্জে বাস-পিকআপের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ১
Manual4 Ad Code বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: হবিগঞ্জের মাধবপুরে এনা পরিবহনের একটি বাসের সঙ্গে পিকআপের মুখোমুখিRead More
হবিগঞ্জে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল ব্যবসায়ীর
Manual7 Ad Code বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: হবিগঞ্জের চুনারুঘাটে সড়ক দুর্ঘটনায় দুলাল দেব নামে এক ব্যবসায়ীRead More



Comments are Closed