বাংলাদেশ নারী মুক্তি কেন্দ্রের উদ্যোগে নারী দিবস পালন
বৈশাখী নিউজ ২৪ ডটকম: বাংলাদেশ নারী মুক্তি কেন্দ্র সিলেট জেলা শাখার উদ্যোগে নানা আয়োজনে ১০৭তম নারী দিবস পালন করা হয়েছে। বিকাল ৩টায় সংগঠনের বিভিন্ন স্তরের নেতা কর্মীসহ সবাই রেজিস্ট্রি মাঠে জমায়েত হয়ে একটি সুসজ্জিত র্যালী শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে সিলেট কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে সমাবেশে মিলিত হয়।কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে সমাজতান্ত্রিক রাশিয়ায় নারীদের অবস্থান এবং বর্তমান সমাজে নারীদের জীবন চিত্র তুলে ধরে একটি তথ্যচিত্র প্রদর্শনী করা হয়। বাংলাদেশ নারী মুক্তি কেন্দ্র সিলেট জেলা শাখার আহŸায়ক তামান্না আহমেদের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক ইশরাত রাহী রিশতার পরিচালনায় বক্তব্য রাখেন – বাংলাদেশ নারী মুক্তি কেন্দ্র সিলেট জেলা শাখার সদস্য লক্ষী পাল, নারী মুক্তি কেন্দ্রের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি সীমা দত্ত এবং বাসদ (মার্কসবাদী) সিলেট জেলার আহবায়ক কমরেড উজ্জ্বল রায়।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, ১৮৫৭ সালের ৮ মার্চ আমেরিকার নিউইয়র্কের সুতা কারখানায় নারী শ্রমিকরাই প্রথম উপযুক্ত বেতন, কাজের উন্নত পরিবেশ, ১০ ঘন্টা কর্মদিবস, অভিবাসি ও কৃষ্ণাঙ্গ শ্রমিকের ওপর নির্যাতনের প্রতিবাদে আন্দোলনে নামে। একই সাথে সর্বজনীন ভোটাধিকার প্রদানের দাবিও শক্তিশালী রূপ ধারণ করে, পরবর্তীতে ১৯০৮ সালে নারীরা বিভিন্ন কারখানায় কর্মবিরতি এবং ধর্মঘট পালন করতে শুরু করে। ঐতিহাসিক এই আন্দোলনের ফলে ১৯০৯ সালে নারী শ্রমিকদের সভায় নারীর ভোটাধিকারের দাবি প্রস্তাব হিসেবে গ্রহণ করা হয়। নারী আন্দোলনের এই চেতনাকে ধরে রাখার জন্য জার্মান সোসালিস্ট রিপাবলিকান পার্টির নেত্রী ক্লারা জেটকিনের প্রস্তাববের ভিত্তিতে ১৯১০ সাল থেকে ৮ মার্চ আন্তর্জাতিক নারী দিবস পালিত হয়ে আসছে। কিন্তু আজকের সমাজে নারীদের অবস্থান কী ? বর্তমান আধুনিক সমাজ বলা হলেও পৃথিবীর কোথাও নারীদের প্রকৃত মর্যাদা , স্বাধীনতা ও অধিকার দিতে ব্যর্থ। বর্তমান পুঁজিবাদী সমাজ মুনাফার স্বার্থে পরিচালিত হয় বলে নারীকে পণ্য হিসেবে উপস্থাপন করে। তাই এ সমাজে নারীদের প্রকৃত মর্যাদা ও সঠিক দৃষ্টিভঙ্গি গড়ে ওঠে নাই। ফলে সমাজে নারীদের প্রতি অন্যায়,অত্যাচার,নির্যাতন ক্রমেই বাড়ছে।
বক্তারা আরো বলেন – আমরা যদি পেছনে ফিরে থাকাই তাহলে দেখতে পাবো যে , শুধু মাত্র সমাজতান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থা ছাড়া পৃথিবীতে আর কোন সমাজ ব্যবস্থা তার প্রকৃত স্বাধীনতা ও মর্যাদা দিতে পারে নাই। আজ থেকে শত বর্ষ আগে সোভিয়েত রাশিয়া যে সমাজ তৈরী করেছিলো সেই সমাজ সর্বোচ্চ মর্যাদা দিতে পেরেছিলো। শিল্প-সাহিত্য,বিজ্ঞান,চিকিৎসাশাস্্রসহ সকল ক্ষেত্রে সমাজ প্রগতিতে অগ্রণী ভ’মিকা রেখেছিলো। আজ নারী মুক্তি গোটা সমাজ মুক্তির সাথে অঙ্গাঅঙ্গিভাবে জড়িত। তাই নারীদের প্রকৃত স্বাধীনতা,মর্যাদা ও সর্বোপুরি মুক্তি অর্জন করতে হলে মুনাফা ভিত্তিক পুঁজিবাদী সমাজ ভেঙ্গে যৌথতার ভিত্তিতে যে সমাজতান্ত্রিক সমাজ তা বিনির্মাণের যে আন্দোলন তা বেগবান করতে হবে।
Related News
‘হৃদবন্ধন সাহিত্য পরিষদ’র ৫ম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ও অভিষেক অনুষ্ঠিত
Manual1 Ad Code বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটির ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ জহিরুল হকRead More
সিলেটে ইসলামী আন্দোলনের বিক্ষোভ মিছিল
Manual8 Ad Code বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: সম্প্রতি সংসদে পাশ হওয়া শরীয়াহ বিরোধী আইন সম্পত্তি হস্তান্তরRead More



Comments are Closed