Main Menu

বিক্রির খবরে শেভরনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে অস্থিরতা

Manual3 Ad Code

বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: চীনের রাষ্ট্রীয় কোম্পানী জিনহুয়া অয়েল (Zhenhua Oli) -এর কাছে বিক্রির খবরে মার্কিন বহুজাতিক তেল গ্যাস উত্তোলনকারী কোম্পানী শেভরনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে এক ধরণের অস্থিরতার সৃষ্টি হয়েছে। এ অবস্থায় কোম্পানীর লভ্যাংশের ৫% আদায়ে তারা সোচ্চার হয়ে উঠেছেন। এ লক্ষ্যে তারা কালো ব্যাজ ধারণ কর্মসূচি পালন করেছেন। আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় আজ বুধবার দুপুর ১২টায় শেভরন জালালাবাদ গ্যাস প্ল্যান্টের ১ নম্বর গেটে (আলুতল) শেভরন বাংলাদেশ এমপ্লয়ীজ ইউনিয়নের উদ্যোগে এক মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়েছে।
যুক্তরাজ্য ভিত্তিক আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা রয়টার্স-পরিবেশিত খবরে বলা হয়, চীনের রাষ্ট্রীয় জিনহুয়া অয়েলের সাথে সম্প্রতি বাংলাদেশে শেভরনের মালিকানাধীন প্রাকৃতিক গ্যাসক্ষেত্র বিক্রির প্রাথমিক চুক্তি হয়েছে। জিনহুয়া চীনের সামরিক শিল্প প্রতিষ্ঠান নরিকো’র একটি অধিভূক্ত (সাবসিডিয়ারী) প্রতিষ্ঠান।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন পেট্রোবাংলার শেভরন কেনার ব্যাপারে আগ্রহ রয়েছে এবং এ সংক্রান্ত ফান্ড সংগ্রহের জন্য আন্তর্জাতিক অর্থলগ্নী প্রতিষ্ঠানের সাথে তাদের আলোচনা চলছে। পেট্রোবাংলা এ ব্যাপারে আন্তর্জাতিক জ্বালানী কনসালট্যান্ট ‘উড ম্যাকেঞ্জিকে’ হায়ার করেছে এবং প্রতিষ্ঠানটি কেনার আগে শেভরনের রিজার্ভ জানার চেষ্টা করছে। শেভরনের গ্যাসক্ষেত্র কেনার ব্যাপারে জিনহুয়া অয়েলের সাথে আলোচনার বিষয়টি পেট্রোবাংলার জানা নেই বলেও রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে শেভরনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অভিযোগ, প্রতিষ্ঠানটিতে বর্তমানে ৫৭১ জন নিয়মিত কর্মকর্তা-কর্মচারী রয়েছেন। তারা দীর্ঘদিন থেকে প্রতিষ্ঠানটিতে চাকুরী করলেও তারা কোম্পানীর লভ্যাংশের শতকরা ৫ শতাংশ পাচ্ছেন না। অথচ শ্রম আইন-২০০৬ অনুযায়ী কোনো কোম্পানির লভ্যাংশের পাঁচ শতাংশ কর্মকর্তা-কর্মচারী-শ্রমিকদের মধ্যে বন্টন করতে হবে। কিন্তু শেভরন ২০০৬ সাল থেকে এ পর্যন্ত কোনো লভ্যাংশ কর্মকর্তা-কর্মচারী-শ্রমিকদের দেয়নি। বরং তারা মুনাফা বিদেশে প্রত্যাবাসিত করছে। এরই মধ্যে শ্রম মন্ত্রণালয় ও পেট্রোবাংলার পক্ষ থেকে পাওনা পরিশোধে শেভরনকে চিঠি দিলেও তা আমলে নেয়নি শেভরন।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে শেভরনের একটি সূত্র জানায়, শতকরা ৫ ভাগ মুনাফা আদায়ের দাবিতে শেভরনের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা গত ১২ ফেব্রুয়ারি থেকে কালো ব্যাজ ধারণ কর্মসূচি পালন করছেন। দাবী আদায় না হওয়া পর্যন্ত তাদের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি চলবে বলে সূত্র জানিয়েছে।
এর আগে গত ১৫ ডিসেম্বর বিচারপতি কামরুল ইসলাম সিদ্দিকী ও বিচারপতি শেখ হাসান আরিফের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের একটি ডিভিশন বেঞ্চ শেভরন বাংলাদেশের কর্মকর্তা, কর্মচারী ও শ্রমিকদের কোম্পানিটির লভ্যাংশ না দেয়ায় কেন তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেয়া হবে না তা জানতে চেয়ে রুল জারি করে। শ্রম মন্ত্রণালয়ের সচিব, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব, পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান, বিনিয়োগ বোর্ডের চেয়ারম্যান, শ্রম অধিদফতরের মহাপরিদর্শক ও প্রধান কারখানা পরিদর্শক এবং শেভরনের প্রতি এই রুল জারি করা হয়। কোম্পানির ঢাকা ও সিলেট কার্যালয়ে কর্মরত ৫৩১ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী-শ্রমিক হাইকোর্টে রিট আবেদন দায়ের করেন। রিটের পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার ওমর সাদাত। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোখলেসুর রহমান।
এর আগে গত জানুয়ারিতে বকেয়া বার্ষিক মুনাফা আদায়, চাকুরি স্থায়ীকরণ, প্রতিবছর বার্ষিক বেতন বৃদ্ধি, শ্রমিক কল্যাণ তহবিল সংযুক্তকরণ, জ্বালানী খনিজ ক্ষেত্রে শ্রমিক কর্মচারীদেও ঝুঁকি ভাতা সংযুক্তকরণ, শ্রমিক কর্মচারীদের বাসস্থান ও যোগাযোগ ভাতা সংযুক্তকরণ, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে বৈষম্য দূরীকরণ, অনাদায়ী ছুটি নগদীকরণ, সাপ্তাহিক ছুটি দুই দিন ধার্য্য করা, প্রত্যেক শ্রমিক কর্মচারীকে বীমায় সংযুক্তকরণ ও বেতন বৈষম্য দূরীকরণ ১১ দফা দাবিতে আন্দোলনে নামে শেভরনের অস্থায়ী কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।
আন্দোলনকারীরা জানায়, ১৯৯৪ সাল থেকে অক্সিডেন্টাল থেকে ইউনিকল ও শেভরনের প্রথম পর্যায় থেকে তারা চাকুরি করছেন। এদের মধ্যে থেকে কিছু শ্রমিককের স্থায়ী নিয়োগ দেওয়া হলেও তাদের চাকুরী এখনো স্থায়ী করা হয়নি।
শেভরন বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় বিদেশী বিনিয়োগকারী। বর্তমানে হবিগঞ্জের বিবিয়ানা, সিলেটের জালালাবাদ এবং মৌলভীবাজার গ্যাস ফিল্ড পরিচালনা করে শেভরন। তারা উত্তোলিত গ্যাস পেট্রোবাংলার কাছে বিক্রি করে। ২০১৫ সালে শেভরনে দৈনিক উৎপাদন ক্ষমতা ছিল ৭২০ মিলিয়ন কিউবিক ফুট-যা দেশের মোট উৎপাদনের এক তৃতীয়াংশ।

Share





Related News

Comments are Closed

Manual1 Ad Code
Manual2 Ad Code