‘সুখী হও খাদিজা, আমার ফাঁসি হোক’
বৈশাখী নিউজ ২৪ ডটকম: রোববার বেলা ১১টা ৫০ মিনিটে প্রিজন ভ্যানে করে আদালতে নিয়ে আসা হয় ছাত্রলীগ নেতা ও খাদিজা হত্যা চেস্টা মামলার আসামি বদরুলকে। আজ ছিল তার বিরুদ্ধে ‘খাদিজা’র সাক্ষ্যগ্রহণের দিন। ফলে সকাল থেকেই আদালতপাড়ায় ভীড় করেন উৎসুক মানুষেরা।
বদরুলকে আদালতে হাজির করার ঠিক আট মিনিট পর পরিবারের সদস্যদের সাথে আদালতে আসেন খাদিজা আক্তার নার্গিস। বেলা ১২টার দিকে তিনি প্রবেশ করেন এজলাস কক্ষে। তখনই শুরু হয় আদালতের কার্যক্রম। বিচারকের সামনে বদরুলকে সনাক্ত করে সেদিনের ঘটনার বর্ণনা দিতে থাকেন খাদিজা। ঠিক তখনই ‘কিছু বলতে চাই’ বলে চিৎকার করে ওঠেন বদরুল।
উত্তেজিত বদরুল বিচারককে উদ্দেশ্য করে বলতে থাকেন, ‘আমি কিছু বলতে চাই। আমাকে একটা সুযোগ দিন। আমি সত্য কথা বলবো। আমি একজন শিক্ষক ছিলাম, আমি বঙ্গবন্ধুর সৈনিক।’ এসময় বদরুলকে সতর্ক করে দেন আদালতের বিচারক সাইফুজ্জামান হিরো। বিচারক বলেন, ‘আদালত বক্তৃতা দেওয়ার জায়গা নয়।’ বিচারকের কাছ থেকে অনুমতি না পেয়ে কাঠগড়ায় কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন বদরুল।
সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে বিচারক মামলার যুক্তিতর্কের তারিখ আগামী ১ মার্চ ধার্য করেন। ওই সময় ফের উত্তেজিত বদরুল চিৎকার করে বলতে থাকেন, ‘তুমি সুখী হও, খাদিজা। বিচারক আল্লাহ আছেন। আমার ফাঁসি হোক। তুমি আমার পরিবারকে পথে বসিয়েছ। মিথ্যাবাদী।’
এসময় বদরুলের আইনজীবি ও উপস্থিত পুলিশ সদস্যরা তাকে নিবৃত্ত করে এজলাস থেকে বের করে নিয়ে যান। উল্লেখ্য; এর আগেও একবার আদালত প্রাঙ্গনে চিৎকার করে নিজের ফাঁসি দাবি করেছিল বদরুল।
আদালতের অতিরিক্ত সরকারি কৌঁসুলি মাহফুজুর রহমান জানিয়েছেন, আজ সিলেট মুখ্য মহানগর হাকিম সাইফুজ্জামান হিরোর আদালাতে খাদিজার সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়। খাদিজা হত্যাচেষ্টা মামলায় মোট ৩৩ সাক্ষির মধ্যে ৩২জন আগেই সাক্ষ্য দিয়েছেন। আজ খাদিজার সাক্ষ্য নেওয়ার মাধ্যমে সাক্ষ্য গ্রহণ শেষ হলো।
গত বছরের ৩ অক্টোবর এমসি কলেজের পুকুরপাড়ে সিলেট সরকারি মহিলা কলেজের স্নাতক দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী খাদিজা বেগম নার্গিসকে চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর আহত করে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অনিয়মিত ছাত্র ও শাবি ছাত্রলীগের সহ-সম্পাদক বদরুল আলম। ঘটনার পরপরই শিক্ষার্থীরা বদরুলকে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেন।
এ ঘটনায় খাদিজার চাচা আবদুল কুদ্দুস বাদী হয়ে বদরুলকে একমাত্র আসামি করে মামলা দায়ের করেন। ৫ অক্টোবর বদরুল আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়। পরে তাকে কারাগারে প্রেরণ করেন আদালত। এছাড়ার ঘটনার পর শাবি থেকে চিরতরে বহিষ্কার করা হয় বদরুলকে।
শাবি ছাত্রলীগ নেতা বদরুল আলমের চাপাতির কোপে গুরুতর আহত হওয়া খাদিজাকে প্রথমে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখান থেকে ঢাকার স্কয়ার হাসপাতালে। কিছুটা সুস্থ হওয়ার পর ২৮ নভেম্বর সাভারে সিআরপিতে ভর্তি করা হয় খাদিজাকে। প্রায় তিন মাস সেখানে চিকিৎসাধীন থাকার পর শুক্রবার সুস্থ হয়ে সিলেটে নিজের বাড়িতে ফিরেছেন খাদিজা। মাঝে এক ফেব্রুয়ারি সপ্তাহখানেকের জন্য বাড়ি ঘুরে যান তিনি।
Related News
সিলেটে অনুমোদনহীন ৪ প্রতিষ্ঠানকে লাখ টাকা জরিমানা
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: সিলেট মহানগরীর দক্ষিণ সুরমায় অনুমোদনহীন সার্জিক্যাল পণ্য বিক্রি ও লাইসেন্সবিহীন ব্যবসা পরিচালনারRead More
ব্রিটানিয়া সুইমিংপুলে শাবি শিক্ষার্থীর মৃত্যু, তিন দিনের শোক
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: সিলেট মহানগরীর চৌকিদেখি এলাকার ব্রিটানিয়া সুইমিংপুলে সাঁতার কাটতে গিয়ে পানিতে ডুবে শাহজালালRead More



Comments are Closed