Main Menu

সর্বগ্রাসী ইয়াবা ধ্বংস করছে সমাজ ও দেশ

এএইচএম ফিরোজ আলী: মাদকাশক্তি বাংলাদেশের জাতীয় সমস্যা। মাদক, সমাজ জাতির পঙ্গুত্ব বরণের অন্যতম কারণ। মাদককে সব অপকর্মের জনক ও বলা হয়। বর্তমান বিশ্বে পারমাণবিক অস্ত্রের চেয়েও ভয়ানক রূপ নিয়েছে সর্বগ্রাসী মাদক। মাদক গ্রাস করে ফেলেছে ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ এবং রাষ্ট্রকে। যা সুনামির মত ধ্বংস করছে নতুন প্রজন্মের কিশোর-কিশোরী, তরুণ-তরুণীদের জীবন, নি:শেষ করে দিচ্ছে পরিবার। সমাজ এবং রাষ্ট্রের মূল ভিত্তি তরুন সমাজ আজ মাদক রোগে আক্রান্ত। সবচেয়ে দু:খ্যজনক বিষয় হলো এমপি, পুলিশ, সাংবাদিক, উকিল, স্কুল, কলেজ বিশ্ব বিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীসহ সমাজের নামী-দামী লোকসহ বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষ মাদক বেচা-কেনা ও সেবনের সাথে জড়িয়ে পড়ছেন। বিশেষ করে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে মাদকাসক্তদের সংখ্যা মারাত্বক হারে বাড়ছে। তাদের শিক্ষা জীবন হচ্ছে অনিশ্চিত, জাতি হারাচ্ছে মেধা। সর্বনাশা-সর্বগ্রাসী নেশা মাদক শুধু আলোয় জলমলে নগরীতে সীমাবদ্ধ নয়- অন্ধকার গ্রামেও এর অবাধ বিচরণ। হাত বাড়ালেই অহরহ পাওয়া যায় হরক রকমের মাদক। তবে ইদানিং কালে ইয়াবার প্রতি বেশি আসক্ত হচ্ছে মাদক সেবিরা। বিনিময়ে লাভমান হচ্ছে এ দেশের ভাল, ভদ্র নামী-দামী সমাজ ধ্বংসকারী মানুষ নামের কিছু অমানুষ। এদের সংখ্যা একেবারে কম হলেও তাদের ক্ষমতায় পুরো দেশ নিয়ন্ত্রন করছে। ২০১৫ সালে জাতীসংঘের বাংলাদেশের মাদক পরিস্থিতি নিয়ে এক প্রতিবেদনে বলা হয়, দেশে প্রায় ৬৮লাখ মানুষ মাদকাসক্ত। এর মধ্যে ৮৭ ভাগ পুরুষ আর ১৩ভাগ নারী। আসক্তদের মধ্যে ৯০ভাগ কিশোর-তরুণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এদের শতকরা ৪৫ভাগ বেকার, ৬৫ ভাগ আন্ডার গ্রাজুয়েট এবং উচ্চ শিক্ষিতের সংখ্যা ১৫ শতাংশ। এ বছর মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রন অধিদপ্তরের তথ্য মতে, দেশে মাদক সেবীর সংখ্যা প্রায় ৫০লাখ। বর্তমানে এ সংখ্যা দ্বিগুন হবে। এদের মধ্যে ৫০ ভাগ অর্থাৎ ২৫ লাখ মানুষ ক্রেজি ড্রাগ ইয়াবায় আসক্ত। একজন মাদক সেবী দিনে সর্বনি¤œ দুইটি করে ইয়াবা সেবন করলে প্রতিদিন ২৫লাখ মাদকাসক্ত ৫০ লাখ পিস ইয়াবা সেবন করছে। আর এই ৫০লাখ পিস ইয়াবার পেছনে খরচ করছে ২শত কোটি টাকা। বিদ্যুৎ গতির মত প্রতি ঘন্টায় দেশে ইয়াবা সেবীর সংখ্যা বাড়ছে।
টেকনাফের স্থল ও সাগর পথে ১১ পয়েন্ট দিয়ে দিনে রাতে ঢুকছে ইয়াবার চালান। বাংলাদেশের সীমান্তের কাছে মিয়ানমার ১৫টি স্থানে ৩৭টি ইয়াবা কারখানা করেছে। গত ৬ জানুয়ারী জাতীয় একটি দৈনিকে ‘ শত কারখানা ইয়াবা ঢাকায়’ শিরোনামে একটি সংবাদ প্রকাশিত হয়। এতে বলা হয় কক্সবাজারসহ বিভিন্ন সীমান্ত দিয়ে ঢাকায় প্রবেশ করছে ইয়াবার চালান। চাহিদা দিন দিন বাড়তে থাকায় এখন খোদ রাজধানীতে তৈরি হচ্ছে ইয়াবা। ছোট বড় মিলিয়ে রাজধানীতে রয়েছে শত কারখানা। ২০১৬ সালের অক্টোবর মাস থেকে ঢাকার আলোচিত ইয়াবা সিন্ডিকেটের সদস্যরা ঢাকায় ইয়াবা কারখানা স্থাপন করে। মিয়ানমারের নাগরিক জনৈক জুবায়েরর নেতৃত্বে এসব কারখানা চালু করা হয়। ইয়াবা তৈরির কাচা মাল আনতে ঝুঁকি কম, লাভ হয় বেশি। কাচা মাল ময়দা বা আটার মতো হওয়ায় আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর চোঁখ ফাঁকি দিয়ে সহজে ঢাকায় আনা যায়। জুবায়েরের বাসাতেও পুলিশ ইয়াবা তৈরির কারখানা আবিষ্কার করেছিলো। গত ডিসেম্বরে ড্রেমরার একটি ফ্লাটে ইয়াবা তৈরির কারখানার সন্ধান পায় ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ। তখন ৫ ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করা হলে জেরার মুখে তারা রাজধানীতে কারখানার সকল তথ্য ফাঁস করে দেয়। তাদের তথ্য মতে, বাসা বাড়ীতে গড়ে উঠা ইয়াবা কারখানা শত পেরিয়ে যেতে পারে। রাজনৈতিক, প্রশাসনিক ক্ষমতার দাপট আর মাদকের অর্থের প্রতাপে ইয়াবা চক্রের বিরুদ্ধে টু শব্দ পর্যন্ত করার উপায় নেই। মিয়ানমার ও ঢাকার ৬০ টাকা দামের ইয়াবা বিভিন্ন স্থানে বিক্রি হয় ৩০০ টাকা থেকে ৪০০ টাকা পর্যন্ত। এ হিসাবে প্রতিদিন ইয়াবায় পুড়ছে দেশের ২শ কোটি টাকা। ২০০৭ সাল থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত ৭ বছরে ৯৫ লাখ পিস ইয়াবা উদ্ধার হয়। ২০১৬ সালে উদ্ধার হয় ২ কোটি ইয়াবা তার পরও ঠেকানো যাচ্ছে না ভংকর এই মাদকের অনুপ্রবেশ। আইন শৃঙ্খলা বাহিনী একটু কঠোর হলে তারা পাচারের পদ্ধতি বদলে দেয়। পায়ূ পথ, কন্ডম, শাক সবজি, ফ্রিজ, ওভেন, মাথার নকল চোলের ভাঁজ, ল্যাপটপ, মোবাইল ফোন, বই, লাশের কপিন, গাড়ীর বিভিন্ন অংশ, সুপারীর ব্যাগ বা বাটা, লিপিস্টিকের কৌটা, ভ্যানিটি ব্যাগ, জুতার হিল, গাছের খোলস, চানাচুরের প্যাকেট, আসবাব পত্রের জয়েন্ট, ক্যামেরা, ক্রীমসহ নানাভাবে অভিনব কায়দায় পাচার হয় ইয়াবা। আবার ফেইসবুক, ইমো কিংবা ভাইবারের মাধ্যমে ফেন্সি,ফান্ট, ইঞ্চি, গুটি, আড়াই তিন, চেলুত ইত্যাদি নামে ইয়াবা কেনাকাটা হয়। ঢাকার দোহার নবাবগঞ্জ কেরানীগঞ্জের শতকরা ৮০জন পুরুষ প্রবাসী হওয়ায় ছেলে-মেয়েরা বাবার শাসন থেকে মুক্ত এবং স্কুল কলেজের পোশাক, প্রসাধনী বই খাতা, কলমের কথা বলে বিদেশী টাকা দিয়ে জড়িয়ে পড়ছে সর্বনাশা ইয়াবা নেশায়। রাজধানীর বিভিন্ন পয়েন্টে পাইকারী ইয়াবা বিক্রির অন্তত ৫০জন মুখোশ পরা শিল্পপতি, প্রভাবশালী নেতারা বছরে কোটি কোটি টাকা রোজগার করছে। বিভিন্ন ইংলিশ স্কুল, কলেজ পড়–য়া কিশোর-কিশোরী, তরুন-তরুণীদের যে সব কৌশলে ইয়াবা বাণিজ্যে জড়ানো হয় এসব শুনে গোয়েন্দা কর্মকর্তারা তাজ্জ্যব বনে যান। কোমলমতি শিক্ষার্থীদের নেশায় ফেলে ইয়াবা পাচারে জড়িত করা হয়। এদের অনেক কে আবার নেশায় মগ্ন করে তাদের সাথে খারাপ কাজ করা হয়। ইংরেজিতে ভাল কথাবার্তা বলতে পারে এমন ছাত্রীদের দিয়ে বিদেশীসহ প্রভাবশালীদের নিকট পাঠানো হয় ইয়াবা। ইয়াবা আসক্ত মেয়েদেও নগ্ন ছবি তুলে তাদের কাবু করা হয়। রাজধানীর ইয়াবা স¤্রাট ফয়ছল ইসলাম রাসেল, নারায়নগঞ্জ গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের হাতে গ্রেফতারের পর এমন তথ্য প্রদান করে। রাসেলের জবানবন্দি দেয়ার পর অনেক
ইংলিশ স্কুলের শিক্ষার্থীরা লাপাত্তা হয়েছে। রাসেল মেয়েদের নগ্ন ভিডিও করে তাদের দূর্বল করে ইয়াবা প্রাচারে বাধ্য করে। ধূর্ত রাসেল একজন ঠান্ডা মাথার কিলার। ব্রাহ্মণ বাড়িয়ায় জন্ম হলে বসবাস করে বাড়ীধারার ২১ নম্বর রোডে। এক সময় ফৌজদার হাট ক্যাডেট কলেজের ছাত্র এসএসসি পাশ করার পর সে সিদ্বেশরী কলেজে ভর্তি হয়। শেষ পর্যন্ত সে এখন একজন ভংকর অপরাধী। বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে মাদকের হাট বসে। রাত যত ঘভীর হয় চোরাচালান তত বাড়ে। দুই দেশের সীমান্ত রক্ষীদের নাকের ডগায় ঘটছে এমন র্কমকান্ড। দুই দেশের আইন শৃংখলার বাহিনীর লাইনম্যান নামধারীরা মাদক ব্যবসায়ীদের নিকট থেকে দৈনিক, সাপ্তাহিক, মাসিক হারে চাঁদা তুলেন। সীমান্তের ২০৮০,২০৮২,২০৮৪,২০৮৬,৮০৮২ পিলার সীমান্ত এলাকা দিয়ে ইয়াবাসহ মাদক প্রবেশ করে। কুমিল­া ট্রেন ষ্টেশন থেকে মাদকের চালান যায় ঢাকা ও দেশের বিভিন্ন স্থানে। কয়েক হাজার চোরাচালানী বর্তমান আ’লীগের অভ্যন্তরে ঢুকে এমন অপর্কম করছে। মানবাধিকার বাস্তবায়ন শাখার কুমিল­া জেলা সভাপতি এডভোকেট নাজমুল আলম চৌধুরী নোমান একটি জাতীয় দৈনিকের সাথে আলাপ কালে বলেছেন, মাদক পাচার ও সেবনকারীর অবস্থা দেখলে মনে হয় তারা যেন বৈধ কাজ করছে। মাদক ব্যবসায়ীরা সব সময় সরকার দলীয় রাজনীতি করে। যারা অবৈধ টাকা আয় করে সমাজে তাদের গুরুত্ববেশী। আইনশৃংখলা বাহিনী যেনে শুনে এসব নিয়ন্ত্রন করে না। তারা নিজের আখের গোছাতে থাকে।
ইয়াবা সেবন, পাচারকারীদের আসলে মানবিক কোন জ্ঞান থাকে না। তারা সেবনের পর ইতর প্রাণীর মত হি¯্র হয়ে যায়। পুরান ঢাকার নরেন্দ্রনাথ বসাক লেনের মাদকাসক্ত সন্তান জাহিদুল ইসলাম বাবা মুন্সুর আলীকে খুন করে লাশ মাটির নিচে পুতে রাখে। রাজধানীর মহাখালী এলাকায় ইয়াবা সেবনকারীদের আগুনে পুড়ে যায় ৭তলা বস্তি। আগুনে ১৪০টি পরিবার ক্ষতিগ্রস্থ এবং ১০জন আহত হয়। ইয়াবা সেবনকারীরা টাল-মাটাল হয়ে আগুন লাগিয়ে বস্তি পুড়ে দেয়। ২০১৩ সালে রাজধানী চামেলী ভাগের বাসায় এসবির পুলিশ পরির্দশক মাহফুজুর রহমান ও তার স্ত্রীকে হত্যা করে তাঁর মাদকাসক্ত মেয়ে ঐশী। ২০১২ সালে রাজধানীর পুরান ঢাকায় বিশিষ্ট জনপ্রিয় অভিনেতা এটিএম সামছুজ্জামানের বড় ছেলে এটিএম কামরুজ্জামানকে খুন করে তার ছোট ভাই এটিএম খালেকুজ্জামান। খালেকুজ্জামান মাদকাসক্ত ছিল। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ফেনি লাল পুল এলাকা থেকে র‌্যাবের হাতে প্রায় ৭লাখ পিস ইয়াবাসহ ঢাকার স্পেশাল ব্রাঞ্চের এ এসআই মাহফুজুর রহমানকে ৫দিনের রিমান্ডে কুমিল­ার সিআইডি পুলিশ তার দেয়া তথ্য মতে কুমিল­া জেলা বারের সদস্য ইয়াবা সিন্ডিকেটের অন্যতম হোতা এডভোকেট জাকির হোসেনকে গ্রেফতার করে। ২০১১ সাল থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত মাহফুজুর রহমান টেকনাফ থানায় কর্মরত ছিলেন এবং ইয়াবা ব্যবসায় জড়িয়ে এডভোকেট জাকিরের মাধ্যমে ব্যবসা করতেন। ২০১৫ সালের ১৪ ডিসেম্বর একটি বেসরকারী টেলিভিশনের কক্সবাজার প্রতিনিধি ও তার স্ত্রীকে ইয়াবাসহ গ্রেফতার করা হয়। ২১ ডিসেম্বর নগরীর বায়েজিদ থানাধীন অনন্যা আবাসিক এলাকা থেকে বিলাসবহুল একটি গাড়ী থেকে ১লাখ ৮০ হাজার পিস ইয়াবাসহ ধনাঢ্য পরিবারের দুই সন্তানকে গ্রেফতার করে পুলিশ। ২২ ডিসেম্বর চট্টগ্রাম মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের সিবিএ নেতা মাহমুদুল হক ও আব্দুল আজিজকে ২হাজার পিস ইয়াবাসহ গ্রেফতার করে পাঁচলাইস থানা পুলিশ। জিজ্ঞাসাবাদে তারা পুলিশকে জানিয়েছে বোর্ডের ভেতরে বসে তারা এ ব্যবসা করতেন। চট্টগ্রামের ধনিয়া পাড়া এসএ পরিবহনের একটি শাখা কার্যালয় থেকে ১লাখ পিস এবং পটিয়া এলাকার এসএ পরিবহনের কাভার্ড ভ্যান থেকে ১০হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার এবং এ দুই ঘটনায় ৬জনকে আটক করা হয়। ২০১৬ সালের ১৬ জানুয়ারী চট্টগ্রামের বিশেষ অভিযান চালিয়ে ২৮লাখ পিস ইয়াবা উদ্ধার করে র‌্যাব। এটাছিল এ যাবৎ কালের সবচেয়ে বড় চালান। যার মূল্য ১শত ১৩ কোটি টাকা।
১৯ জুন কক্সবাজারের ইনানীতে মেরিন ড্রাইভ সড়কের পাশে দিলদার নামে এক কিশোরের লাশ পাওয়া যায়। কক্সবাজার সদর হাসপাতালে ময়নাতদন্তের সময় ছোট পলিথিনের পুঁটলিতে ভরা ৫টিতে ১শ পিস ইয়াবা পাওয়া যায়। ইয়াবার বিষক্রিয়ায় সে মারা যায়। ইসমাইল নামের আরেক যুবক ১শ পিস ইয়াবা পেটর ভেতর ঢুকিয়ে পাচারের সময় মারা যায়। ১৮ আগষ্ট রাজধানীতে ইমাম হোসেন নামের এক ব্যক্তিকে আটক করে তার পেট থেকে চার হাজার ২শ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। চট্টগ্রামে জালানী তেলের ট্রাংক থেকে ৫হাজার এবং একটি বাসের ক্যাসেট প্লেয়ারের বক্স থেকে ৫হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। ১৯ নভেম্বর চট্টগ্রাম কদমতলী এলাকায় দুইটি পরিবহন কোম্পানীর কার্যালয়ে তল­াশী চালিয়ে দুইটি এনার্জি বাল্বের কাটুনে ৩ কোটি ৯০হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। জুন মাসে চট্রগ্রামের আগ্রাবাদ ব্যাংকক-সিঙ্গাপুর মার্কেটের সামনে ফাতেমা জান্নাত ও নাছির নামের দুইজনকে আটক করে। সুপারীতে লোকানো ৯০পিস, ইয়াবা বার্মিজ সেন্ডেলের ভিতরে টেকনাফে মিয়ানমারের এক নাগরিক ৮৯৫পিস, টেকনাফের দমদমিয়া চেকপোস্টে অ্যালুমিলিনিয়ামের ২পাত্রে বিশেষ কায়দায় রাখা ১১হাজার পিস, শুকনো মরিচের ব্যাগ থেকে ৭হাজার পিস ইয়াবা জব্দ করে বিজিবি। এ হচ্ছে বাংলাদেশের ইয়াবা পাচারের একটি অভিনব নমুনা। পাকস্তলী ও পায়ূপথ করে ইয়াবা পাচারের ঘটনা নিত্য দিনের। প্রাণঘাতি এমন কৌশলে সচেতন মানুষ হতভাগ।
এ প্রতিবেদনের যাবতীয় তথ্য মাত্্র কয়েকটি জাতীয় দৈনিকের। গণমাধ্যমে যখন ইয়াবা বা মাদকের ভয়াবহতার সচীত্্র বিবরণ তুলে দরা হয় তখন সবাই তৎপর হয়। কিছুদিন পর আবার যেই-সেই। সিলেটের একটি আঞ্চলিক প্রবাদ রয়েছে ’দেখলে তর না দেখলে মোর’ এমন অবস্থা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রন অধিদপ্তরের। পুলিশ সপ্তাহ উদ্বোধন কালে প্রধানমন্তী জঙ্গিবাদ ও মাদকের বিরুদ্বে কঠোর অবস্থানের কথা বলেছেন, আমরা ও বিশ্বাসকরি সরকারের সদিচ্ছা আর আইনশৃংখলা বাহিনী কঠোর হলে দেশের মাদক চোরাচালান দমন হতে বেশী সময় লাগবে না। ইয়াবার বিনিময়ে দেশ থেকে বছরে ৬৫ থেকে ৭০ কোটি টাকা বিদেশে পাচার হচ্ছে। এমন অবস্থা দেশের অর্থনীতির জন্য মারাত্্রক ক্ষতিকর। বিশেষ করে অভিভাবক সচেতন হলে দেশের ভবিষ্যৎ কর্ণধার যুব সমাজকে ধংসের হাত থেকে রক্ষা করা কঠিন বিষয় নয়। দেশের হাতে গনা কিছু লোক যারা অর্থের জন্য জাতী ধবংস করছে, তাদের জেনে রাখা উচিৎ, অর্থই অনর্থের মূল। পাপ বাপকেও ছাড়ে না! তাই দেশের ক্ষতি নয়, নতুন প্রজন্মকে রক্ষায় নেশার বিরুদ্বে সবর্ত্র প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। কারন দেশ প্রেম ইমানের অঙ্গ।

লেখক: কলামিস্ট

Share





Related News

Comments are Closed