Main Menu

সুনামগঞ্জে ভারতীয় মহিষ-ঘোড়া আটক নিয়ে বিজিবির লুকোচুরি

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি: সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা সীমান্তে ভারতীয় বাঁশের বরশীর চিপ’র চালান আটকের তথ্য জানতে চাইলে গণমাধ্যম কর্মীদের দিনভর বিভ্রান্ত করা ও তথ্য না দিয়ে স্থানীয় বিজিবির বিরুদ্ধে লুকোচুরির অভিযোগ উঠেছে। চিপ পরিবহনে ব্যবহ্নত পৌণে ৫ লাখ টাকা মুল্যের ৪টি মহিষ, ১টি ঘোড়া, ৩টি চাকার গাড়ী উৎকোচের বিনিময়ে ছেড়ে দেয়ারও অভিযোগ উঠেছে বিজিবির ক্যাম্প কমান্ডারের বিরুদ্ধে ।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, সুনামগঞ্জ-২৮ বর্ডারগার্ড ব্যাটালিয়নের ধর্মপাশার মধ্যনগর সীমান্তের মাটিরাবন বিওপির বিজিবির ক্যাম্প কমান্ডার হাবিলদার খলিলুর রহমান সহ ৬ সদস্যের টহল দল নিয়ে ব্যাটালিয়নের দায়িত্বশীল অফিসারের নির্দেশে সোমবার রাত ৯টার দিকে ভোলাগঞ্জ বাজার সংলগ্ন উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠ থেকে সীমান্তের ওপার থেকে চোরাই পথে বিনা শুল্কে নিয়ে আসা ৩৯ বান্ডিলে (প্রতিটি বান্ডিলে ১শ ) বাঁশের বরশীর চিপের চালান আটক করেন। ওই চিপের চালান পরিবহনে ৪টি (প্রতিটি ১ লাখ) মহিষ, ১টি (৫০ হাজার) ঘোড়া ও ৩টি (৩০ হাজার) টাকা মুল্যের কাঠের চাঁকার গাড়ি আটক করা হয়। এ সময় মধ্যনগরের বংশীকুন্ডা উত্তর ইউনিয়নের চোরাই চিপের মালিক গোলগাঁও নবাবপুরের মৃত মিয়া চাঁনের ছেলে রহিম ও তার সহযোগী ব্যবসায়ীক পার্টনার একই এলাকার জল হাসিমও উপস্থিত ছিল।
প্রত্যক্ষদর্শী ভোলাগঞ্জ বাজারের মুদি দোকানদার বাছেত, নৈশ প্রহরি লাল মিয়া, নবাবপুরের হাবিবুর, ইছামারি গ্রামের উজ্জল, আবদুর নুর সহ একাধিক লোকজন জানান, ক্যাম্প কমান্ডার ৩৯ বান্ডিল চিপ, মহিষ, ঘোড়া, কাঠের চাঁকার গাড়ি পর্যায়ক্রমে আটক করে রাতেই ক্যাম্পে নিয়ে যান। পরদিন সকালে ওই ক্যাম্প কমান্ডার তার সাথে থাকা অপর দু’ সিপাহীর যোগসাজসে ও তাদের কথিত এক সোর্সের মাধ্যমে রফাদফা করে মাত্র ২০ বান্ডিল চিপ আটকের তথ্য প্রেরণ করেন। রাতভর ক্যাম্পে মহিষ, ঘোড়া, কাঠের চাঁকা আটকে রাখার পর মঙ্গলবার সকালে মোটা অংকের উৎকোচ নিয়ে মহিষ, ঘোড়া, চাঁকাগুলো গরীব মানুষের বলে চালিয়ে দিয়ে চোরাচালানীদের নিকট সমঝিয়ে দেন।
প্রতিটি চিপের স্থানীয় মুল্য রয়েছে ২২ থেকে ২৫ টাকা। সেই হিসাবে ৩৯ বান্ডিলে ৩৯শ চিপের পরিবর্তে ১৯ বান্ডিল চিপ গায়েব করে দেন ওই ক্যাম্প কমান্ডার ও তার সহযোগীরা। যার বাজার মুল্য রয়েছে গড়ে ৪১ হাজার ৮শ থেকে ৪৭ হাজার ৫শ টাকা।
এ ব্যাপারে মঙ্গলবার বেলা ১২টার পর থেকেই স্থনীয় গণমাধ্যমকর্মীরা ক্যাম্প কমান্ডার হাবিলদার খলিলুর রহমানের নিকট তথ্য জানতে চাইলে তিনি গণমাধ্যমকে তথ্য দিতে লুকোচুরি ও গড়িমসি করেন। পুন:রায় বিকেল ৫টার দিকে ক্যাম্প কমান্ডারের সরকারি মুঠোফোনে কল করা হলে এ প্রতিবেদক স্থানীয় এলাকাবাসী পরিচয়ে ফোন করলে তিনি বলেন, ২০ বান্ডিল চিপ আটক করেছিলাম, গরীব মানুষ তাই মহিষ, ঘোড়া ও চাঁকাগুলো এলাকার মান্যগণ্য ব্যাক্তিদের সুপারিশে লিখিত রেখে ফেরত দিয়ে দিয়েছি।’ এলাকার লোকজন বলাবলি করছে উৎকোচ নিয়ে মহিষ, ঘোড়া, চাঁকা চোরাচালানী জল হাসিম ও রহিমকেই দিয়ে দিয়েছেন? চিপের ১৯ বান্ডিল গায়েব করে ফেলেছেন এমন প্রশ্নের মুখে হাবিলদার খলিলুর কিছুটা তেলে বেগুনে জ্বলে উঠলেও পরবর্তীতে বলেন, পরিবহন খরচ ও সোর্স মানির জন্য জব্দ তালিকায় কিছুটা কম দেখিয়েছি, আমাদের দিকে খেয়াল রাখবেন, কেউ যেন বদনাম না করতে পারে।’

 

Share





Related News

Comments are Closed