Main Menu

সিলেটে লাইসেন্স-অফিস ছাড়াই গ্ল্যান্ট’র সিকিউরিটি ব্যবসা

Manual4 Ad Code

বিশেষ প্রতিনিধি: সিলেটে লাইসেন্স ব্যারাক ও অফিসবিহীন জমজমাট সিকিউরিটি সার্ভিস ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে গ্ল্যান্ট সিকিউরিটিজ সার্ভিসেস লিমিটেড। নিরাপত্তা ঝুকিতে রয়েছে বিভিন্ন বাসাবাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। গ্ল্যান্ট এর মালিক মো. জাহাঙ্গীর সিকদার এর বাড়ি গোপালগঞ্জ জেলা সদরের ৩৬৫ চর সোনাকুডে। তিনি সেনাবাহিনীর সার্জেন্ট মেজর (অবঃ) পরিচয় দিয়ে থাকেন। সিলেট নগরীর পাঠানটুলা আমিন মার্কেটের ২য় তলায় অফিস দেখিয়ে সিকিউরিটি সার্ভিস ব্যবসা করলেও এ মার্কেটে এ প্রতিষ্ঠানের আদৌ কোন অফিস নেই। নেই সিলেটের কোথাও প্রতিষ্টানের নিরাপত্তাকর্মীদের নির্দিষ্ট কোন আবাসন বা ব্যারাক। সম্পূর্ন ভাসমান ও প্রতারনার আশ্রয়ে ব্যবসা চালিয়ে গেলেও কর্তৃপক্ষের কোন মাথা ব্যথা নেই।
জানা গেছে, সিকিউরিটি সার্ভিস ব্যবসার জন্য ২০১৩ সালে সিলেট সিটি কর্পোরেশন থেকে আড়াই হাজার টাকায় একখানা ট্রেড লাইসেন্স গ্রহণ করেছিল গ্ল্যান্ট সিকিউরিটিজ সার্ভিসেস লিঃ। যার বৈধতার মেয়াদ ছিল ২০১৪ সালের ৩০জুন পর্যন্ত। তখন অফিসের ঠিকানা দেয়া হয়েছিল নগরীর পাঠানটুলা আমিন মার্কেটের ২য় তলায় । কিন্তু এর পর থেকে দীর্ঘ চারবছর ধরে ট্রেড লাইসেন্স ,ব্যারাক ও অফিস ছাড়াই সিলেটে কোটি টাকার সিকিউরিটি সার্ভিস ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন প্রতিষ্টানের মালিক জাহাঙ্গীর সিকদার। বর্তমানে সিলেট নগরী ও আশপাশ এলাকার ২৬টি পোস্টে এ প্রতিষ্টানের রয়েছে ৬৫ জন নিরাপত্তা কর্মী। কর্মীদের বেতন দিয়েও এ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রতিমাসে দেড় থেকে দুই লাখ টাকা করে বছরে কোটি কোটি টাকা আয় করে চলেছেন জাহাঙ্গীর। কিন্ত প্রতিষ্টানের কোন অফিস বা ঠিকানা নেই। সরকারের ভ্যাট-টেক্সও পরিশোধ করছে না এ প্রতিষ্টান। এভাবে জাহাঙ্গীর সিকদার গ্ল্যান্ট সিকিউরিটি সার্ভিসেস নামে সিটি কর্পোরেশন ও সরকারের লাখ টাকা রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে চলেছেন।
সিলেটে অফিস ও লাইসেন্স না থাকায় নিরাপত্তা কর্মীদের বিরুদ্ধে কোন অভিযোগ অনুযোগ দেয়ার কিংবা ভালমন্দ বিষয়ে যোগাযোগ করার স্থানটিও খুজে পান না পোস্টের মালিকরা। ঠিকানা, ব্যারাক লাইসেন্স, ভ্যাট ও টেক্সবিহীন ব্যবসার মাধ্যমে জাহাঙ্গীর সিকদার সিলেট থেকে বছরে কোটি টাকা হাতিয়ে নিলেও এদিকে স্থানীয় কর্তৃপক্ষের কোন নজর নেই। ভুঁয়া ঠিকানায় সেই ২০১৩ সালে সিলেট সিটি কর্পোরেশন থেকে একটি ট্রেড লাইসেন্স (নং ২০৭৮) নিলেও আর কোনদিন ধরনা দেননি সিটি কর্পোরেশনের কাছে। ২০১৪ সালের জুলাই থেকে এ পর্যন্ত লাইসেন্স ছাড়াই সিলেটে চলছে গ্ল্যান্ট সিকিউরিটি সার্ভিসেস লিঃ এর অবৈধ ব্যবসা।
জানা গেছে, সেনা বাহিনীতে ‘সার্জেন্ট’ বলে একটি পদ থাকলেও ‘সার্জেন্ট মেজর’ বলে কোন পদই নেই। কিন্তু জাহাঙ্গীর সিকদার তার নামের আগে “সার্জেন্ট মেজর” খেতাব দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে সিলেট ও চট্টগ্রামে বে-আইনী সিকিউরিটি সার্ভিস ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন। অফিস, ব্যারাক ও ঠিকানাবিহীন প্রতিষ্টানের সিকিউরিটি সার্ভিস যে কোন ব্যবসা পোস্টের (প্রতিষ্ঠানের) নিরাপত্তার পরিবর্তে ‘নিরাপত্তা ঝুকি’ই বয়ে আনতে পারে বলে অনেকে মনে করছেন।
জানা গেছে, গ্ল্যান্ট সিকিউরিটি সার্ভিসেস লিঃ নামক প্রতিষ্ঠানের পরিচালক মো. জাহাঙ্গীর সিকদার ২০১২ সালের ২৮ আগষ্ট চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন থেকে একটি ট্রেড লইসেন্স (নং-১২৮০৩০) নিয়ে প্রথমে চট্টগ্রামে ও পরে সিলেটে ব্যবসা শুরু করেন। কিন্তু এর পরের বছর থেকে এ পর্যন্ত তিনি চট্টগ্রামেও প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স নবায়ন করেননি। অথচ লাইসেন্স-এ বর্নিত ২নং শর্তে প্রতিবছর লাইসেন্স নবায়ন করার কথা রয়েছে। কিন্তু জাহাঙ্গীর সিকদার লাইসেন্স নবায়ন না করেই সিলেট ও চট্টগ্রাম বিভাগ জুড়ে সিকিউরিটি সার্ভিস ব্যবসা করে কোটি টাকা কামাই করছেন। ফাঁকি দিয়ে চলেছেন সরকারের ভ্যাট ও টেক্স।
এব্যাপারে গ্ল্যান্ট সিকিউরিটি সার্ভিসেস লিঃ-এর সিলেটস্থ অপারেশন ম্যানেজার রায়হান আহমদের সাথে সেলফোনে কথা হলে তিনি দীর্ঘদিন ধরে ট্রেড লাইসেন্স ব্যারাক ও অফিস না থাকার কথা স্বীকার করে বলেন, আমরা ব্যবসা চালিয়ে যাওয়ার জন্য নতুন করে ট্রেড লাইসেন্স, অফিস ও নিজস্ব ব্যারাক করতে যাচ্ছি।
বক্তব্য নিতে গ্ল্যান্ট-এর পরিচালক মো. জাহাঙ্গীর সিকদারের সাথে সোমবার (৫ ডিসেম্বর) দুপুরে মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি সাংবাদিকের ফোন রিসিভ করেননি।

Share





Related News

Comments are Closed

Manual1 Ad Code
Manual6 Ad Code