হবু পুত্র বধুকে নিয়ে লন্ডনী শশুর উধাও!
হাবিব সরোয়ার আজাদ, সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি: প্রবাসী অধ্যুষিত সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরে ভায়রার মেয়ে হবু পুত্র বধুকে নিয়ে এক লন্ডনী শশুড় গত তিন মাস ধরে উধাও হয়ে গেছেন। এ ঘটনায় দিরাই থানায় মামলা দায়েরের পর বিষয়টি নিয়ে গত তিন মাস ধরেই দুই উপজেলা জুড়ে নানা কানাঘুসা ও তোলপাড় শুরু হয়েছে।
এ ঘটনাটি ঘটিয়েছেন জগন্নাথপুর উপজেলার চিলাউরা-হলদিপুর ইউনিয়নের শালদিঘা গ্রামের মৃত ইন্তাজ উল্লাহর ছেলে লন্ডন প্রবাসী ৫ সন্তানের জনক অজুদ মিয়া ওরফে সেবুল।
এদিকে অপহরণ মামলার তিন মাস পার হতে চললেও দুই থানা পুলিশ আজো হদিস পাচ্ছেনা ওই লন্ডনী ও তার সহযোগীদের। উদ্ধার হয়নি অপহ্নতা।
মামলা ও স্থানীয় সুত্রে জানা গেছে, যুক্তরাজ্যের ইষ্টহাম ১৩৯ ষ্ট্রীট মার্কেট এলাকার ই-৬-২ পিএক্স বাসার বাসিন্দা জগন্নাথপুরের শালদিঘার অজুদ ওরফে সেবুল বেশ কিছু দিন আগে পুত্র রুবেলকে বিয়ে করানোর জন্য প্রবাস থেকে স্বপরিবারে দেশে ফিরেন। লন্ডন প্রবাসী পুত্রের বিয়ের জন্য কনের খোঁজ নিয়ে গ্রামের বাড়িতে ভীড় জমতে থাকে ঘটকদের। শুরু হয় এখানে-ওখানে পাত্রী দেখার দৌড়ঝাঁপ। এক পর্যায়ে পার্শ্ববর্তী দিরাই উপজেলার কুলঞ্জ ইউনিয়নের নাচনি গ্রামের অজুদের জেঠালীর জামাই (ভায়রা) আবদুল হান্নানের সুন্দরী কন্যা হ্যাপি (১৯)’র সাথে রুবেল (২৩)’র বিয়ের দিনক্ষণ ঠিকঠাক হয়। কিন্তু রহস্যজনক কারনে রুবেল বিয়ে করতে অসম্মতি জানায় হ্যাপিকে।
এদিকে বিয়ের আগেই অতি গোপনে হ্যাপিকে লন্ডন নিয়ে যেতে স্পন্সর করেন গুণধর খালু অজুদ। যৌতুক হিসাবে আবদুল হান্নানের নিকট থেকে চতুর অজুদ আগাম হাতিয়ে নেন আড়াই লক্ষ টাকা।
এক পর্যায়ে চলতি বছরের ২৭ আগষ্ট রাতে অর্ধশত বছর বয়সী অজুদ তার ভায়রার মেয়ে হ্যাপিকে নিয়ে উধাও হয়ে যান। কয়েকদিন খোঁজাখুজির পর ২ সেপ্টেম্বর আবদুল হান্নান বাদী হয়ে ভায়রা অজুদ, তার ভাগ্নে আবুল হোসেন ও একরামকে আসামী করে দিরাই থানায় একটি অপহরণ মামলা দায়ের করেন। মামলার পর ওই আসামীদের গ্রেফতার ও ভিকটিমকে উদ্ধারের জন্য দিরাই থানা থেকে অনুসন্ধান লিপি প্রেরণ করা হয়।
জগন্নাথপুর থানার ওসি মো. মোরসালিন রোববার বলেন, অনুসন্ধান লিপি আসার পর উপ-পরিদর্শক (এএসআই) সাদেকুর রহমান তদন্ত রিপোর্ট দিরাই থানায় প্রেরণ করে, এরপর আসামীদের গ্রেফতার ও ভিকটিমকে উদ্ধারে পুলিশ কয়েক দফা চেষ্টা চালিয়ে গেছে।
দিরাই থানার ওসি মো. আবদুল জলিল রোববার এ প্রতিবেদকে বলেন, মামলা দায়েরের পর দেশের বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে পুলিশ এখনো পর্যন্ত অজুদ তার সহযোগীদের গ্রেফতার কিংবা হ্যাপিকে উদ্ধার করতে পারেনি। তিনি আরো বলেন, ধারণা করা হচ্ছে অজুদ হ্যাপিকে নিয়ে হয় দেশের কোথাও আত্বগোপন করে আছে, অন্য দুই আসামীর গ্রেফতারে পুলিশ তৎপর রয়েছে, সে যাতে হ্যাপীকে নিয়ে দেশের বাইরে যেতে না পারে সেজন্য দেশের সব বিমান বন্দর ও ইমিগ্রেশনে ভিকটিমকে উদ্ধার এবং আসামীদের গ্রেফতারে বার্তা প্রেরণ করা হয়েছে।
Related News
সুনামগঞ্জের হাওরে বজ্রপাতে একজনের মৃত্যু
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে বজ্রপাতে একজনের মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) সকাল আটটার দিকেRead More
শান্তিগঞ্জে ৮ বছর ধরে অকেজো কোটি টাকার সোলার প্যানেল, রক্ষণাবেক্ষণ নিয়েও প্রশ্ন
সুনামগঞ্জ সংবাদদাতা: বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের জন্য শান্তিগঞ্জ উপজেলার প্রশাসনিক ভবনের ছাদে বসানো এক কোটি ৪৭ লাখRead More



Comments are Closed