Main Menu

সিসিক’র মসজিদ দখলে মরিয়া ভূমিখেকো চক্র

বিশেষ প্রতিনিধি: সিলেটে আওয়ামী লীগ নেতা পরিচয়ে মসজিদ দখলে মরিয়া একটি ভূমিখেকো চক্র। তারা সিটি কর্পোরেশনের নির্মিত মসজিদ ও এর ভিটভূমি আত্মসাতে আদালতে ‘মিথ্যা’ মামলা দায়ের করেছে। ভূয়া ও জাল দলিল সৃষ্টির মাধ্যমে এ মামলা করায় এলাকার ধর্মপ্রাণ মুসল্লিদের মধ্যে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
জানা গেছে, নগরীর ধোপাদিঘীর পূর্বপারে এলাকাবাসীর নামাজের সুবিধার্থে সরকারী দখলীয় ভূমির উপর ১ কোটি ৩০ লাখ টাকা ব্যয়ে একটি মসজিদ নির্মান করে সিলেট সিটি কর্পোরেশন। মসজিদটি উদ্বোধন করেন সিলেটের দায়িত্বপ্রাপ্ত অর্থমন্ত্রী আবুল মার আব্দুল মুহিত। এলাকাবাসী দীর্ঘদিন ধরে ওই মসজিদে নামাজ আদায়ের পাশপাশি মসজিদটি পরিচালনা করে আসছেন।
স¤প্রতি সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগ নেতা পরিচয়দানকারী জনৈক জামাল উদ্দিন চৌধুরী ও তার সহযোগী মো. মানিক মিয়া মসজিদের ভূমি নিজ স্বত্ব¡দখলীয় দাবি করে আদালতে একটি মামলা করেন। যা’ অর্পিত সম্পত্তি প্রত্যর্পন ট্রাইব্যুনাল সিলেট-এর মামলা নং-২৮৫/১২।
সিলেট জেলা প্রশাসন ও সিটি কর্পোরেশন সূত্র জানায়, নগরীর ৯১নং মিউনিপ্যালিটি মৌজার এস.এ রেকর্ডীয় ১৭০৬ খতিয়ানের ৭৫৩২ দাগের সোয়া ৭ শতক ভূমির মালিকগন ১৯৬৫ সালে পাক-ভারত যুদ্ধকালে দেশ ত্যাগ করে ভারতে চলে যান। পরে ওই ভূমি শত্র“ সম্পত্তির তালিকাভুক্ত হয়ে সরকারের দখল ও নিয়ন্ত্রনে চলে আসে। বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর সরকার ওই ভূমি অর্পিত সম্পত্তির তালিকাভুক্ত করে বিভিন্ন নামে স্থায়ী বন্দোবস্ত প্রদান করে। দীর্ঘ তামাদি মুদ্দতে ওই ভূমি সরকারের নিয়ন্ত্রন ও দখলে থাকাবস্থায় এ থেকে ২০ শতক ভূমি রেডক্রিসেন্ট সোসাইটির নামে ও কিছু ভূীম সিলেট সিটি কর্পোরেশনের নিয়ন্ত্রনে দেয়া হলে ওই ভ’মিতে গড়ে ওঠে রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি ও তৎসংলগ্ন সিটি কর্পোরেশন নির্মিত জামে মসজিদ। এলাকাবাসীর দাবির প্রেক্ষিতে সিলেট সিটি কর্পোরেশন ১ কোটি ৩০ লাখ টাকা ব্যয়ে মসজিদটি নির্মান করে এবং সরকারের অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত মসজিদটি উদ্বোধনও করেন। মসজিদের ভূমি নিজ খরিদা ও দখলীয় স্বত্ত¡ দাবি করে কথিত আওয়ামী লীগ নেতা জামাল উদ্দিন ও মানিক মিয়া আদালতে একটি মামলা টুকে দেন। কোন হিন্দু পরিবার মামলা না করলেও জামাল ও মানিক নিজেই অর্পিত সম্পত্তির দাবিদার হয়ে মামলাটি দায়ের করেন।
সরেজমিনে মামলার নালিশা ভুমি সিলেট সিটি কর্পোরেশন নির্মিত মসজিদ হওয়ায় এলাকার জনমনে তীব্র ও ক্ষোব্ধ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে।
সিলেট জেলা প্রশাসন সূত্রের দাবি, জামাল উদ্দিন চৌধুরী ও মানিক মিয়া ওই ভূমিতে তাদের কোন প্রকার স্বত্ব ও দখল না থাকলেও মিথ্যাভাবে নিজ দখলীয় ভূমি দাবি করে জাল জালিয়াতির আশ্রয়ে মামলাটি দায়ের করেছেন।
সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এনামূল হাবীব ও চীফ ইঞ্জিনিয়ার নূর আজিজুর রহমান সিটি কর্পোরেশন কর্তৃক মসজিদ নির্মানের সত্যতা স্বীকার করে জানান, সরকার নিয়ন্ত্রিত প্রায় তিন একর ভূমি অধিগ্রহণ করে ১কোটি ৩০লাখ টাকা ব্যয়ে মসজিদটি নির্মান করা হয়। পাশপাশি আরো কয়েক প্রতিষ্টান এ ভূমিতে করা হয়েছে। এ ভূমি কোন ব্যক্তির মালিকানা ও স্বত্ত¡দখলীয় ছিল না বলে তারা জানিয়েছেন।

Share





Related News

Comments are Closed