Main Menu

পুকুরে বিষ ঢেলে লাখ টাকার মাছ নিধন!

তাহিরপুর (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি: পাওনা টাকা না দেয়ায় সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলায় মামাত ভাইয়ের লীজ নেয়া পুকুরে বিষ ঢেলে প্রায় লাখ টাকার মাছ নিধন করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে ফুফাত ভাইয়ের বিরুদ্ধে। উপজেলার বড়দল উত্তর ইউনিয়নের ব্রাম্মণগাঁও গ্রামে বুধবার মধ্যরাতে এ মাছ নিধনের ঘটনা ঘটে।
জানা গেছে, উপজেলার ব্রাম্মণগাঁও’র জনতাবাজার সংলগ্ন কেরামত আলীর ছেলে রুকন উদ্দিনের নিকট থেকে ১৫ অক্টোবর একই গ্রামের লাল মিয়ার ছেলে মামাত ভাই জিলু মিয়া পুকুরে থাকা পোণা মাছ সহ ১ বছরের জন্য ১ লাখ ৭৫ হাজার টাকায় ৪টি পুকুর পক্তন (লীজ) নেন। পক্তন নেয়ার পর পুকুর গুলোতে প্রায় এক লাখ টাকার পোণা মাছ ও ৫০ হাজার টাকার অটোর কুড়া ও হিট ছাড়া হয়। চুক্তিনামার পর জিলু ১ লাখ ৩২ হাজার টাকা পরিশোধ করেন। বকেয়া ৪৩ হাজার টাকা পৌষ মাসের শেষের দিকে পরিশোধের কথা থাকলেও রুকন টাকার জন্য ঘন ঘন চাঁপ দিতে থাকেন। এ নিয়ে জিলু ও রুকনের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হলে কিছু দিন পুর্বে একই গ্রামের অন্য একটি পুকুরে মাছ সরিয়ে নিতে গেলে রুকন বাঁধা দেন ও উভয়ের মধ্যে বাক-বিতন্ডা হয়।
এদিকে বুধবার মধ্যরাতের পর কোন এক সময় দুর্বৃক্তরা ২টি পুকুরে বিষ ঢেলে রুই, শের পুটি, মৃগী, কাতলা, সিলবার কাপ সহ প্রায় ১৪ মণ মাছ নিধন করে ফেলে। রাতে পুকুর পাহারা দিতে এসে জিলু প্রতিবেশীদের ডেকে নিয়ে পুকুরে ভাসমান মরা মাছ গুলোকে দেখান।
গ্রামের মুরুব্বী গেদু মিয়া, লিয়াতক মিয়া, হাফিজুর রহমান সহ একাধিক ব্যক্তি ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, পুকুরে বিষ ঢেলে ব্যক্তির ওপর ক্রোধ মেটাতে গিয়ে মাছ মারার ঘটনাটি খুবই দুঃখজনক ঘটনা।
পুকুরের লীজ গ্রহিতা জিলু মিয়া বলেন, আমি প্রতিরাতের ন্যায় বুধবার রাত ৮টার দিকে খাবার ও বিশ্রামের জন্য বাড়িতে চলে যাই। রাত সাড়ে ১২ টায় পুকুর পাহারা দিতে ফিরে এসে দেখি দু’টি পুকুরের মাছ মরে ভেসে উঠছে এবং প্রতিবেশীদের ঢেকে আনলে তারা মৃত মাছ তুলে আনলে তাতে বিষের গন্ধ পান।’ তিনি আরো বলেন আমার স্ত্রীর শিক্ষকতার বেতন, ভাড়ায় চালিত মোটর সাইকেল বিক্রি, ৩ লাখ টাকার বীজতলা বিক্রি করে স্বচ্ছল হওয়ার আশায় পুকুরে মাছ চাষ করেছিলাম। কিন্তু রুকন গংরা পুকুরে বিষ ঢেলে পুকুরের মাছ নিধন করার মধ্য দিয়ে তার মনে যে বিষ ছিল তারই প্রমাণ দিয়েছে।’ জিলুর সন্দেহ রুকন পুকুর থেকে জিলুকে তাড়িয়ে দিয়ে নতুন করে অন্য ব্যক্তির নিকট লীজ দেয়ার জন্য ও পাওনা টাকা পরিশোধের সময় আসার পুর্বেই পুকুরে রাতের আঁধারে বিষ ঢেলে দিয়েছে।
অভিযোগ প্রসঙ্গে রুকন উদ্দিনের নিকট জানতে চাইলে বৃহস্পতিরবার তার বিরুদ্ধে জিলুর আনা অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, পুকুরের লীজ দেয়ার বকেয়া টাকা জানুয়ারী মাসের প্রথম সপ্তাহে পরিশোধের কথা ছিল, জিলুর ছোট ভাই জুয়েলের সাথে এর আগে অংশীদার হিসাবে মাছ চাষ করেছিলাম তখনকার পাওনা ১৫ হাজার টাকা জিলুর মাধ্যমে ফেরত দেয়ার কথা থাকলেও টাকা নিয়ে গড়িমসি করছে। তিনি আরো বলেন, পুকুরে আমি বিষ ঢালিনি, রাতেই দেখেছি মরে মাছ ভেসে উঠছে, হয়ত পানি দূষণের কারনে মাছগুলো মারা যেতে পারে।’

Share





Related News

Comments are Closed