একটি অসহায় পরিবারের ফুরিয়ে যাওয়ার গল্প..
বিশেষ সংবাদদাতা: আবুল লেইছ। কাজ করতেন কাঠমিস্তি হিসেবে। নিতান্ত অভাবী এই দিনমজুরের দিন কাটতো একরকম অনাহারে-অর্ধাহারে। সিলেটের মোল্লারগাঁও ইউনিয়নের কামালবাজারে একটি কুঁড়েঘরে থাকতো স্বজনদের নিয়ে। অভাবকে সংগী করেই বছর চারেক আগে বিয়ে করেন তয়িবা বেগমকে। এরপর তাদের ঘর আলো করে আসে একে একে দুটি সন্তান। স্বপ্ন ছিলো নিজে খেয়ে না খেয়ে সন্তানদের মানুষ করবেন। শিক্ষিত হিসেবে গড়ে তুলবেন, মেটাবেন অভাবের যন্ত্রনা।
কিন্তু সব স্বপ্ন ভেংগে দিয়ে আবুল লেইছের জীবনে নেমে এলো গভীর অন্ধকার। মাস কয়েক আগে কিডনীজনিত কঠিন রোগে আক্রান্ত হয়ে শরণাপন্ন হলেন ডাক্তারের। ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে বেশ কিছুদিন পর ধরা পড়লো কঠিন রোগ। কিডনীতে পাথর জমে গেছে অনেকগুলো। চিকিৎসক জানালেন, এখানে আর সম্ভব নয়। রোগীকে বাঁচাতে হলে, উন্নত চিকিৎসার জন্য পাঠাতে হবে ঢাকায়।
কিন্তু অসহায় পরিবারটির সেই সাধ্য কোথায়? পরিবারেতো রোজগার করার মতো কেউ নেই। একমাত্র উপার্জনক্ষম আবুল লেইছ অসুস্থ হওয়ায় পরিবারের স্ত্রী সন্তানের খাবার যোগান দেয়ার কেউ নেই। উপায়ান্তর না দেখে ৩ বছর ও চার মাস বয়সী অবুঝ শিশুদের নিয়ে ছুটে চলেন এবাড়ি -ওবাড়ি। একটু সহযোগিতার জন্য। কিন্তু তাতে কিছুই হয়না। দিন শেষে খাবারই জোটে না তাদের।
চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, চিকিৎসা অনেক ব্যয়বহুল, প্রয়োজন অন্তত লক্ষ টাকা। কিন্তু এই পরিমান টাকা যে স্ত্রী তৈয়বার জন্য দু:স্বপ্নের মতো। তবু, এদি ওদিক ছুটে চলেন তিনি একটু সাহায্যের আশায়। কিন্তু কিছুই যে জোটেনা।
তৈয়িবা জানান, আবুল লেইছের এক ভাই নাইম দুরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে একবছর আগে। ছোট ভাই রোমানও দুরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রন্ত অনেক দিন ধরে। আরেক ভাই মিজান প্রতিবন্ধি। রোজগারের সামর্থ্য নেই। এতো কিছুর পরও অসুস্থ স্বামীর পরিবার ছেড়ে যাননি তয়িবা। পাহাড়সম কষ্ট নিয়ে লড়ে যাচ্ছেন দু:সহ যন্ত্রনার বিরুদ্ধে। এসব যন্ত্রনার ভারে নিজেও অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। তবু ছুটে চলেছেন মানুষের দ্বারে দ্বারে অবুঝ দুটি শিশু আর স্বামীর কথা ভেবে।
অসহায় তয়িবা হাত পেতে দিয়েছেন সমাজের সামর্থ্যবানদের দিকে। চেয়েছেন একটু সহযোগিতা। তার বিশ্বাস, এত অসুস্থতা আর অভাব অনটনের মাঝেও মানুষের সহযোগিতা পেলে ঘুরে দাঁড়াতে পারবেন তিনি। অন্তত: অন্য ভাইটির মতো বিনা চিকিৎসায় মরতে হবেনা তার স্বামীকে।
তয়িবার কষ্ট স্পর্শ করে অনেককেই। আর, সবসময় মানুষের পাশে দাড়িয়েছে মানুষই। সকলের ছোট্ট ছোট্ট সহযোগিতা মিলে হয়তো অনেক বড় হয়ে উঠবে। একটি ধ্বংসের মুখে থাকা পরিবারকে যোগাবে একটু সাহস।
অসহায় এই পরিবারের পাশে দাঁড়াতে চাইলে, অর্থ বিকাশের মাধ্যমে পাঠাতে পারেন। আবুল লেইছের স্ত্রী তয়িবার বিকাশ নাম্বার ০১৭৩৪ ৮৮ ৪৫ ৮৩ (ব্যক্তিগত)।
Related News
যুক্তরাষ্ট্রে বিদেশি দক্ষ কর্মীদের ওয়ার্ক পারমিটে বড় পরিবর্তন
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্রে দক্ষ বিদেশি কর্মীদের চাকরি হারানোর পর নতুন কর্মসংস্থান খোঁজা কিংবা দেশটিতেRead More
ডেনমার্কে কাজের সুযোগ বাড়ছে
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: বিদেশের মাটিতে ক্যারিয়ার গড়তে ইচ্ছুক দক্ষ পেশাদারদের জন্য দারুণ সুখবর দিচ্ছে ডেনমার্ক।Read More



Comments are Closed