জামালগঞ্জে ছাত্রী উত্যক্তকারী শিক্ষকের ৬ মাসের কারাদন্ড
হাবিব সরোয়ার আজাদ, আকবর হোসেন,হাবিবুর রহমান, জামালগঞ্জ থেকে ফিরে : সুনামগঞ্জে জামালগঞ্জে ছাত্রীকে উত্যক্তের অভিযোগে এক শিক্ষককে ছয় মাসের কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। মঙ্গলবার দুপুরে তাকে এই কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
দণ্ডপ্রাপ্ত মোস্তফা রকিব ভূঁইয়া (২৭) উপজেলার আলহাজ ঝুনু মিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও পার্শ্ববর্তী ধর্মপাশা উপজেলার জয়শ্রী ইউনিয়নের মহেষপুর গ্রামের রিয়াজ আহমদের ছেলে। তার বিরুদ্ধে ঐ বিদ্যালয়েরই এক ছাত্রীকে উত্যক্ত করার অভিযোগ রয়েছে।
ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা যায়, বিদ্যালয়ের এক ছাত্রীকে প্রায়ই উত্যক্ত করতেন শিক্ষক মোস্তফা রকিব ভূঁইয়া। উত্যক্তের শিকার ঐ ছাত্রীটি সোমবার এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তসলিমা আহমদ পলির কাছে ।
অভিযোগের ভিত্তিতে মঙ্গলবার দুপুরে জামালগঞ্জ থানার পুলিশ ওই বিদ্যালয়ে গিয়ে সুনামগঞ্জের ধরমপাশা উপজেলার মহেষপুর গ্রামের বাসিন্দা মোস্তফা রকিব ভূঁইয়াকে আটক করে। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের সামনে রকিব নিজের দোষ স্বীকার করলে বিচারক তসলিমা আহমদ পলি তাকে ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, সহকারি শিক্ষক মোস্তফা এতিম ওই মেধাবী ছাত্রীকে দীর্ঘদিন ধরেই যৌন হয়রানি করে আসছিলেন। লেখাপড়া বন্ধ হয়ে যাওয়ার আংশকায় শিক্ষকের বিরুদ্ধে মুখ খোলেনি সে। কিন্তু ওই শিক্ষকের কু-নজরের মাত্রা প্রতিনিয়ত বৃদ্ধি পেতে থাকে। একপর্যায়ে এসএসসির প্রস্তুতিমূলক পরীক্ষায় অংশ নেয়া ওই ছাত্রী আপক্তিকর প্রস্তাবে সাড়া না দেয়ায় ইংরেজি পরীক্ষা চলাকালীন অহেতুক ওই শিক্ষক তার খাতায় ক্রস চিহ্ন এঁকে দেন। বিষয়টি বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতাকে অবহিত করা হলে তিনি গত শুক্রবার বিকালে স্কুল মাঠে এ নিয়ে সালিশ বৈঠকে বসেন। এ সময় স্কুলের শিক্ষার্থী, শিক্ষক এবং খোদ উপজেলা চেয়ারম্যানের সামনে অভিযুক্ত স্কুল শিক্ষক ও চেয়ারম্যানের লোকজন ছাত্রীর চাচা আশরাফ হোসেন রুপনকে বেধড়ক পিটিয়ে আহত করে। সোমবার সন্ধ্যায় মুঠোফোনে ওই ছাত্রী এই প্রতিবেদককে বলেন, ‘আমি রোববার স্কুলে ইসলাম শিক্ষা পরীক্ষা দিতে গেলে কিছুক্ষণ পরই মোস্তফা স্যার আমাকে কোনো কারণ ছাড়াই খাতা কেড়ে নিয়ে হল থেকে বের করে দেন। তাই ভয়ে সোমবার আর স্কুলে যাইনি।’
এদিকে যৌন হয়রানীর অভিযোগ উঠার পর মোস্তফা রকিব ভুঁইয়ার নিকট সোমবার রাতে মুঠোফোনে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি ছাত্রীর ইংরেজী খাতায় ক্রস চিহ্ন দেইনি, রবিবার আমি পরীক্ষার হলে ডিউটিতেই ছিলাম না।’ কিন্তু মঙ্গলবার ভ্রাম্যমাণ আদালতে নিজেই নিজের দায় স্বীকার করে নেন।’
প্রধান শিক্ষক জাকির হোসেন সোমবার রাতে এ প্রতিনিধির সাথে মুঠোফোনে আলাপকালে বলেন, ওই স্কুল ছাত্রীর ইংরেজী পরীক্ষা চলাকালীন সময়ে খাতায় সহকারি শিক্ষক ক্রস চিহ্ন দিয়েছিলেন, আমি তা জানতে পেরে আবার খাতায় রাইট (সঠিক) চিহ্ন দিয়েছি। তিনি যৌন হয়রানীর বিয়য়টি জানতেন না বলেও দাবি করেছিলেন।
উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান শামসুল আলম তালুকদার ওরফে ঝুনু মিয়ার নিকটও সোমবার রাতে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, বৃহস্পতিবার রাতে কয়েকজন ছাত্র কিরিচ ধরে ওই শিক্ষকের নিকট থেকে প্রশ্নপত্র নিতে চেয়েছিলো, বাঁধা দেয়ায় তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করা হয়েছে। তিনি আরো বলেন, ছাত্রীর অভিযোগ পেয়ে আমি কয়েক গ্রামের লোকজনকে ডেকে সালিসে বসি, বিষয়টি মিথ্যা প্রমাণিত হওয়ায় উক্তেজিত লোকজন রুপনকে কিছুটা মারধর করে।’
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এলাকার লোকজন জানান, শুরু থেকেই ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানীর অভিযোগ উঠলেও উপজেলা চেয়ারম্যান উল্টো অভিযুক্ত শিক্ষকের প্রশংসায় পঞ্চমুখ থেকে বিষয়টি ধামাচাঁপা দিতে মরিয়া হয়ে উঠেছিলেন।
ভ্রাম্যমান আদালত চলাকালেও উপজেলা চেয়ারম্যান তদবীর করে ওই শিক্ষককে ছাড়িয়ে নিতে ব্যর্থ হলে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেকে আদালতে উপস্থিত থাকা থানা পুলিশের সামনেই এ রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করবেন বলে তিনি বের হয়ে যান।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট তসলিমা আহমদ পলি মঙ্গলবার বলেন, ওই স্কুল ছাত্রী কর্তৃক শিক্ষকের বিরুদ্ধে আনা যৌন হয়রানীর অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তাকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ৬ মাসের কারাদন্ড প্রদান করা হয়েছে। জামালগঞ্জ থানার ওসি আতিকুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, ওই শিক্ষককে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
Related News
ছাতকে সুরমা নদীতে টোল আদায় করতে না পেরে বিপাকে ইজারাদার
সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি: সুনামগঞ্জের ছাতকে সুরমা নদীতে পৌরসভার ইজারা নেওয়া টোল আদায় করতে না পেরে বিপুলRead More
সুনামগঞ্জের হাওরে বোরোর মনগড়া লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে ক্ষোভ
সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি: এক ফসলি বোরো ফসলের দেশ হাওর জনপদ সুনামগঞ্জ। বৈশাখে বিস্তীর্ণ হাওরে বছরের একমাত্রRead More



Comments are Closed