Main Menu

তাহিরপুরে চাঁদাবাজদের হামলায় ১০ শ্রমিক আহত

তাহিরপুর (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি: সুনামগঞ্জের তাহিরপুরের সীমান্তনদী জাদুকাঁটায় চাঁদা না দেয়ায় আ’লীগ নেতা ও স্থানীয় ইউপি সদস্যের ভাই তার সহযোগীদের নিয়ে বালি-পাথর উক্তোলনরত শ্রমিকদের রামদা দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর আহত করেছে। ওই ইউপি সদস্যের উপস্থিতিতে শনিবার সকাল ৯টায় এলোপাতারী হামলার ঘটনায় কমপক্ষে ১০ শ্রমিক আহত হয়েছে। এদের মধ্যে গুরুতর আহত ৪ শ্রমিককে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও হামলার শিকার শ্রমিকরা জানান, উপজেলার বড়দল উওর ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য ও আ’লীগ নেতা নোয়াজ আলীর উপস্থিতিতে তার সহোদর ভাই তাজু, মঞ্জুর তাদের সহযোগীদের নিয়ে শনিবার সকালে জাদুকাঁটা নদীতে বালি-পাথর উক্তোলনরত একদল শ্রমিকের কাছে নদীর চরে নিজেদের মালিকানা দাবি করে এবং থানা পুলিশের নাম ভাঙ্গিয়ে চাঁদা দাবি করে। চাঁদা দিতে অস্বীকার করলে ইউপি সদস্যের ভাই ও তাদের সহযোগীরা শ্রমিকদের ওপর এলোপাতারী হামলা করে বেধড়ক ভাবে পিঠিয়ে ও রামদা দিয়ে কুপিয়ে রক্তাক্ত জখম করে। রামদার কুপে মাথা, হাত সহ শরীরের বিভিন্ন অংশে রক্তাক্ত জখম হয়েছেন উপজেলার মাহারাম গ্রামের শ্রমিক আনোয়ার হোসেন। এ সময় হামলার শিকার হন একই গ্রামের শ্রমিক সফর আলী, হাবি রহমান ও আজিজুল সহ কমপক্ষ্যে ১০ শ্রমিক। আহতদের মধ্যে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারনে শ্রমিক আনোয়ার সহ ৪ জনকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে বিগত কয়েক বছর ধরে মাহারাম ও জাদুকাঁটা নদীর চরে নিজেদের মালিকানা দাবি করে এমনকি থানা পুলিশের নাম ভাঙ্গিয়ে আ’লীগ নেতা ও ইউপি সদস্য নোয়াজ আলীর মদদে তার ভাই তাজু, মঞ্জুর আলী, তাদের সহযোগী রফিকুল সাদিকুল সহ ১৮ জনের একটি গ্রুপ উভয় নদীর তীর কেটে বালি পাথর বিক্রি ও নদীতে সেইভ, ড্রেজার, বোমা মেশিন বসিয়ে শ্রমিকদের নিকট থেকে প্রতিদিন এক থেকে দেড় লাখ টাকা চাঁদা আদায় করে আসছিলো। সম্প্রতি উপজেলা প্রশাসন, থানা পুলিশ, জনপ্রতিনিধিরা নদীতে সবধরণের চাঁদাবাজি ও যান্ত্রিক ব্যবহারের মাধ্যমে বালি-পাথর উক্তোলন বন্ধ করে সাধারন শ্রমিকদের বেলচা ও বালতি দিয়ে হাতের দ্বারা বালি-পাথর উক্তোলনের নির্দেশ প্রদান করলেও ওই চক্র তাদের চাঁদাবাজি ও অপতৎপরতা বন্ধ না করে উল্টো আরো বেপরোয়া হয়ে উঠেছে।
উপজেলার ৪নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য নোয়াজ আলী ও তার ভাইদের বিরুদ্ধে আনা সব ধরণের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আনোয়ারের নদীতে কোন ধরণের সেইভ মেশিন নেই, সে নিজেই তার লোকজন নিয়ে নদীতে সেইভ মেশিন থেকে চাঁদাবাজি করতে এসেছিল এবং নিজেই নিজের মাথা ব্লেইড দিয়ে কেঁটে আমাদেরকে ফাঁসানোর চেষ্টা করছে, নদীতে কোন ঘটনাই ঘটেনি।
তাহিরপুর থানার ওসির দায়িত্বে থাকা এসআই নুরুল ইসলাম বলেন, খবর পেয়ে তাৎক্ষণিক ভাবে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়েছি, হামলা ও চাঁদাবাজির বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

Share





Related News

Comments are Closed