Main Menu

দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে লাশ হয়ে ফিরল বাহুবলের কাওসার

হবিগঞ্জ প্রতিনিধি: মানব পাচারকারীদের খপ্পরে পড়ে দক্ষিণ আফ্রিকায় গিয়ে নিহত বাহুবলের ছেলে কাওসার এলাহীর লাশ দেশে আসার পর সুরতহাল ও ময়না তদন্ত সম্পন্ন হয়েছে।
সুরতহালকারী স্থানীয় পুলিশ বলছে, লাশের শরীরে নির্যাতনের চিহ্ন রয়েছে। গত ৮ অক্টোবর পাচারকারীদের মাধ্যমে বাই রোডে দক্ষিণ আফ্রিকায় প্রবেশের পর তাকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। বৃহস্পতিবার রাত ১০টার দিকে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে স্বজনদের হাতে লাশ হস্তান্তর করা হয়।
শুক্রবার (১৪ অক্টোবর) দুপুর সোয়া ২টায় বাহুবল মডেল থানা পুলিশ নিহতের লাশের সুরতহাল সম্পন্ন করেন। বেলা আড়াইটায় উপজেলা সদরস্থ কাসিমুল উলুম মাদরাসা মাঠে কয়েক হাজার মুসল্লীর অংশগ্রহণে নিহতের নামাজে জানাযা শেষে ময়না তদন্তের জন্য লাশ হবিগঞ্জ মর্গে প্রেরণ করা হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বাহুবল উপজেলা সদরের হাসপাতাল এলাকার বাসিন্দা মরহুম মাওলানা আশিক এলাহীর পুত্র কাওসার এলাহী (২২) সম্প্রতি লন্ডন যাবার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়। এরপর সে মধ্যপ্রাচ্য সহ বিভিন্ন দেশে যাবার জন্য উদগ্রীব হয়ে উঠে। সম্প্রতি সে জালাল মিয়া নামে স্থানীয় এক দালালের মাধ্যমে দক্ষিণ আফ্রিকা যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। নিহত কাওসার ও উপজেলার ছোঁয়াপুর গ্রামের আব্দুর রউফ মেম্বারের পুত্র আশিকুর রহমান কাওসার সিলেট নগরীর জিন্দাবাজারস্থ তাজ ট্রাভেলস এন্ড ট্যুর নামক একটি ট্রাভেলস-এর মাধ্যমে জনপ্রতি ৬ লাখ টাকা কন্টাক্টে দক্ষিণ আফ্রিকা যাওয়ার বন্দোবস্ত করে। গত ৫ অক্টোবর ঢাকা থেকে বিমানযোগে বোম্বে ও বোম্বে থেকে ইথিওপিয়া এবং ইথিওপিয়া থেকে মুজাম্বিকে যাত্রা করে তারা। পাচার হওয়া দলটিতে বাহুবলের কাওসার এলাহী ও আশিকুর রহমান কাওসার সহ মোট ১২ জন ছিলেন। দালালরা ১২ সদস্যের দলটিকে মুজাম্বিক থেকে বাই রোডে পাচার করে দক্ষিণ আফ্রিকায়। গত ৮ অক্টোবর তারা দক্ষিণ আফ্রিকায় পৌঁছে। ৯ অক্টোবর দালালদের মাধ্যমে খবর আসে কাওসার এলাহী অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি আছে। ওইদিন রাতে দালালরা স্বীকার করে কাওসার এলাহী দক্ষিণ আফ্রিকায় মারা গেছে। ধারণা করা হচ্ছে, পাচারের পর সীমান্ত এলাকায় তাকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়।
নিহতের চাচা হাবিবুর রহমান (মকছুদ) মোবাইল ফোনে এ প্রতিবেদককে জানান, দালালরা আমাদের জানিয়েছে কাওসার এলাহী দক্ষিণ আফ্রিকা প্রবেশের সময় হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে মৃত্যুবরণ করেছে। পরে আমরা বহু চেষ্টা-তদবির করে দক্ষিণ আফ্রিকাস্থ স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা ‘সাবেরিক সিশতি সোসাইটি’ এর মাধ্যমে লাশ দেশে আনার ব্যবস্থা করি। ১৩ অক্টোবর বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে আটটার দিকে ‘ইত্তেহাদ এয়ার লাইন্স’-এর একটি বিমানে তার লাশ ঢাকাস্থ হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরে পৌঁছে। শেষ রাতে আমরা লাশ নিয়ে বাহুবল পৌঁছি। শুক্রবার দুপুরে লাশ শেষ বারের মতো দেখার জন্য কফিন খোলার পর দেখতে পাই তার মুখমন্ডলে বেশ ক’টি আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। পরে শরীরের অন্যান্য অংশে আরো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। পরে এ ব্যাপারে বাহুবল মডেল থানা পুলিশের সাথে যোগাযোগ করা হলে পুলিশ নিহতের সুরতহাল সম্পন্ন করে।
এদিকে, শুক্রবার নিহতের বাসায় গিয়ে দেখে গেছে, নিহতের স্বজনরা শোকে আচ্ছন্ন হয়ে পড়েছেন । তাদের আর্তনাদে এলাকার আকাশ-বাতাস ভারী হয়ে উঠেছে। নিহতের মা মাহমুদা আখঞ্জী কান্না জড়িত কণ্ঠে বলেন, আমার একমাত্র পুত্র হত্যার পেছনে যারা জড়িত আমি তাদের ফাঁসি চাই।
নিহতের জানাযার পূর্বে মুসল্লীদের উদ্দেশ্যে বক্তারা বলেন, কাওসার এলাহীকে দক্ষিণ আফ্রিকায় পাচারের পর নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। আমরা এ ঘটনার সাথে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই। অন্যান্যের মাঝে এ সময় বক্তব্য রাখেন বাহুবল উপজেলা চেয়ারম্যান মোঃ আব্দুল হাই, নবীগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান আলমগীর চৌধুরী, বাহুবল মডেল থানার ওসি মনিরুজ্জামান, নিহতের চাচা হাবিবুর রহমান মকছুদ, মাওলানা আব্দুল বারী আনছারী, মাওলানা সাইফুল ইসলাম ও মাওলানা আব্দুন নূর প্রমুখ।
এ সময় বাহুবল মডেল থানার ওসি মনিরুজ্জামান জানান, লাশের সুরতহাল সম্পন্ন হয়েছে। এ সময় নিহতের শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। এতে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে-তাকে হত্যা করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের জন্য লাশ মর্গে পাঠানো হয়েছে।

Share





Related News

Comments are Closed