Main Menu

বৈকন্ঠপুর চা বাগানে ১৫ সপ্তাহ ধরে মজুরি বন্ধ

বৈশাখী নিউজ ডেস্ক : প্রায় ১৫ সপ্তাহ ধরে হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার বৈকন্ঠপুর চা বাগানের শ্রমিকদের মজুরি ও রেশন প্রদান বন্ধ করে দিয়েছে মালিকপক্ষ। দীর্ঘদিন ধরে মজুরি না পেয়ে মানবেতন জীবনযাপন করেছেন এই বাগানের শ্রমিকরা। শ্রমিকদের মধ্যে দেখা দিয়েছে তীব্র খাদ্য সঙ্কট।

বাগানের মালিকপক্ষের দাবি, অব্যাহত লোকসানের কারণে শ্রমিকদের মজুরী ও রেশন দিতে পারছে না তারা। এ জন্য সরকারের সহযোগীতা কামনা করেছেন তারা।

এদিকে, মজুরি ও রেশনের দাবিতে প্রায় তিন মাস ধরে আন্দোলন চালিয়ে আসছে শ্রমিকরা। তবে এখন পর্যন্ত এতে কোনো সুফল প্ওায়া যায়নি। রোববারও মিছিলসহকারে হবিগঞ্জ জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে গিয়ে জেলা প্রশাসককে স্মারকলিপি প্রদান করে শ্রমিকরা। এসময় মজুরি-রেশন প্রদানের দাবিতে তিনদিনের আল্টিমেটাম দেয় তারা। এই সময়ের মধ্যে দাবি আদায় না হলে মাধবপুরে ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক অবরোধের হুমকী দেয় শ্রমিকরা।

জানা যায়, গত শতাব্দির আশির দশকে হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার বৈকন্ঠপুর চা বাগান ইজারা নেন প্রদীপ কুমার মুখার্জি। এরপর থেকে তিনিই বাগানটি পরিচালনা করে আসছেন। বাগানে বর্তমানে ৪০০ স্থায়ী শ্রমিকসহ মোট ২৪শ’ শ্রমিক রয়েছেন।

মালিপক্ষের দাবি, গত কয়েক বছর থেকে বাগানটির উৎপাদন অব্যাহতভাবে কমতে থাকে। চলতি বছরের শুরু থেকে লাভের বদলে লোকসান গুণতে হয়। তবে উৎপাদন কমার বিষয়টি সঠিক নয় বলে দাবি শ্রমিকদের।

এ অবস্থায় গত মার্চ থেকে শ্রমিকদের বেতন ও রেশন বন্ধ করে দেয় মালিকপক্ষ। এতে চরম দূর্ভোগে পড়েন শ্রমিকরা। দীর্ঘ ১৫ সপ্তাহ ধরে বন্ধ রয়েছে মজুরি ও রেশন। এতে বাগানের শ্রমিক পরিবারগুলোতে দেখা দিয়েছে তীব্র খাদ্য সঙ্কট। খাদ্যাভাবে মানবেতর জীবন যাপন করছে বাগান শ্রমিক ও তাদের পরিবারের সদস্যরা। অনেকে অসুস্থ হয়ে পড়েছে বলেও দাবি করেছেন শ্রমিক নেতারা।

এদিকে বাগানে পাতা উত্তোলন অব্যাহত থাকলেও মার্চে মাস থেকে বন্ধ রয়েছে কারখানা। বিল বকেয়া থাকায় বিচ্ছিন্ন করে দেয়া হয়েছে বাগানের বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংযোগ।

বৈকন্ঠপুর চা বাগান শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মনিব কর্মকার বলেন, ১৫ সপ্তাহ ধরে শ্রমিকদের মজুরী ও রেশন বন্ধ রয়েছে। ফলে শ্রমিকরা অর্ধাহারে অনাহারে জীবন কাটাচ্ছে। তিনি বলেন, শ্রমিকরা যে মজুরী পায় তা দিয়ে তাদের দৈনন্দিন খরচই মিটে না। ফলে সঞ্চয় করার চিন্তাও তারা করতে পারে না। এতে করে এক সপ্তাহ মজুরী না পেলেই তাদের বিপাকে পড়হে হয়। এখানে টানা ১৫ সপ্তাহ ধরে মজুরি না পেয়ে শ্রমিক পরিবারগুলোতে খাদ্যসঙ্কট দেখা দিয়েছে। অনেকে না খেতে পেয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েছে।

তিনি বলেন, আমরা দীর্ঘদিন ধরে মজুরী ও রেশনের দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে আসছি। কিন্তু বাগান কর্তৃপক্ষ বা সরকার এতে কর্ণপাত করছে না। সরকারী তরফ থেকেও আমাদের তেমন সহযোগীতা করা হয়নি।

শ্রমিকদের স্বার্থে সরকার সহযোগীতা দিয়ে হলেও বাগানে উৎপাদন শুরুর দাবি জানান মানিক কর্মকার।

এ ব্যাপারে চা বাগানের ব্যবস্থাপক সুব্রত দত্ত চৌধুরী বলেন, বাগানটি অনেকদিন ধরেই লাভের মুখ খেছে না। লোকসান গুণতে হচ্ছে। অব্যাহত লোকসানের কারণে মালিকপক্ষ শ্রমিকদের মজুরী দিতে পারছে না মালিকপক্ষ। এই সঙ্কট থেকে উত্তোরণের চেষ্ঠা চলছে জানিয়ে তিনি সঙ্কট উত্তোরণে সরকারের সহযোগীতা কামনা করেন।

বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়ন, লস্করপুর ভ্যালির সাধারণ সম্পাদক নিপেন পাল বলেন, মজুরী না পেয়ে বৈকণ্টপুর চা বাগানের প্রায় তিন হাজার শ্রমিক মানবেতন জীবন যাপন করছে। প্রায় না খেয়ে দিন কাটাতে হচ্ছে তাদের।

তিনি বলেন, ১৭ আগস্ট বুধবারের মধ্যে এই বাগানের সমস্যার সমাধান না হলে ১৮ আগস্ট বৃহস্পতিবার থেকে লস্করপুর ভ্যালির ২৩টি বাগানে ধর্মঘট করবে শ্রমিকরা।

শ্রম অধিদপ্তরের উপ পরিচালক মো. মনিরুজ্জামান বলেন, বৈকন্ঠপুর বাগানের সঙ্কট সমাধানে আলাপ আলোচনা চলছে। শ্রমিকদের মজুরী প্রদানে মালিকপক্ষকেও আমরা চাপ প্রয়োগ করছি।

মাধবপুরের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাশেদুল ইসলাম বলেন, বাগানের শ্রমিকদের মধ্যে আমরা কিছু খাবার বিতরণ করেছি। এছাড়া মালিকপক্ষের সাথেও সমস্যা সমাধানে আলোচনা চলছে।

Share





Related News

Comments are Closed