Main Menu

লাগামহীন চাঁদাবাজিতে রাজশাহী ট্রাফিক বিভাগ

রাজশাহী থেকে হাবিব জুয়েল : রাজশাহী অঞ্চলের সড়কগুলোতে চলছে ফিটনেসবিহীন যানবাহন। এসব যানবাহন রাস্তায় চলাচল করছে দীর্ঘদিন ধরেই। এর ফলে একদিকে যেমন পরিবেশ দূষিত হচ্ছে, তেমনি অহরহ ঘটছে দুর্ঘটনা।

ঘটনা সূত্রে জানা যায়, মহানগরীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে যানবাহন থামিয়ে চাঁদাবাজি করতে নতুন কৌশল অবলম্বন করছে মেট্রোপলিটন পুলিশের ট্রাফিক সার্জেন্ট ও কনস্টেবলরা। শুধু দূরপাল্লার মালবাহী গাড়ি থেকে চাঁদা আদায় করতে ট্রাফিক পুলিশের নিয়োগ দেওয়া শতাধিক টেন্ডল (চাঁদাবাজ) দৈনিক মজুরির ভিত্তিতে দায়িত্ব পালন করছে।

একজন দালাল ট্রাফিক সার্জেন্টকে দিনভর চাঁদা আদায় করে দেন। ওই চাঁদাবাজদের দৈনিক ৫০০-৬০০ টাকা পরিশোধ করেন ট্রাফিক সার্জেন্টরা। ট্রাফিক পুলিশ কর্তৃক অলিখিত নিয়োগ পেয়ে এসব চাঁদাবাজ নগরীতে অনেকটা বেপরোয়া। নগরীর প্রতিটি মোড়ে মোড়ে পুলিশের হয়ে এদের দায়িত্ব পালন করতে দেখা যায়। কাজ চাঁদাবাজি হলেও ট্রাফিক পুলিশের কর্মকর্তারা এদের নাম দিয়েছে ‘টেন্ডল’। আগে ট্রাফিক সার্জেন্টদের উপস্থিতিতে কনস্টেবলদের চাঁদা আদায় করতে দেখা গেলেও সেই দায়িত্ব পালন করছে এখন ভাড়া করা টেন্ডলরা।

অভিযোগে আরো প্রকাশ, রাজশাহী ট্রাফিক পুলিশ পরিদর্শক নজরুল এর বিশেষ একটি দল রাজশাহী নগরীতে চাঁদাবাজির মহোৎসবে নেমেছে। এতে জড়িত রয়েছে মহানগর পুলিশের ট্রাফিক বিভাগের কতিপয় সদস্য। তারা বিভিন্ন মোড়ে মোড়ে যানবাহন থামিয়ে রেজিস্ট্রেশন, লাইসেন্স ও ইন্স্যুরেন্সের কাগজপত্র তল্লাশির নামে বেপরোয়া চাঁদাবাজি করছে। এতে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে মহানগরীর সড়কে চলাচলকারী অটোরিকশা, মোটরসাইকেল, কাভার্ড ভ্যান ও ট্রাকসহ বিভিন্ন যানবাহনের চালকরা। বিশেষ করে নগরীর প্রবেশপথ গুলোকে টার্গেট করে অবস্থান নিয়েছে তারা।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, মোটরসাইকেলের বা গাড়ির রেজিস্ট্রেশন ও লাইসেন্স থাকলেও নানা খোঁড়া অজুহাতে ২০০ থেকে ৮শ টাকা পর্যন্ত আদায় করছে পুলিশ। কেউ টাকা দিতে না চাইলে দেয়া হচ্ছে হয়রানিমূলক মামলা। তবে বিনা রসিদে জরিমানা আদায়ের দিকেই তারা বেশি তৎপর বলে জানা গেছে।

গাড়িচালকদের অভিযোগ, গাড়িতে বৈধ কাগজপত্র থাকা সত্ত্বেও সোনামসজিদ স্থলবন্দর থেকে ছেড়ে আসা বিভিন্ন গাড়ি থামিয়ে চালকদের কাছ থেকে ৫০০-৮০০ টাকা পর্যন্ত বিনা রসিদে চাঁদা আদায় করছে ট্রাফিক পুলিশ। নগরীর অটোরিকশা চালকরা জানান, প্রতিদিনই কোনো না কোনো পয়েন্টে ট্রাফিক পুলিশকে ১০-১৫ টাকা চাঁদা দিতে হচ্ছে।
তবে চাঁদাবাজির অভিযোগ অস্বীকার করে রাজশাহী মহানগর পুলিশের সহকারী কমিশনার (ট্রাফিক)ইবনে মিজান বলেন, এ ধরনের কোনো অভিযোগ এখনও পাইনি। সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

একটি সূত্র জানায়, পণ্য পরিবহনে চাঁদাবাজি করেন সারা দেশে এমন ১০৫ জন পুলিশ কর্মকর্তা ও সদস্যের নাম-পরিচয় পাওয়া গেছে। তাঁদের মধ্যে থানার ওসি, ট্রাফিক ইন্সপেক্টর, ট্রাফিক সার্জেন্ট, থানার সাব-ইন্সপেক্টর ও কনস্টেবল পর্যায়ের পুলিশ সদস্যরা রয়েছেন। সম্প্রতি একটি গোয়েন্দা সংস্থা এ-সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠিয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে সেটা গত সপ্তাহে অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।
তালিকায় প্রকাশিত রাজশাহীর বর্তমান ট্রাফিক ইন্সপেক্টর নজরুল, সাবেক ট্রাফিক ইন্সপেক্টর আবু রায়হান, এসআই আনোয়ার হোসেন, রফিক, মেহেদী হাসান, আব্দুর রহিম(ক্যাশিয়ার), জহুরুল ইসলাম, আবদুল হালিম, নূর আলম, গোপাল, এটিএসআই মোজাম্মেল হক, কনস্টেবল সুমন পারভেজ, টিএসআই তোহার (ক্যাশিয়ার) নাম রয়েছে।

Share





Related News

Comments are Closed