Main Menu

সারী ও বড়গাং বালুমহালে রয়েলটি আদায়ে প্রতিবন্ধকতা

Manual5 Ad Code

বিশেষ প্রতিনিধি : সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলার বৃহৎ দুই বালু মহাল সারী ও বড়গাং নদী। এই দুই মহালে সরকারী রয়েলটি আদায়ে নানাভাবে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা হচ্ছে। স্থানীয় সুবিধা ভোগী একটি মহল ও পরিবহন শ্রমিকরা এ প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
ফলে সারী ও বড়গাং বালু মহাল থেকে সরকার প্রতিদিন ২ থেকে ৩ লাখ টাকার রাজস্ব আয় থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। হাইকোর্টে দু‘টি রিট মামলা (নং-৪৯৮৬/২০১২ইং এবং ৯৯৭/২০১৪) থাকার কারনে কয়েক বছর ধরে সরকার এই দু‘টি কোয়ারী বা বালুমহাল ইজারা দিতে পারেনি।
হাইকোর্টের রিটে অন্তর্ভুক্ত অংশ বাদ দিয়ে সিলেটের জেলা প্রশাসক ১৪২৩ বাংলা সনের বৈশাখ থেকে ৩০ চৈত্র পর্যন্ত সারী ও বড়গাং বালু মহাল সরকারী ভাবে ১ কোটি ৮০ হাজার টাকা মূল্যে ইজারা প্রদান করেন। দুটি ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান এ দুটি বালু মহাল ইজারা গ্রহণ করে। সারী নদী বালু মহালটি মেসার্স জুয়েল এন্টার প্রাইজের নামে ৬৭ লক্ষ ৮ হাজার টাকা এবং বড়গাং নদী বালু মহাল মেসার্স হক ট্রেডার্সের নামে ৩৩ লক্ষ ৭২ হাজার টাকা ইজারা মূল্যের বিনিময়ে প্রদান করা হয়।
গত ২৪মে সিলেটের জেলা প্রশাসকের কার্যালয় (রাজস্ব শাখার) পৃথক দ‘ুটি স্মারক নং-১৫১৪ এবং ১৫১৫ মুলে সারী ও বড়গাং নদী বালু মহালের দখল ইজারাদাদের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
দখলদেহী পাওয়ার পর ইজারাদারগন কোয়ারী দ‘ুটিতে অতীতের মত সিলেট-তামাবিল মহাসড়কের সারীঘাট এলাকায় বাশঁকল বসিয়ে সরকারী রয়েলটি আদায় করতে শুরু করেন। এতে বাঁধা দেন সারী নদী বালু মহাল ও বড়গাং নদী বালু মহালের কিছু সুবিধাভোগী ব্যবসায়ী, বারকি শ্রমিক। ইজারাদারগন কয়েক দফা চেষ্টা করেও এই দু‘টি বালু মহালের সরকারী রয়েলটি আদায় করতে পারেনি। সুবিধা ভোগী মহলের বাঁধার মূখে বার বার ফিরে আসতে হচ্ছে তাদের। এতে করে সরকার ও ইজারাদারগণ আর্থিক ও ব্যবসায়িক ভাবে চরম ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছেন।
এর আগে গত ২০০৮ সালে এই দু‘টি বালু মহালের সরকারী রয়েলিটি উত্তোলন করতে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও পরিবহন শ্রমিকরা বিভিন্ন রকমের বাঁধা সৃষ্টি করার চেষ্টা করেন। ওই সময় সিলেটের তৎকালীন জেলা প্রশাসক ২০০৮ সালের ১২ অক্টোবর (রাজস্ব শাখার) স্মারক নং-২০৭৩ মুলে সিলেট-তামাবিল সড়কে বাশঁকল বসিয়ে সরকারী রয়েলিটি আদায়ের অনুমতি দিয়েছিলেন। ইজারাদারগণ জানিয়েছেন, রাস্তায় বাশঁকল বসিয়ে সরকারী রয়েলটি আদায়ের অনুমতির জন্য তারা ইতোমধ্যে জেলা প্রশাসক বরাবরে একটি লিখিত আবেদন করেছেন।
পরিবহন শ্রমিক নেতাদের দাবী নদীর উৎস মূখ থেকে সরকারী রয়েলটি আদায় করা হোক। রাস্তায় বাশঁকল বসিয়ে ট্রাক থেকে রয়েলটি আদায় করা যাবেনা। এ নিয়ে ট্রাক শ্রমিকরা স¤প্রতি রাস্তায় ব্যারিকেট দেয়ার চেষ্টা করে। অথচ এই ট্রাক শ্রমিকরা বিগত ৩/৪ বছর যাবত সিলেট-তামাবিল মহাসড়কের জৈন্তাপুর উপজেলার কাটাগাং এলাকায় দেশী-বিদেশী ট্রাক থেকে অবৈধ ভাবে ১/২শত টাকা চাদাঁ আদায় করছেন। এবিষয়ে ট্রাক শ্রমিকদের বক্তব্য জানার চেষ্টা করা হলে দায়িত্বশীল কোন নেতা বক্তব্য দিতে রাজি হননি। ট্রাক থেকে চাদাঁ আদায়ের পক্ষে প্রয়োজনীয় কোন কাগজপত্রও তারা দেখাতে পারেনি।
সরকারী রয়েলটি আদায়ে বাঁধা দেয়ার বিষয়ে সারীঘাট উত্তরপার বালু ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মো: নুর উদ্দিনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, আমরা ইজারাদারকে সরকারী রয়েলটি আদায়ে কখনও বাঁধা সৃষ্টি করছি না। তাদেরকে সহযোগিতা করার আশ্বাস দিয়েছি। আমরা বলেছি নৌকা শ্রমিকদের কাছ থেকে যেন সরকারী রয়েলটি আদায় করা হয়।
এদিকে সারী নদী ও বড়গাং বালু মহালের ইজারাদারগন অভিযোগ করেছেন, স্থানীয় প্রশাসন সরকারী রয়েলটি আদায় কাজে তেমন সহযোগিতা করছেনা। অথচ তারা ১ কোটি টাকা সরকারী রাজস্ব জমা দিয়ে কোয়ারী দুটি ইজারা নিয়েছেন। ইজারাদার জানান, এখানে সরকারী স্বার্থ জড়িত রয়েছে এবং তারা আশা করছেন স্থানীয় প্রশাসন সরকারী রয়েলটি আদায়ে তাদের সর্বাত্মক সহযোগিতা করবে।
এ ব্যাপারে জৈন্তাপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (দায়িত্বপ্রাপ্ত) সালাহউদ্দিন আহমেদ সাংবাদিকদের জানান, আমি মাত্র কয়েক দিন আগে এখানে এসে যোগদান করেছি। বিষয় সম্পর্কে পুরোপুরি অবগত নই। নতুন উপজেলা নির্বাহী অফিসার যোগদান করার পর তিনি বিষয়টি দেখবেন। তবে যেহেতু এখানে সরকারী স্বার্থ জড়িত রয়েছে, তাই প্রশাসন ইজারাদারকে সহযোগিতা করবে বলে জানান তিনি।

Share





Related News

Comments are Closed

Manual1 Ad Code
Manual6 Ad Code