Main Menu

তাহিরপুরে বিএনপির চেয়ারম্যান প্রার্থীসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে মামলা

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি: সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে বড়দল উত্তর ইউনিয়নে আওয়ামীলীগের চেয়ারম্যান প্রার্থী জামাল উদ্দিন (নৌকা) ও বিএনপির চেয়ারম্যান প্রার্থী আবুল কাশেম (ধানের শীষ) এর কর্মী সমর্থকদের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া ও উভয় প্রার্থীর অফিস ভাংচুরের ঘটনায় চার কর্মী আহত হয়েছে।
এদিকে এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে নির্বাচনী আচরণ বিধি লঙ্গণের অভিযোগ এনে বিএনপির প্রার্থী আবুল কাশেমকে ভ্রাম্যমান আদালত ১০ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন। পরদিন শুক্রবার নানা নাটকীয়তার পর আওয়ামীলীগ প্রার্থী জামাল উদ্দিন একই ঘটনায় বিএনপির প্রার্থী আবুল কাশেমকে মাঠ ছাড়া করে নিজের ভোটের পাল্লা ভারী করতে দলীয় প্রভাব খাটিয়ে চেয়ারম্যান প্রার্থী আবুল কাশেম সহ ১১ জনের বিরুদ্ধে থানায় দ্রত বিচার আইনে একটি মামলা দায়ের করিয়েছেন।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সুত্রে জানা যায়, আগামী ৪ জুন ৬ষ্ঠ ধাপে ভোট গ্রহনকে সামনে রেখে বৃহস্পতিবার বিকেলে উপজেলার বড়দল উত্তর ইউনিয়নের বিএনপি প্রার্থী আবুল কাশেমের পক্ষে উপজেলার সীমান্ত এলাকায় গণসংযোগ করতে গিয়েছিলেন তাহিরপুর উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব ও উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান কামরুল। উপজেলার চাঁনপুর বাজারে গণসংযোগ ও মিছিল কালে বাজারে থাকা আওয়ামীলীগ প্রার্থী জামাল উদ্দিনের নির্বাচনী অফিস থেকে চার পাঁচ জন উশৃঙ্খল যুবক নৌকা প্রতীকের শ্লোগান দিয়ে বিএনপির মিছিলের ভিতরে ডুকে পরে। পরে উভয় পক্ষের কর্মী সমর্থকদের শান্ত করে উপজেলা চেয়ারম্যান ও বিএনপির কর্মী সমর্থকদের নিয়ে অন্যত্র চলে যান। এ ঘটনার কিছুক্ষন পর ঘটনাস্থলে যান আওয়ামীলীগ প্রার্থী জামাল উদ্দিন।
পরবর্তীতে তাহিরপুর উপজেলার নির্বাচনী দায়িত্বপ্রাপ্ত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট প্রশান্ত কুমার বিশ্বাস, তাহিরপুর থানার ইন্সপেক্টর (তদন্ত ) মো. হানিফ সহ একদল পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলে সেখানে উপস্থিত আওয়ামীলীগ প্রার্থী জামাল উদ্দিনের কর্মী সমর্থকরা ম্যাজিস্ট্রেটকে জানান, উপজেলা চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে ও বিএনপি প্রার্থীর কর্মী সমর্থকরা মিছিল সহকারে আওয়ামীলীগ প্রার্থীর অফিসে ডুকে অফিসের আসবাবপত্র ভাংচুর ও তাঁদের কয়েকজন কর্মী সমর্থকদের মারধর করে আহত করেন।
এ সময় অন্যত্র গণসংযোগে থাকা বিএনপি প্রার্থী আবুল কাশেম বিএনপির কর্মী সমর্থকদের সঙ্গে আওয়ামীলীগ প্রার্থী জামাল উদ্দিনের কর্মী সমর্থকদের সংঘর্ষের বিষয়টি মোবাইল ফোনে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট প্রশান্ত কুমার বিশ্বাসকে জানালে তিনি তাকে টেকেরঘাট বিসিআইসির রেস্ট হাউজে আসার জন্য বলেন। তাৎক্ষনিক বিএনপি প্রার্থী টেকেরঘাট রেস্ট হাউসে গেলে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তাকে সেখানে বসিয়ে রেখে পুলিশ সহ ফের ঘটনাস্থলে আসেন। ঘটনাস্থলে উপস্থিত আওয়ামীলীগ প্রার্থীর কর্মী সমর্থকদের জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তিনি প্রার্থী সহ স্বাক্ষীদের রেস্ট হাউসে আসার কথা বলেন।
এঘটনায় স্থানীয় চাঁনপুর এলাকার নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন সাবেক ইউপি সদস্য, বাজারের ব্যাবসায়ী ও স্থানীয় এলাকাবাসী এ প্রতিবেদককে বলেছেন, উপজেলা চেয়ারম্যান আওয়ামীলীগ অফিসের নিকটে আসামাত্র পিছনে থাকা বিএনপির কর্মী সমর্থকরা ধানেরশীষ ধানের শীষ বলে শ্লোগান দিচ্ছিল, তখন আওয়ামীলীগের কয়েকজন কর্মী সমর্থক মিলে নৌকা নৌকা শ্লোগান দিয়ে বিএনপির মিছিলের দিকে এগিয়ে গেলে উভয় পক্ষের লোকজনের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া হয়।
সন্ধ্যার পর তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ ইকবাল হোসেন ও থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. শহীদুল্লাহ টেকেরঘাট রেস্ট হাউসে পৌছে দুই ঘন্টাব্যাপী আহত কর্মী সমর্থক ও প্রত্যাক্ষদর্শীদের জিজ্ঞাসাবাদ শেষে রাত সাড়ে নয়টার দিকে উপস্থিত লোকজন ও দুই প্রার্থীকে বলেন, এখানে কোন সিদ্ধান্ত হবেনা, ডিসি স্যার ও এসপি স্যারের সঙ্গে কথা বলে উপজেলায় গিয়ে সিদ্ধান্ত হবে। পরে রাত সাড়ে দশটার দিকে বিএনপি প্রার্থী আবুল কাশেমকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্য্যালয়ে ডেকে পাঠানো হয়। তিনি সেখানে গেলে মধ্যরাতে তাকে নির্বাচনী আচরণ বিধি লঙ্গনের দায়ে ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করার রায় প্রদান করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট।
এ বিষয়ে বিএনপি প্রার্থী আবুল কাশেম তার প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে বলেছেন, আওয়ামীলীগ প্রার্থী আমার অবস্থান ভাল দেখে তাঁর ভাই ও কর্মী সমর্থকরা মিলে পুর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী গণসংযোগ কালে অবৈধভাবে শুধুমাত্র দলীয় প্রভাব খাটিয়ে নিজেরাই নিজেদের অফিস ভাংচুর করে কর্মী সমর্থকদের মারপিঠ করে নাটক সাজিয়ে আমাকে ফাঁসানোর অপচেষ্টা করেছে, ভ্রাম্যমাণ আদালত যে রায় দিয়েছেন আমি আদালতের রায় মেনে নেয়ার পর যেখানে এ ঘটনার বিচার শেষ হয়ে গেছে, সেখানে পরদিন একই ঘটনায় আওয়ামীলীগ প্রার্থী জামাল উদ্দিন দলীয় প্রভাব খাটিয়ে আমাকে মাঠ ছাড়া করতে ও ভোটের দিন নির্বিঘ্নে কারচুপি করতে আমি ঘটনাস্থলে না থাকা সত্তেও আমাকে প্রধান আসামী করে থানায় বিএনপির কর্মী সমর্থক সহ ১১ জনের বিরুদ্ধে দ্রত বিচার আইনে একটি মিথ্যা ও হয়রানীমুলক মামলা দায়ের করিয়েছে।
এ বিষয়ে আওামীলীগ প্রার্থী জামাল উদ্দিন বলেন, উপজেলা চেয়ারম্যান ও বিএনপি প্রার্থীর কর্মী সমর্থকরা মিছিল সহকারে আমার নির্বাচনী অফিসে ডুকে আসবাবপত্র ভাংচুর ও আমার কর্মী সমর্থকদের মারধর করে আহত করেছে প্রশাসনের কাছে এঘটনার বিচার দাবী করেছি।
থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. শহীদুল্লাহর নিকট এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, জামাল উদ্দিনের ছোট ভাই জাকির হোসেন বাদী হয়ে শুক্রবার থানায় ১১ জনের বিরুদ্ধে দ্রত বিচার আইনে একটি মামলা দায়ের করেছে। একই ঘটনায় মধ্যরাতে ভ্রাম্যমান আদালতে বিচার নিষ্পক্তি হওয়ার পর ফের একই ঘটনায় থানায় দ্রত বিচার আইনে মামলা নেয়া প্রসঙ্গে জানতে চাইলে ওসি বলেন, ভ্রাম্যমান আদালত নির্বাচন আচরণ বিধি লঙ্গনের জন্য বিচার করেছেন আর অফিস ভাংচুরের ঘটনায় আমরা থানায় মামলা নিয়েছি।

Share





Related News

Comments are Closed